
স্পোর্টস ডেস্ক,
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে নতুন তারকা হিসেবে দ্রুতই আলোচনায় উঠে এসেছেন সোনাল দিনুশা। ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি এই ব্যাটার মূলত একজন বোলিং অলরাউন্ডার। ২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বর কলম্বোয় জন্ম নেওয়া দিনুশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের আগে বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।
শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ২০২০ যুব বিশ্বকাপেও খেলেছেন তিনি। ২০১৮-১৯ মৌসুমে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় দিনুশার। পরে লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও খেলেছেন তিনি।
২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় দিনুশার। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ তিনি দিয়েছেন ভারতের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া দুই টেস্টের সিরিজে।
ভারতের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা
সিরিজের প্রথম টেস্টেই নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন দিনুশা। গলে প্রথম ইনিংসে ১০০ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৮৪ রান। এরপর কলম্বোতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ১০৩ রান।
এরপর ভারতের দেওয়া ফলো-অনে দ্বিতীয় ইনিংসেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন এই তরুণ। ২৬৪ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ১৩৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই ইনিংসেই নিশ্চিত পরাজয় এড়িয়ে ম্যাচ ড্রয়ের পথে এগিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
দুই টেস্টের চার ইনিংসে দিনুশার রান—১০০, ৮৪, ১০৩ ও অপরাজিত ১৩৩। অর্থাৎ ভারতের বিপক্ষে চার ইনিংসে তার মোট সংগ্রহ ৪২০ রান। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রতিটি ইনিংসেই তিনি অন্তত ৫০ রান করেছেন।
ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম তিন ইনিংসেই ৮০ বা তার বেশি রান করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন দিনুশা। তার আগে এই কৃতিত্ব ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের এভারটন উইকস ও পাকিস্তানের জহির আব্বাসের।
দ্বিতীয় টেস্টে একাই লড়েছেন
কলম্বো টেস্টে ভারত প্রথম ইনিংসে ৫০৩ রান করে ৯ উইকেটে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে শ্রীলঙ্কা মাত্র ২৯০ রানে অলআউট হলে ফলো-অনে পড়ে স্বাগতিকরা। তখন ইনিংস হার এড়ানোই ছিল শ্রীলঙ্কার প্রধান লক্ষ্য।
চাপের সেই পরিস্থিতিতে আবারও দলের হয়ে দাঁড়ান দিনুশা। তার অপরাজিত ১৩৩ রানের ওপর ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২৯ রান তুলে ৯ উইকেটে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয় এবং দুই টেস্টের সিরিজ ভারত ১-০ ব্যবধানে জিতে নেয়।
দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও পেয়েছেন দিনুশা। দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচানোর পথে বড় ভূমিকা রাখায় ম্যাচসেরার পুরস্কার পান তিনি।
ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে সোনাল দিনুশাকে ঘিরে প্রত্যাশা যে আরও বেড়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

























