
রাশেদ আহমেদ, মৌলভীবাজার,
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন। তাঁদের মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের বালিসহস্র গ্রামের বাসিন্দা। ব্যবসা ও সন্তানদের পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন।
২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় বর্ষিজোড়ার ওই বাড়িতে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও মা শামসুন নাহারকে গালাগাল ও মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
ঘটনা থামাতে নাঈম এগিয়ে গেলে তাঁকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার দুই দিন পর, ৯ নভেম্বর নিহত নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৬৮(১) ধারার বিধান অনুযায়ী তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রকৃত আসামিদের দণ্ডিত হওয়ায় বাদীপক্ষসহ সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও বাড়বে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও পরিবারের স্বজনরা। তাঁরা বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।” একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান তাঁরা।


























