
দৈনিক আজকের বাংলা প্রতিবেদন,
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান এবং ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া অডিওবার্তায় তিনি বলেন, “আমাকে নিজ দেশে ফিরতেই হবে”, তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনই প্রকাশ করবেন না।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়ার পর এটিই ছিল গণমাধ্যমের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। বক্তব্যে তিনি অনুপস্থিতিতে পরিচালিত বিচার এবং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছিল। বিবিসির যাচাই করা একটি ফোনালাপের অডিওও আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সেই মামলায় শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি ও সহিংসতায় সর্বোচ্চ ১,৪০০ জন নিহত হন। প্রবল বিক্ষোভের মুখে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এবং দলটি সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা দেশে না ফিরলে দলটি আরও সংকটে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যানের মতে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তার ভাষায়, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেই হতে পারে।
শেখ হাসিনার এই বক্তব্য ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি আদৌ দেশে ফিরবেন কি না এবং ফিরলে তার পরিণতি কী হবে—সেটিই এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও জনআলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।

























