Dhaka , Thursday, 13 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধকরণে চসিক কমিটি গঠন নারায়ণগঞ্জে যানজট নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ, চাষাড়া-পঞ্চবটি সড়ক সংস্কারের সিদ্ধান্ত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকীতে কে ইসলাম ফাহিমের উদ্যোগে চবি ছাত্রদলের দোয়া ও তাবারুক বিতরণ আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী ও মীর হেলাল উদ্দিনের জন্মদিনে চবি ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল পাইকগাছায় জামায়াত নেতাকে হেনস্তার অভিযোগ; সালিসি বৈঠক হলো কাল জনদুর্ভোগে পাশে খন্দকার মোতালেব হোসেন, দ্রুত সংস্কারে স্বস্তি পেলেন কয়েকটি পরিবার মধুপুরে ১২০০ মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস টাঙ্গাইলের মধুপুরে পারিবারিক বিরোধে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন সরাইলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৭জন কারাগারে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান, নৌযানের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতকরণে ৫০টির অধিক ফিশিং বোট তল্লাশি, আটক ২৪ রূপগঞ্জে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময়ের সভা অনুষ্ঠিত মিয়ানমারে পাচার হচ্ছিল ১,৩৬০ বস্তা সিমেন্ট, গ্রেপ্তার ৩ লবণ বোঝাই বলগেট ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু মেয়র নির্বাচিত হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করবো: ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হাই সিকদার সিলেটের রায়নগর মিতালি এলাকায় স্বামী স্ত্রী ও বাসার কাজের মেয়ে সহ ট্রিপল মার্ডার’র ঘটনা কেউ চান মাথা গোঁজার ঠাঁই, কেউ চিকিৎসার টাকা,গণশুনানিতে পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ সিএমপি ডবলমুরিং থানা এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ০৬ (ছয়) নেতাকর্মী গ্রেপ্তার পাইকগাছায় পুশ বিরোধী অভিযান; দুই চিংড়ি ব্যবসায়ীকে জরিমানা হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা, দুর্গাপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত  অসহায় হাজং দম্পতির পাশে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, বদলে যাচ্ছে জীবনের চিত্র রামুতে ইপসা ও আই আর সি এর উদ্যোগে মাদক, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে মুখোমুখি সংলাপ কেন ট্রাম্পের পোস্ট থেকে সরানো হলো টেইলর সুইফটের গান? ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য ধর্মান্তর ঠেকাতে ও জমি কেনাবেচায় কঠোর আইন করছে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের হাল ধরবেন কে? তালিকায় আছেন যারা সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মানিকগঞ্জে গরু চড়ানো নিয়ে বিরোধে হামলা, মা-ছেলেসহ আহত ৩ মধুপুরের মির্জাবাড়ীতে পারিবারিক বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ৪ চট্টগ্রামের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জরুরি :- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী

সরাইলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৭জন কারাগারে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:09:53 pm, Thursday, 13 August 2026
  • 1 বার পড়া হয়েছে

মোঃ আব্বাস উদ্দিন,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে, ৭ জনের ৪০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ জব্দ করা হয়েছে ড্রেজার ও বাল্কহেড, নদীভাঙনের ঝুঁকিতে চর কাকরিয়াসহ আশপাশের জনপদ সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের চর কাকরিয়া এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ৪০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন ও একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। আটক ও দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— রাহাত (১৭), মো. আলামিন (২৫), হৃদয় (১৮), কামাল (৫০), আবুল কাসেম (৪০), মো. ফুরকান মিয়া (৩৩) ও আওলাদ হোসেন (২৮)।
গোপনে নয়, প্রকাশ্যেই চলছিল বালু উত্তোলন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অরুয়াইল ইউনিয়নের চর কাকরিয়া এলাকায় মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নদীভাঙনের আতঙ্কে কয়েকটি গ্রাম অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মেঘনা নদীর তীরবর্তী ঐতিহাসিক আজবপুর, নতুনহাটি ও পানিশ্বর গ্রামের মানুষও নদীভাঙন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, নদীর নির্দিষ্ট এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হলে নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হতে পারে।
তাদের আশঙ্কা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বসতভিটা ও কৃষিজমি। ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। অভিযানে গিয়ে হাতে-নাতে আটক বুধবার উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় সাতজনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন ও একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাতজনকেই ৪০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীতীরবর্তী এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে নদী রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, মেঘনা নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী ও সরকারি সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের মাধ্যমে কেউ নদীর পরিবেশ ও তীরবর্তী জনপদকে ঝুঁকির মধ্যে ফেললে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে শুধু একদিনের অভিযান যথেষ্ট নয়। ড্রেজার মালিক ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে নিয়মিত নজরদারি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, মেঘনা নদী শুধু একটি জলপ্রবাহ নয়—এ নদীর সঙ্গে তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, যোগাযোগ ও বসতভিটার নিরাপত্তা জড়িত। তাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মেঘনা নদীর চর কাকরিয়া অংশসহ সরাইল উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। এতে একদিকে সরকারি বালুমহাল ও নদীর সম্পদ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে তীরবর্তী জনপদ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধকরণে চসিক কমিটি গঠন

সরাইলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৭জন কারাগারে

আপডেট সময় : 01:09:53 pm, Thursday, 13 August 2026

মোঃ আব্বাস উদ্দিন,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে, ৭ জনের ৪০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ জব্দ করা হয়েছে ড্রেজার ও বাল্কহেড, নদীভাঙনের ঝুঁকিতে চর কাকরিয়াসহ আশপাশের জনপদ সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের চর কাকরিয়া এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ৪০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন ও একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। আটক ও দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— রাহাত (১৭), মো. আলামিন (২৫), হৃদয় (১৮), কামাল (৫০), আবুল কাসেম (৪০), মো. ফুরকান মিয়া (৩৩) ও আওলাদ হোসেন (২৮)।
গোপনে নয়, প্রকাশ্যেই চলছিল বালু উত্তোলন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অরুয়াইল ইউনিয়নের চর কাকরিয়া এলাকায় মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নদীভাঙনের আতঙ্কে কয়েকটি গ্রাম অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মেঘনা নদীর তীরবর্তী ঐতিহাসিক আজবপুর, নতুনহাটি ও পানিশ্বর গ্রামের মানুষও নদীভাঙন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, নদীর নির্দিষ্ট এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হলে নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হতে পারে।
তাদের আশঙ্কা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বসতভিটা ও কৃষিজমি। ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। অভিযানে গিয়ে হাতে-নাতে আটক বুধবার উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় সাতজনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন ও একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাতজনকেই ৪০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীতীরবর্তী এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে নদী রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, মেঘনা নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী ও সরকারি সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের মাধ্যমে কেউ নদীর পরিবেশ ও তীরবর্তী জনপদকে ঝুঁকির মধ্যে ফেললে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে শুধু একদিনের অভিযান যথেষ্ট নয়। ড্রেজার মালিক ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে নিয়মিত নজরদারি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, মেঘনা নদী শুধু একটি জলপ্রবাহ নয়—এ নদীর সঙ্গে তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, যোগাযোগ ও বসতভিটার নিরাপত্তা জড়িত। তাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মেঘনা নদীর চর কাকরিয়া অংশসহ সরাইল উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। এতে একদিকে সরকারি বালুমহাল ও নদীর সম্পদ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে তীরবর্তী জনপদ।