
আরিফ আহমেদ,
প্রায় পাঁচ দশক ধরে বরিশালে ওষুধ উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে ঘিরে শ্রমিক-কর্মকর্তা ও
মালিক বিরোধ এখন নতুন জটিলতায় পড়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পর ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে মালিকপক্ষ ও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী পুনরায় উৎপাদন শুরুর উদ্যোগ নিলেও কারখানার প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শ্রমিকদের একটি অংশ। এরই মধ্যে আট শ্রমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও নোটিশকে কেন্দ্র করে মালিকপক্ষের কঠোর অবস্থান এবং ওই আটজনের মধ্যে সাতজনকে নির্দোষ দাবি করে শ্রমিকদের আপসের আহ্বানে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে প্রায় দেড় ঘণ্টা মালিক, শ্রমিক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে আলোচনা চলে। কিন্তু শেষপর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বৈঠকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএফএম আনোয়ারুল হক সাব্বির স্পষ্ট করে বলেন, শ্রমিক ভাড়া করে আনা সম্ভব হলেও কর্মকর্তা ছাড়া কোনো কোম্পানি চালানো সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, আট শ্রমিকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিদায় করে দিতে প্রতিষ্ঠান সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার কারণে যারা কাজ করতে আগ্রহী নন, তাদেরও হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি।
অন্যদিকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আটজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও বাকি সাতজন নির্দোষ। তাই সাতজনকে ক্ষমা করে অন্তত কাজের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
কিন্তু মালিকপক্ষের অবস্থান ছিল অনড়। এমডি সাব্বির বলেন, কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আটজনের একজনও যদি প্রতিষ্ঠানে থাকে, তাহলে তারা দায়িত্ব পালন করবেন না। ফলে তিনি শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের মাঝখানে এক ধরনের সংকটে পড়েছেন বলেও জানান।
এভাবেই দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয় মালিক, শ্রমিক, শ্রম দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়া তিনজন ফিরে যেয়ে তাদের সহকর্মীদের সাথে কথা বলার পর পুনরায় প্রবেশপথ আটকে দাবী আদায়ের শ্লোগান তুলতে দেখা যায়। সন্ধ্যার পর শ্রমিকদের অবস্থান চলছিল।
এর আগে সোমবার দুপুরে কারখানার প্রধান প্রবেশপথে দেখা যায়, ‘ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে শ্রমিক নেতা জসিমউদ্দীন এর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের শহীদুল আলম, এবং বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ কয়েকজন নারী শ্রমিক প্রতীকী অনশন পালন করছেন। শ্রমিকদের দাবি, তাদের ন্যায্য পাওনা, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্রসহ শ্রম আইন অনুযায়ী অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অভিযুক্ত আটজনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও তাদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবী করেন শ্রমিকরা।
আন্দোলনে থাকা শ্রমিক নেতা শহীদুল আলমের দাবি, প্রতিষ্ঠানে মোট ৭০ জন শ্রমিক রয়েছেন। তবে মালিকপক্ষের দাবি, তাদের মধ্যে ৫৩ জন ইতোমধ্যে কাজে যোগ দিয়েছেন।
শ্রমিকদের আন্দোলনের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। শ্রমিকদের একটি অংশের অভিযোগ, তাদের মাত্র এক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে এবং মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বেতন-ভাতার দাবির আড়ালে কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং একজন জুনিয়র কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগও তুলেছেন তারা।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর উৎপাদন বিভাগের এক শ্রমিককে কাজের নির্দেশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জুনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তাকে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগে বলা হয়, কাজের নির্দেশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক উগ্র আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফুলে নীল হয়ে যায়। অন্য কর্মচারীরা এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারত বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে অভিযুক্ত শ্রমিককে কারখানার ভেতরে নিয়ে আসে।
পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের ৩৫ জন কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে তারা কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
তাদের অভিযোগ, কোনো শ্রমিককে কাজের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলে একদল শ্রমিক একত্রিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এতে প্রতিষ্ঠানে চেইন অব কমান্ড কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দায়িত্ব পালনরত কোনো কর্মকর্তাকে আক্রমণের অভিযোগের পর কার্যকর ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শ্রমিকদের একটি অংশ কর্মবিরতি শুরু করে। অন্য শ্রমিকদের কাজে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, শ্রমিকদের একটি অংশের কর্মকাণ্ডে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একজন জুনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরবর্তী সময়ে কর্মবিরতি ও অন্যদের কাজে বাধা দেওয়ার পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে শ্রমিকদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করলেও অনেক শ্রমিকের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র নেই। বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। একজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট জুনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
আন্দোলনে থাকা ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত আন্দোলন নয়; শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায় হলে তিনি তাদের পাশে দাঁড়ান। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, নিয়োগ ও পরিচয়পত্রসহ শ্রম আইন অনুযায়ী অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তারা কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাক, এমনটা চান না। মালিক, শ্রমিক ও কলকারখানা অধিদপ্তরের যৌথ আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে সেটি হতে হবে ন্যায়সংগত।
সোমবার দুপুরের পর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক সাবেকুন নাহার, পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন এবং শ্রম কর্মকর্তা মফিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। তারা প্রথমে আন্দোলনরত শ্রমিক ও ডা. মনীষা চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে কারখানার ভেতরে গিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এরপর শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে একদল নারী শ্রমিক কর্মকর্তাদের ঘিরে ধরে বলেন, তারা কাজ করতে চান। এ সময় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হলে তারা কাজে ফিরতে প্রস্তুত।
শ্রম দপ্তরের পক্ষ থেকে মালিক ও শ্রমিক উভয়পক্ষের তিনজন করে প্রতিনিধিকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে, তাদের প্রতিনিধিদলের একজন হিসেবে ডা. মনীষা চক্রবর্তী অথবা সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল আলমকে রাখতে হবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের অবস্থান ছিল, শ্রমিক প্রতিনিধিদের অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শ্রমিক হতে হবে। এ নিয়েও আলোচনা কিছুসময় থেমে যায়। পরবর্তীতে জসিমউদদীন এর নেতৃত্বে শ্রমিকদের তিনজন আলোচনায় অংশ নেন এবং তারা এমডি এএফএম আনোয়ারুল হক সাব্বির ও উপস্থিত পুলিশ, শ্রম ও কলকারখানা দপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনে স্পষ্ট বলেন, ঐ সাতজনকে কাজের সুযোগ না দিলে তারা কেউই কাজে ফিরবে না। সেক্ষেত্রে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয় কি হবে?
মালিকপক্ষ তখন আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ করার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান।
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে শ্রমিকদের একটি অংশ ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। বন্ধ কারখানা চালু, বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানান ডা. মনীষা চক্রবর্তী।
এদিকে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে মালিকপক্ষ পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু প্রবেশপথে আন্দোলনরত শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। ফলে একদিকে উৎপাদন চালুর চেষ্টা, অন্যদিকে শ্রমিকদের অবস্থান- দুই পক্ষের টানাপোড়েনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএফএম আনোয়ারুল হক সাব্বির বলেন, ইন্দো-বাংলা বরিশালে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকসহ বহু পরিবারের জীবন-জীবিকা জড়িত। তিনি বলেন, শ্রমিকদের পাওনা আইন অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
মালিকপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বিভিন্ন সময় বেতন-মজুরির পাশাপাশি নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। খাবার, পোশাকসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে।
এসব অবদান স্বীকার করে সাধারণ শ্রমিকদের বক্তব্য, আমরা কাজ করতে চাই, তাই বলে আমাদের দাবী আদায় করতে এসে বিপদে পরা সহকর্মীদের হাত ছেড়ে দিয়ে নয়। দীর্ঘদিন কাজ করার পরও তাদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র না থাকা এবং বেতন-ভাতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়া শ্রম আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এই বিরোধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বরিশালের সীমিত শিল্প ও কর্মসংস্থান খাতে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে পরিচালিত একটি পুরোনো ওষুধ কারখানা যদি কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়, তাহলে শুধু বর্তমান শ্রমিক-কর্মকর্তারাই নন, পরিবহন, প্যাকেজিং, সরবরাহসহ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত আরও বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
তাই একদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা, নিয়োগপত্র ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগ, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং মালিকপক্ষের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত, সবকিছুরই নিরপেক্ষভাবে যাচাই প্রয়োজন।
শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তা মফিদুল এবং শাহাবুদ্দিন এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক শ্রমিক। তাদের অভিযোগ, এই কর্মকর্তারা একজন ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীর পক্ষে কাজ করছে, অন্যজন মালিক পক্ষের স্বার্থরক্ষা করতে মরিয়া। শ্রমিকদের তিনি বারবার বলেন, মালিক চাইলেই যে কাউকে ছাটাই করতে পারেন। কিন্তু এখানেই প্রয়োজন ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী বা তার মতো শিক্ষিত নেতার। যে শ্রম আইন (ধারা ২৬) তুলে ধরে বলবেন,
মালিক যেকোনো কারণ দর্শানো ছাড়াও কোনো স্থায়ী শ্রমিকের চাকরি অবসান করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে তাকে ১২০ দিনের লিখিত নোটিশ বা নোটিশের মেয়াদের জন্য ১২০ দিনের সমপরিমাণ মজুরি দিতে হবে। অস্থায়ী শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের নোটিশ বা মজুরি প্রযোজ্য। নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ ছাড়া চাকরিচ্যুতি সম্পূর্ণ বেআইনি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আট শ্রমিককে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন সংকট। শ্রমিকদের দাবি, তাদের সাতজন নির্দোষ এবং তাদের অন্তত কাজের সুযোগ দেওয়া হোক। অন্যদিকে মালিকপক্ষ বলছে, বিষয়টি তদন্ত চলমান। এই আটজনের একজনও প্রতিষ্ঠানে থাকলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায়িত্বে থাকবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন। তাই এটি তদন্ত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত হবে, অন্যথায় এরা চাকুরী ছেড়ে চলে গেলে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
ফলে প্রশ্ন এখন শুধু বকেয়া বেতন কিংবা মামলা প্রত্যাহারের নয়, প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, কীভাবে একটি দীর্ঘদিনের স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের অধিকার ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা, দুটিই নিশ্চিত করে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়।
সোমবারের দীর্ঘ বৈঠকেও যখন কোনো সমাধান হয়নি, তখন ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির মুখে পড়বে শ্রমিক, কর্মকর্তা এবং শেষপর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবার। তাই প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের উদ্যোগে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।


























