Dhaka , Thursday, 27 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ভারতে মুক্তির প্রথম দিনেই ১১৭ কোটি রুপি আয় করল ‘টক্সিক’ ভারতের বিপক্ষে ব্যাট হাতে নতুন নায়ক কে এই সোনাল দিনুশা ইরানে ছয় মাসের যুদ্ধের ছয় বড় পরিণতি টিন সার্টিফিকেট থাকলেও করমুক্ত সীমা? ঘরে বসে অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে সরাইল অরুয়াইলে জুনাইদ মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন দুষ্ট লোকে বলে ‘টুকু আসে টুকু যায়’: লোডশেডিং নিয়ে রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফশিল ও ভোট কবে, যা জানালেন সিইসি মির্জাবাড়ীর হাসিল গ্রামে আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা ফটিকছড়িতে পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান, শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা মোবারকসহ ৪ জন গ্রেফতার; বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার নরসিংদীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন আড়াইহাজারে এক রাতে ৭ টিউবওয়েল চুরি সভাপতি ইউএনও, সদস্য সচিব এনামুল হক: পাইকগাছা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি গঠন রামুর ফাঁড়িখাল নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ, বিপাকে ২৫০ কৃষক : স্মারকলিপি প্রদান তবারক না পাওয়া অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের ১০০ টাকা দিলেন চবি উপাচার্য নোয়াখালীতে ডেঙ্গুতে যুবকের মৃত্যু যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যর মধ্য দিয়ে দুর্গাপুরে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী পালিত হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতের মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন রামগঞ্জে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসা সেই প্রতারক তরুণী গ্রেফতার সুকেশকাণ্ড নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন নোরা ফাতেহি রামগঞ্জের ফরিদ ভূঁইয়া একাডেমিতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্‌যাপন রামগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত পোর্ট সিটি সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষর্থীদের ফিল্ড ওয়ার্ক পলাশে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন মঈন খান মা-ছেলের নাচে মুগ্ধতা ছড়াল ইয়ামালের জন্মদিনের পার্টি মেয়েরা মাথায় হিজাব পরে, মনে নয়: হিজাব বিতর্কে ওয়েইসি বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল ঝিনাইগাতীতে ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার অনুষ্ঠিত। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবুর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক সিএমপি’র সার্বিক নিরাপত্তায় যথাযথ ধর্মীয় ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপিত হলো জশনে জুলুস ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা:) বড়কাপনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস ও শান্তি মোবারক র‍্যালি

টিন সার্টিফিকেট থাকলেও করমুক্ত সীমা? ঘরে বসে অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:50:51 pm, Thursday, 27 August 2026
  • 3 বার পড়া হয়েছে

দৈনিক আজকের বাংলা প্রতিবেদন,

টিন সার্টিফিকেট থাকলেই আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হতে পারে। তবে রিটার্ন দাখিল করা এবং আয়কর পরিশোধ করা এক বিষয় নয়। আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলে রিটার্ন জমা দিয়েও প্রদেয় কর শূন্য হতে পারে। সাধারণভাবে এটিই ‘জিরো ট্যাক্স রিটার্ন’ নামে পরিচিত।

২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তি করদাতাদের ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন করবর্ষের ই-রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালু হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন করদাতারা।

তবে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন মানে রিটার্নের প্রতিটি ঘরে শূন্য বসিয়ে দেওয়া নয়। আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্যই দিতে হবে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে পরবর্তী সময়ে জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

১. এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ

প্রথমে এনবিআরের নির্ধারিত ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। আগে নিবন্ধন করা থাকলে টিন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

প্রথমবার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সাধারণত ১২ ডিজিটের টিন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং এনআইডিতে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে।

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে টিন ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে সহজেই সিস্টেমে প্রবেশ করা যাবে।

২. ‘রিটার্ন সাবমিশন’ নির্বাচন করুন

লগইন করার পর ‘রিটার্ন সাবমিশন’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে অ্যাসেসমেন্টের তথ্য এবং আয়ের বিভিন্ন খাত পূরণ করার সুযোগ আসবে।

সব তথ্য একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব না হলে ধাপে ধাপে তথ্য দিয়ে সেভ করে রাখা যাবে। পরে আবার লগইন করে বাকি তথ্য পূরণ করা সম্ভব।

৩. আয় না থাকলেও সব ঘর ফাঁকা রাখবেন না

এ পর্যায়েই অনেক করদাতা ভুল করেন। আয় নেই বা করযোগ্য আয় নেই—এমন পরিস্থিতিতেও সব ঘর ফাঁকা রাখা ঠিক নয়।

নিজের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, জিরো ট্যাক্স মানে সবকিছু শূন্য নয়। ব্যাংক হিসাবে টাকা থাকলে, কোনো সম্পদ থাকলে কিংবা বাস্তবে কোনো ব্যয় হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে।

৪. ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের করমুক্ত সীমা

২০২৬-২০২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।

নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মা-বাবা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য নির্ধারিত করমুক্ত সীমার সঙ্গে আরও ৫০ হাজার টাকা যোগ করার বিধান রয়েছে। তবে মা-বাবা দুজনই করদাতা হলে এই সুবিধা একজনই পাবেন।

তবে আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও রিটার্নে সম্পদ, ব্যয় ও দায় শূন্য দেখানো যাবে না। প্রকৃত তথ্যই দিতে হবে।

৫. ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশ যাচাই

সব তথ্য দেওয়ার পর রিটার্নের হিসাব অনুযায়ী সিস্টেম প্রদেয় করের পরিমাণ দেখাবে।

প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে যদি প্রদেয় কর শূন্য আসে, তাহলে সেটিই জিরো ট্যাক্স রিটার্নের পরিস্থিতি।

কোনো উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে বা অগ্রিম কর পরিশোধ করা থাকলে সেটিও ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশে সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

৬. সাবমিটের আগে পুরো রিটার্ন যাচাই

সব তথ্য পূরণ করার পর ‘রিটার্ন ভিউ’ থেকে পুরো রিটার্নটি ভালোভাবে দেখে নিন।

বিশেষ করে নাম, টিন, আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং করের হিসাব মিলিয়ে দেখুন। কোনো ভুল থাকলে সাবমিট করার আগেই সংশোধন করুন।

৭. সাবমিট করলেই রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন

সব তথ্য সঠিক থাকলে রিটার্ন সাবমিট করুন।

অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার পর অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হলে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ট্যাক্স সার্টিফিকেটও তৈরি হবে।

পরে ট্যাক্স রেকর্ড মেনু থেকে এসব নথি দেখা, সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে প্রিন্ট করা যাবে।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে প্রণোদনার সুযোগ

২০২৬-২০২৭ করবর্ষে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে এনবিআর জানিয়েছে।

তবে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করলেই নিশ্চিতভাবে ৫ শতাংশ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রণোদনা ব্যক্তির করযোগ্য আয় ও প্রদেয় করের ওপর নির্ভর করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

জিরো ট্যাক্স রিটার্ন দেওয়ার সময় আয়, সম্পদ, ব্যয় বা দায় ইচ্ছাকৃতভাবে শূন্য দেখানো যাবে না। আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও রিটার্নে প্রকৃত তথ্য দিতে হবে।

কারণ রিটার্নে শুধু আয় নয়, বাংলাদেশ ও বিদেশে থাকা সম্পদ ও দায় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জীবনযাপন-সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্যও উল্লেখ করতে হয়।

অর্থাৎ, জিরো ট্যাক্স রিটার্নের সঠিক পদ্ধতি হলো—প্রকৃত তথ্য দিয়ে ই-রিটার্ন পূরণ করা, হিসাব শেষে প্রদেয় কর শূন্য আসা নিশ্চিত করা এবং এরপর অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ সংরক্ষণ করা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে মুক্তির প্রথম দিনেই ১১৭ কোটি রুপি আয় করল ‘টক্সিক’

টিন সার্টিফিকেট থাকলেও করমুক্ত সীমা? ঘরে বসে অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে

আপডেট সময় : 07:50:51 pm, Thursday, 27 August 2026

দৈনিক আজকের বাংলা প্রতিবেদন,

টিন সার্টিফিকেট থাকলেই আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হতে পারে। তবে রিটার্ন দাখিল করা এবং আয়কর পরিশোধ করা এক বিষয় নয়। আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলে রিটার্ন জমা দিয়েও প্রদেয় কর শূন্য হতে পারে। সাধারণভাবে এটিই ‘জিরো ট্যাক্স রিটার্ন’ নামে পরিচিত।

২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তি করদাতাদের ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন করবর্ষের ই-রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালু হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন করদাতারা।

তবে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন মানে রিটার্নের প্রতিটি ঘরে শূন্য বসিয়ে দেওয়া নয়। আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্যই দিতে হবে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে পরবর্তী সময়ে জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

১. এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ

প্রথমে এনবিআরের নির্ধারিত ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। আগে নিবন্ধন করা থাকলে টিন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

প্রথমবার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সাধারণত ১২ ডিজিটের টিন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং এনআইডিতে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে।

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে টিন ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে সহজেই সিস্টেমে প্রবেশ করা যাবে।

২. ‘রিটার্ন সাবমিশন’ নির্বাচন করুন

লগইন করার পর ‘রিটার্ন সাবমিশন’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে অ্যাসেসমেন্টের তথ্য এবং আয়ের বিভিন্ন খাত পূরণ করার সুযোগ আসবে।

সব তথ্য একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব না হলে ধাপে ধাপে তথ্য দিয়ে সেভ করে রাখা যাবে। পরে আবার লগইন করে বাকি তথ্য পূরণ করা সম্ভব।

৩. আয় না থাকলেও সব ঘর ফাঁকা রাখবেন না

এ পর্যায়েই অনেক করদাতা ভুল করেন। আয় নেই বা করযোগ্য আয় নেই—এমন পরিস্থিতিতেও সব ঘর ফাঁকা রাখা ঠিক নয়।

নিজের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, জিরো ট্যাক্স মানে সবকিছু শূন্য নয়। ব্যাংক হিসাবে টাকা থাকলে, কোনো সম্পদ থাকলে কিংবা বাস্তবে কোনো ব্যয় হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে।

৪. ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের করমুক্ত সীমা

২০২৬-২০২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।

নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মা-বাবা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য নির্ধারিত করমুক্ত সীমার সঙ্গে আরও ৫০ হাজার টাকা যোগ করার বিধান রয়েছে। তবে মা-বাবা দুজনই করদাতা হলে এই সুবিধা একজনই পাবেন।

তবে আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও রিটার্নে সম্পদ, ব্যয় ও দায় শূন্য দেখানো যাবে না। প্রকৃত তথ্যই দিতে হবে।

৫. ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশ যাচাই

সব তথ্য দেওয়ার পর রিটার্নের হিসাব অনুযায়ী সিস্টেম প্রদেয় করের পরিমাণ দেখাবে।

প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে যদি প্রদেয় কর শূন্য আসে, তাহলে সেটিই জিরো ট্যাক্স রিটার্নের পরিস্থিতি।

কোনো উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে বা অগ্রিম কর পরিশোধ করা থাকলে সেটিও ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশে সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

৬. সাবমিটের আগে পুরো রিটার্ন যাচাই

সব তথ্য পূরণ করার পর ‘রিটার্ন ভিউ’ থেকে পুরো রিটার্নটি ভালোভাবে দেখে নিন।

বিশেষ করে নাম, টিন, আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং করের হিসাব মিলিয়ে দেখুন। কোনো ভুল থাকলে সাবমিট করার আগেই সংশোধন করুন।

৭. সাবমিট করলেই রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন

সব তথ্য সঠিক থাকলে রিটার্ন সাবমিট করুন।

অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার পর অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হলে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ট্যাক্স সার্টিফিকেটও তৈরি হবে।

পরে ট্যাক্স রেকর্ড মেনু থেকে এসব নথি দেখা, সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে প্রিন্ট করা যাবে।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে প্রণোদনার সুযোগ

২০২৬-২০২৭ করবর্ষে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে এনবিআর জানিয়েছে।

তবে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করলেই নিশ্চিতভাবে ৫ শতাংশ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রণোদনা ব্যক্তির করযোগ্য আয় ও প্রদেয় করের ওপর নির্ভর করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

জিরো ট্যাক্স রিটার্ন দেওয়ার সময় আয়, সম্পদ, ব্যয় বা দায় ইচ্ছাকৃতভাবে শূন্য দেখানো যাবে না। আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও রিটার্নে প্রকৃত তথ্য দিতে হবে।

কারণ রিটার্নে শুধু আয় নয়, বাংলাদেশ ও বিদেশে থাকা সম্পদ ও দায় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জীবনযাপন-সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্যও উল্লেখ করতে হয়।

অর্থাৎ, জিরো ট্যাক্স রিটার্নের সঠিক পদ্ধতি হলো—প্রকৃত তথ্য দিয়ে ই-রিটার্ন পূরণ করা, হিসাব শেষে প্রদেয় কর শূন্য আসা নিশ্চিত করা এবং এরপর অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ সংরক্ষণ করা।