
মো মোসাদ্দেক হোসেন, ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, আমরা যারা ২৪-এর আন্দোলনে ছিলাম, তারা যেন ঐক্যবদ্ধ থেকে এই বাংলাদেশকে চিরতরে ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখার সুযোগ কাজে লাগাই। তবেই যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে এবং তাদের আত্মা শান্তি পাবে। এটিই আজকের দিনে আমাদের মূল বার্তা হওয়া উচিত।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০ টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জুলাই ৩৬ গন-অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতা আমাদের যা শিখিয়েছে, তা যদি আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করি, তবেই এর তাৎপর্য অনুভব করতে পারবো। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ঘটানো কোনো সহজ বিষয় ছিল না। যারা এই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা নিশ্চয়ই এ দেশের সাহসী সন্তান। মূলত যুবকদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়েই আজ এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। আমরা অনেক সময় আন্দোলন শেষ হওয়ার পর যখন দূরে সরে যাই, তখন এই বিষয়গুলোর আর যথাযথ মূল্যায়ন করি না। অতীতে বিভিন্ন অন্যায়ের কারণে আমাদের দেশে নানা বিপর্যয় এসেছে, কিন্তু আমরা সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারিনি।
২৪-এর এই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সংগঠনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রথম পর্যায়ে মাঠে ছিল কেবল ছাত্র-শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা। পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষ এতে একাত্মতা পোষণ করে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, পতিত রাজনৈতিক অপশক্তি আজ একে নিজেদের অর্জন হিসেবে দাবি করার চেষ্টা করছে। আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যখন মুক্ত করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনা হয়, তখন তিনি দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া বাংলাদেশকে সামনের দিকে অগ্রসর করার কোনো সুযোগ নেই। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ার কাজ করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তাঁকে আমরা খুব বেশিদিন আমাদের মাঝে পাইনি। আমরা যখন আন্দোলন করেছি, তখন আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ ছিল না। আমাদের মাঝে কেবল রক্তের বন্ধন ছিল, যা আমরা প্রত্যেকে দেশের জন্য ধারণ করেছিলাম। কিন্তু আজ আমরা আশঙ্কা করছি, বিভিন্ন অপশক্তি নানা রূপে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এসময় তিনি আরো বলেন,
আমরা যারা ২৪-এর আন্দোলনে ছিলাম, তারা যেন ঐক্যবদ্ধ থেকে এই বাংলাদেশকে চিরতরে ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখার সুযোগ কাজে লাগাই। তবেই যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে এবং তাদের আত্মা শান্তি পাবে। এটিই আজকের দিনে আমাদের মূল বার্তা হওয়া উচিত। আমাদের মধ্যে আবেগ কাজ করেছে ঠিকই, কিন্তু আমরা যদি সবসময় কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে চলি, তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আবারও নতুন হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। সুতরাং, এ দেশ আমাদের, এ দেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা যে যেখান থেকেই এ দেশকে ভালোবাসি না কেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় থাকে এবং সেটি আমরা অটুট রাখবো। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। আমি মনে করি, আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।
এসময় আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

























