
স্পোর্টস ডেস্ক,
২০২০ সালে বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকার সময় দিয়েগো ম্যারাডোনার শরীরে একাধিক গুরুতর শারীরিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তবে সেসব সতর্কসংকেত যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি বলে আদালতে দাবি করেছেন এক ফরেনসিক চিকিৎসক।
আর্জেন্টাইন এই ফুটবল কিংবদন্তির মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে বিচার চলছে। মঙ্গলবার শুনানিতে চিকিৎসক কার্লোস কাসিনেল্লি আদালতকে জানান, ম্যারাডোনার পায়ের নিচের অংশ ও আঙুলে ফোলাভাব, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ এবং অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো বেশ কিছু লক্ষণ ছিল।
বুয়েনস এইরেসের উত্তরে সান ইসিদ্রোর আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাসিনেল্লি বলেন, “কেউ গিয়ে দেখেননি, ওই ফোলাভাব আসলে কী কারণে হচ্ছে।” তার মতে, এটি ছিল জীবনঝুঁকিপূর্ণ একটি পরিস্থিতি।
ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নে গঠিত চিকিৎসা বোর্ডের সদস্য কাসিনেল্লি বলেন, চিকিৎসকদের কাছে এসব সতর্কতার লক্ষণ থাকার পরও চিকিৎসার ধরনে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তার দাবি, বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটিও ভুল ছিল।
হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক অবনতি ঘটে বলে জানান তিনি। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।
কাসিনেল্লির ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে কষ্টকর অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল সাবেক বার্সেলোনা ও নাপোলি তারকাকে।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা হারিয়ে এবং ফুসফুসে তরল জমার সমস্যায় মারা যান ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি। মৃত্যুর আগে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।
ম্যারাডোনার চিকিৎসায় জড়িত অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা অবশ্য অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের মাদক ও অ্যালকোহল-সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান বিচার আগস্টের পরও অব্যাহত থাকতে পারে।

























