
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
দুই দশকের বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির পর বুধবার ইরাক থেকে শেষ সেনাদেরও প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেনা প্রত্যাহারের মধ্যেও ইরাকের অর্থনীতিতে ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়ে গেছে।
ইরাকের তেল বিক্রি থেকে পাওয়া রাজস্বের অর্থ এখনো নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে রাখা ও পরিচালিত হচ্ছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর ‘ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক’ (ডিএফআই) গঠনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা চালু হয়।
ইরাকের সরকারি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল খাত থেকে আসে। ফলে তেল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার এই কাঠামো দেশটির অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য প্রভাব তৈরি করেছে।
ইরাকি কর্মকর্তাদের মতে, নিউইয়র্ক ফেডের মাধ্যমে অর্থ পরিচালনা করলে সরকারি অর্থের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আস্থা ও বৈদেশিক বাণিজ্যে ডলারের প্রবাহ বজায় রাখা সহজ হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ঋণ ও আইনি দাবির ঝুঁকি থেকেও অর্থ সুরক্ষিত থাকে।
তবে ডলার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন রয়েছে। ইরান-সংশ্লিষ্ট অর্থপাচারের অভিযোগের পর ইরাকের আর্থিক খাতের ওপর মার্কিন চাপও বেড়েছে। এর প্রভাবে ২০২৫ সালের শুরুতে ইরাক দীর্ঘদিনের ডলার নিলাম বা ‘ফরেন কারেন্সি উইন্ডো’ ব্যবস্থা বন্ধ করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা ইরাকের জন্য অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হলেও তেল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের আর্থিক সম্পর্ক এখনো বহাল রয়েছে।


























