
মো মোসাদ্দেক হোসেন, ইবি প্রতিনিধি:
‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘অদম্য জুলাই মিছিল’ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে শুরু হয়ে এ মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে প্রধান ফটকে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং অনেকের মাথায় লাল ফিতা বাঁধা দেখা যায়।
এসময়, মিছিলে অংশগ্রহনকারী দের
‘দিয়েছি তো রক্ত আরো দিব রক্ত ‘
‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’
‘কথায় কথায় বাংলা ছার, বাংলা কি তোর বাপ দাদার’
‘বুকের ভেতর অনেক ঝর বুক পেতেছি গুলি কর’
‘আজকের এই দিনে, সাইদ তোমায় পরে মনে’
‘আজকের এই দিনে, আনাস তোমায় পরে মনে’
‘ওসমান হাদি মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ ‘
‘লীগ ধর জেলে ভর,’
‘জুলাইয়ের হাতিয়ার গরজে ওঠো আরেকবার’
‘২৪ এর হাতিয়ার গরজে ওঠো আরেকবার’
‘এই দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ ‘
‘মুজিব বাদ মুরদাবাদ ইনকিলাব জিন্দাবদা ‘
স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মিছিল শেষে প্রধান ফটকের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ইবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, এদেশের মানুষ দেশ থেকে কিক মেরে হাসিনাকে দিল্লিতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। দিল্লিতে পাঠানোর যেই উদ্দেশ্য ছিল, যে এই দেশে বৈষম্যহীন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা আজকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতেও দেখতে পাচ্ছি যে মানুষ পদে পদে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মানুষ আইনের যে অধিকার, সে অধিকার পাচ্ছে না। আজকে এখান থেকে আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে এই ঘোষণা দিতে চাই— যারা গত বছরে বলেছিল ‘আর নয় হেলাফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা’, তাদের বিচারের কতটুকু হয়েছে আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই।
এসময় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ৩৬ এ জুলাই অর্থাৎ ৫ই আগস্ট আজকের এই দিনে খুনি হাসিনা এদেশ থেকে সবকিছু গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। খুনি হাসিনা দীর্ঘদিন যাবত এদেশের মানুষের উপর জুলুম করেছে। তিনি একটি জুলুমতন্ত্র কায়েম করেছিল। কিন্তু এদেশের জনগণ সেই জুলুমতন্ত্রকে স্থায়ী হতে দেয় নাই! তারা খুনি হাসিনাকে এদেশ থেকে চিরতরে বিতাড়িত করেছে।
আমরা জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। আমাদের জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নতুন ইনসাফের বাংলাদেশের।
কিন্তু আমরা বাস্তবে এখন পর্যন্ত ইনসাফ কায়েম হতে দেখতে পারি নাই।
আমরা আজকে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলে দিতে চাই, আমাদের এই আন্দোলন শেষ হবে না যতদিন না এদেশের ভূখণ্ডে ইনসাফ কায়েম না হয়।
আমাদের জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর হয়ে গেলেও আমরা এখনও বাংলাদেশকে বৈষম্যমুক্ত করতে পারি নাই।দেশের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে আমরা বৈষম্য দেখতে পাচ্ছি।
আমরা দেখতে পাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবরার ফাহাদ হলের মধ্যে থিওলজির শিক্ষার্থীদেরকে অ্যালট দেওয়া হয় নাই। এটি স্পষ্ট বৈষম্য! আমরা প্রশাসনকে বলে দিতে চাই, অতিসত্বর এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। শহীদ আবরার ফাহাদ হলে সকল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদেরকে অ্যালট দেওয়ার জন্য আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
আমাদের প্রত্যাশা ছিল জুলাই পরবর্তী নতুন নির্বাচিত সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে। কিন্তু আমরা দেখছি, এই সরকার দুর্নীতিকে আরও প্রশ্রয় দিচ্ছে, দুর্নীতি বৃদ্ধি করছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যেন দুর্নীতি বন্ধ হয়, এই জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের কাজ আর্মির হাতে দেওয়ার জন্য একটি দাবিতে আন্দোলন চলছিল। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত জনগণ—যাদের চাঁদার ভাগ পাওয়ার কথা ছিল, আর্মির কাছে কাজ গেলে তো চাঁদার ভাগ পাবে না, তারা আন্দোলনরত সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছে! আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এই পথ অবলম্বন করেছিল ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ। সুতরাং তাদের পরিণতি হয়েছে, তারা এদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আপনারা সাবধান হয়ে যান! ফিরে আসেন সঠিক পথে, লড়াই করি আদর্শ দিয়ে; নচেৎ আপনাদেরও অবস্থা ছাত্রলীগের মত হবে।
নিজেরদের মধ্যে কোন্দল করে একটা দল অসংখ্য নিজেদের লোককেই হত্যা করেছে। আমরা এই সংস্কৃতি থেকে, এই চাঁদাবাজি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আহ্বান করবো। আমাদের জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল আমাদের বোনেরা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু আমরা জুলাই পরবর্তী দেখেছি, একটি দল যেন ধর্ষণের মহোৎসব শুরু করে দিয়েছে। দিন যাচ্ছে, ধর্ষণের পরিমাণ তত বৃদ্ধি পেতেই থাকছে। অথচ এদেশের প্রশাসন, এদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না। এই ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি ধর্ষণ বন্ধ করতে না পারেন, তাহলে সসম্মানে পদত্যাগ করে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে চলে যান।
আমরা দেখেছি, এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের দায়িত্ব পালন করা বাদ দিয়ে তারা সংবিধান সংবিধান করে বলা শুরু করেছে; যেন তিনি সর্বময় মন্ত্রী হয়েছে, সকল বিষয়ে কথা বলছেন। অথচ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই জঘন্য অবস্থা ধারণ করেছে, এ নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নাই।

























