
নুর মুহাম্মদ, কক্সবাজার,
কক্সবাজারের রামুতে মাদক, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুখোমুখি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) রামু উপজেলার হিমছড়ি মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ মুখোমুখি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মাদক, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।” এসব সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইউএনও আরও বলেন, পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা শুরু করতে হবে। সচেতন পরিবার ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে উঠলেই মাদক, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামু উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরূপ মুহুরী।
সংলাপে প্রকল্পের প্রতিবেদন উপস্থাপন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার উপজেলা ম্যানেজার ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রকল্প কর্মকর্তা পলাশ ভট্টাচার্য্য।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সিবিসিপিসি কমিটির সদস্য, শিক্ষক, যুবসমাজ, এনজিও প্রতিনিধি, থানার প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সংলাপে মাদক, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কক্সবাজারের সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য বহুখাতভিত্তিক পুনরুদ্ধার ও ক্ষমতায়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সংলাপের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (YPSA)। সহযোগিতায় ছিল ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (IRC)। প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
একই সঙ্গে এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।


























