
আরিফ আহমেদ,
বরিশাল নগরীতে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে এসব যানবাহন এখন নগরীর যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণের কথা বলে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বসিক) অনুমোদিত ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়ন করলেও বাস্তবে সড়কে যানবাহনের চাপ কমছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর।
তবে বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান আগের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব নেওয়ার পর অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা এবং অনুমোদিত যানবাহনের লাইসেন্স নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু এসব কার্যক্রমের মধ্যেই অনুমোদন ও নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।
বেশ কয়েকজন ইজিবাইক চালকের অভিযোগ, অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো অনুমোদন না দেওয়ার কথা বলা হলেও এমন অভিযোগ সামনে আসায় লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বসিকের যানবাহন শাখার কর্মকর্তা মানিক হোসেন জানান, সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সময়ে নতুন করে ২ হাজার ৫০০ ইজিবাইকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এতে নগরীতে সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ইজিবাইকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬১০টি। বর্তমান প্রশাসন এসব পুরোনো অনুমোদনেরই লাইসেন্স নবায়ন করছে। নতুন করে কোনো ইজিবাইক বা সিএনজিচালিত যানবাহনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।
দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের ৯ জুন থেকে নবায়ন কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২০০টি ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন নবায়ন কর্মকর্তা। চালকদের একাংশের অভিযোগ, নির্ধারিত ফি অনলাইনে ৫৯০০ টাকা লেখা আছে। অথচ ৬৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে পরিবহন শাখা জানিয়েছে, বর্তমানে নবায়ন ফি ৬ হাজার ৫০০ টাকা। এটাই নেওয়া হচ্ছে।
চালকদের অভিযোগ ও সিটি করপোরেশনের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় নবায়ন ফি, আবেদন, রশিদ ও টোকেনের তথ্য প্রকাশ ও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ৪০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগেরও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে নগরীতে হুহু করে অটোরিকশার সংখ্যাও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার অটোরিকশা ও ইজিবাইক নগরীতে চলাচল করছে। অথচ সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ইজিবাইক মাত্র ৭ হাজার ৬১০টি। ফলে বিপুলসংখ্যক অননুমোদিত যানবাহন চলছে নগরীতে। যা নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরী বলে জানিয়েছেন নগর চিন্তাবিদরাও। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নগর চিন্তাবিদদের একজন কাজী মিজানুর রহমান বলেন, এই অটোরিকশাগুলোর সামনে ব্রেক। চালক নতুন। নেই কোনো প্রশিক্ষণ। সহজ উপার্জনের পথ হিসেবে শহরে এসেই অটোরিকশা নিয়ে নেমে যাচ্ছে। ফলে অসংখ্য দূর্ঘটনা ঘটছে। অনেকে হাত-পা ভেঙে পঙ্গুও হয়েছেন এদের কারণে।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে যত্রতত্র অটোরিকশা ও ইজিবাইক দাঁড়িয়ে থাকা এবং একই রুটে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল যানজট যেমন বাড়াচ্ছে, তেমনি দূর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে দাবী সনাক এর সাবেক সভাপতি শাহ সাজেদার। তিনি বলেন, এদের এখুনি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আরো বড়ো ঝুঁকিতে পরবে নগরী।
সরেজমিনে ৮ অক্টোবর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কাকলী মোড় ও অশ্বিনী কুমার টাউনহলের সামনে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে অসংখ্য অটোরিকশা নির্বিঘ্নে সদর রোড দিয়ে চলাচল করছে। অথচ এই সড়কে এদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্যাডেলচালিত রিকশার জন্য নির্ধারিত সদর রোডে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন বয়োবৃদ্ধ প্যাডেল রিকশাচালক। এ নিয়ে ইতিপূর্বে তারা মানববন্ধনও করেছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল ট্রাফিক পুলিশের এডিসি আনিসুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে সদর রোডের সঙ্গে সংযুক্ত অন্যান্য সড়কগুলো পুরোপুরি কাভার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কিছু অটোরিকশা সদর রোডে ঢুকছে। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হচ্ছে। তবে সিটি করপোরেশনের কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় সমস্যাও রয়েছে। তারপরও অটোরিকশা যাতে সদর রোডে প্রবেশ করতে না পারে, সে চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
যদিও নগরবাসীর দাবী শুধু সদর রোড নয়, বরিশালের সব সড়কে এদের নিয়ন্ত্রণ জরুরী প্রয়োজন।
এদিকে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নগরীতে চলাচলকারী কোনো অটোরিকশারই বসিকের অনুমোদন নেই। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ভ্যান ইজিবাইক সংগঠনগুলোর দাবি, বৈধভাবে চলাচলের সুযোগ ও লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। ফলে এ


























