
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
জুলাই-যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, যারা অসহায় অবস্থায় এখনো হাসপাতালে আছে, বেডে কাতরাচ্ছে, তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। আর যারা শহীদ হয়েছে, তাদের পরিবারের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে এবং জুলাই আহতদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। যদি আমরা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে তাদেরকে সাহায্য করতে পারি, তাহলে জুলাই শহীদরা যারা মৃত্যুবরণ করেছে, শহীদ হয়েছে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ভিআইপি লাউঞ্জে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিনদিনের কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং সেখানে আমাদের সংগ্রামটা ছিল ন্যায়বিচার, সাম্যতা, মানবিক মর্যাদা—এই তিনটাই ছিল মূল । এবং ৯০-এর যে আন্দোলনটা আমরা করেছিলাম, সেটা হচ্ছে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, এরশাদ স্বৈরাচারী ছিল, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন। আর ২০২৪—যে ২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার নিপীড়ন-নির্যাতন, যেটা আপনারা দেখেছেন—যে ১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ১৮ সালের নির্বাচনের নামে নির্যাতন এবং ২৪ সালে ‘আমি-তুমি’ ডামি নির্বাচন। এই যে অবস্থার উত্তরণ প্রেক্ষিতেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে একটি সংগ্রাম—যে সংগ্রামে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, ছাত্র-জনতা যেভাবে অংশগ্রহণ করেছে, সেটারই ফলশ্রুতিতে আমরা জুলাই-আগস্টের এই আজকে আমরা একটি নতুন সরকার পেয়েছি।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহনওয়াজ, কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ।
মেয়র বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক যে অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, ভোটের অধিকার—এই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমরা দেশনায়ক তারেক রহমান, বর্তমানে রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজকে দেশ এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে যে সমস্যাটা আমি দেখতে পাচ্ছি সে সমস্যাটা হচ্ছে, “আমি” থেকে “আমরা”-তে আসতে হবে। “আমি এটা করেছি” থেকে “আমরা এটা করেছি”—যতক্ষণ না এটা আমরা বলতে পারব না যে আমরা সবাই মিলে করেছি, ততক্ষণ পর্যন্ত একটা বিভেদ, একটা সমস্যা আমাদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে থেকে যাবে। তো আমি মনে করি, আমরা সবাই মিলে আন্দোলন করেছি, আমরা সবাই মিলেই আজকে গণঅভ্যুত্থানের ফল ভোগ করছি—এটা যদি আমরা বলতে না পারি, ততক্ষণ পর্যন্ত কিন্তু আমাদের মধ্যে এই সমস্যাটি থাকবে।
জুলাই বিপ্লবে হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি গতকালকে মেডিকেলের ডাক্তারদেরকে বলেছি , ৪ আগস্টের—যেটা আমি নিজের চোখে দেখলাম যেটা, নিউ মার্কেট মোড়ে যেসব ছেলেরা আহত হয়েছিল, তারা যখন মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হলো, সেখানে রাতের অন্ধকারে তাদেরকে ডাক্তাররাই মেরে মেরে বের করে দিচ্ছে! আহতদের! এবং সেখানে আমাদের কিছু হাসপাতাল—আমার ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল, পার্কভিউ, ডেল্টা হাসপাতাল ও ন্যাশনাল হাসপাতাল—এরকম ৫-৬টা হাসপাতাল এগিয়ে এসেছিলাম।
তো এগুলি কেন বলছি? এগুলি হচ্ছে, আমরা যারা একদম মানবিকতার চরম পর্যায়ে আছি, তারাও শুধুমাত্র দলীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সেটার ঊর্ধ্বে উঠতে পারে না। তাই আমরা যতই রাজনীতি করি না কেন, আমাদেরকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতাটাকে সামনে আনতে হবে। এবং ৫ আগস্টের পর ৬ তারিখ আমি মেডিকেলে গিয়ে নিউরোসার্জারি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, ইএনটিতে যে পরিমাণ রোগী আমি দেখেছি—মানুষ অসহায়, রোগীরা কাতরাচ্ছে! একটা বুলেট আমি গলার মধ্যে দেখেছি আটকে আছে।
এসময় অনুষ্ঠানে অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক মো. রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও অ্যাপায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমদ শাহ সহ প্রেস ক্লাবের সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























