Dhaka , Tuesday, 3 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
স্পেনের ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ ইয়ামালের বাবার স্কুলে থাকতেই পাইলট, বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নাথালিয়ার স্বর্ণের চাহিদায় ভাটা, কমল বার ও কয়েন কেনার পূর্বাভাস শুধু ‘স্যরি’ বললেই কি মুছে যায় মনের কষ্ট? ‘ও আমাকে মা-বাবার চেয়েও বেশি বোঝে’ সরাইলে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারীসহ ৮ জন আহত, এলাকায় আতঙ্ক কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে বন্ধুদের সাথে সাতার কাটতে গিয়ে নিখোজ গার্মেন্টস শ্রমিকের লাশ উদ্ধার কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি রূপগঞ্জে গৃহবধূকে কুপিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই রূপগঞ্জে সিম গ্রুপের পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ টেকনাফের সাগরে মাছ ধরার নৌকায় বজ্রপাতের আঘাতে ১ জেলে নিহত! নবপ্রজন্মের মাঝে ইসলামের সৌন্দর্য ও শাশ্বত জীবনদর্শন তুলে ধরতে হবে – ইসলামী যুবসমাজ দুর্গাপুরে নাঈমুরের সাফল্যের হেট্রিক : টানা তিন পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নতুন ইতিহাস মধুপুরে পর্নোগ্রাফি ও ইয়াবা কারবারের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, মোবাইল-ল্যাপটপ উদ্ধার পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল ‎গাইবান্ধায় এলজিইডির বাস্তবায়নে খানাখন্দের রাস্তা ফিরে পেল প্রাণ ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত দীর্ঘদিন পর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক লন্ডনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কারি শিল্পের জয়গান: সেরা রেস্তোরাঁ ও শেফদের বিসিএ সম্মাননা অনুষ্ঠিত মাদারীপুর সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বামী হত্যার পর অনিশ্চয়তায় দুই সন্তান, পাশে দাঁড়ালেন ডেপুটি স্পিকার; ল্যাবএইডে চাকরি পেলেন সাংবাদিক আলিফ ফকিরের স্ত্রী সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে অগ্রণী ভূমিকা, শিক্ষা ও সমাজসেবায় প্রশংসিত মোঃ কাউছার ভূঁইয়া চট্টগ্রামের অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর খুলনা আগমন উপলক্ষে পাইকগাছা বিএনপির প্রস্তুতি সভা রূপগঞ্জে পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ সকল বাধা পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে: বিসিএস ক্যাডার হিসেবে অমিত খানের নতুন যাত্রা আবার উত্তপ্ত বরিশালের চরকাউয়া: বাস ও ইজিবাইক শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে জিম্মি তিন উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা ২০২৬-২৭-এর উদ্বোধন, প্রধান অতিথি এমপি লুৎফুর রহমান কাজল

রাজধানীর তিন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, উত্তেজনায় দিনভর অচলাবস্থা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:58:02 pm, Tuesday, 4 August 2026
  • 43 বার পড়া হয়েছে

বিজয় চৌধুরী, ঢাকা,

রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় একই দিনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথক স্থানে সংঘটিত এসব ঘটনায় দুই সংগঠনের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন পথচারী আহত হন। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিকেলে সায়েন্সল্যাব মোড় ও ঢাকা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভার প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজের মূল ফটক ও নায়েম সড়কে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও আশপাশের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

ঘটনার পর দুই সংগঠনই পরস্পরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তোলে। ছাত্রশিবিরের দাবি, তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের অভিযোগ, তাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং আত্মরক্ষার্থেই তারা অবস্থান নিয়েছেন।

একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং বহু শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

আহতদের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি ও জিএসকেও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, আদালতপাড়া এবং হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের ঘটনার প্রভাব পড়ে বকশিবাজারের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায়ও। বিকেলের দিকে সেখানে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেখানে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের দুই নেতাও রয়েছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতদের একজন অভিযোগ করেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে হলের সিট দখল ও সাংগঠনিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

তিনটি ঘটনার পর রাজধানীর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাস, হাসপাতাল এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে একই দিনে রাজধানীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করে শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনের ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ ইয়ামালের বাবার

রাজধানীর তিন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, উত্তেজনায় দিনভর অচলাবস্থা

আপডেট সময় : 07:58:02 pm, Tuesday, 4 August 2026

বিজয় চৌধুরী, ঢাকা,

রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় একই দিনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথক স্থানে সংঘটিত এসব ঘটনায় দুই সংগঠনের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন পথচারী আহত হন। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিকেলে সায়েন্সল্যাব মোড় ও ঢাকা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভার প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজের মূল ফটক ও নায়েম সড়কে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও আশপাশের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

ঘটনার পর দুই সংগঠনই পরস্পরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তোলে। ছাত্রশিবিরের দাবি, তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের অভিযোগ, তাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং আত্মরক্ষার্থেই তারা অবস্থান নিয়েছেন।

একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং বহু শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

আহতদের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি ও জিএসকেও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, আদালতপাড়া এবং হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের ঘটনার প্রভাব পড়ে বকশিবাজারের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায়ও। বিকেলের দিকে সেখানে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেখানে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের দুই নেতাও রয়েছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতদের একজন অভিযোগ করেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে হলের সিট দখল ও সাংগঠনিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

তিনটি ঘটনার পর রাজধানীর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাস, হাসপাতাল এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে একই দিনে রাজধানীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করে শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।