Dhaka , Friday, 24 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ইসলামী মহা-সমাবেশ সফল করতে মতবিনিময় সভা বিসিকের হাল ধরলেন বেনজীর আহমেদ টিটো নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত: বাণিজ্য মন্ত্রী রূপগঞ্জে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। অবশেষে যাত্রামুড়ায় ঈদগাহ ও জানাজার মাঠ পেল ৫ হাজার বাসিন্দা রূপগঞ্জে শত বছরের কাঞ্চন বাজারে ২০ বছর পর ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির নির্বাচন : উৎসবমুখর পরিবেশ পার্কিং অবমুক্তে উদ্যোগের আশ্বাস চউক চেয়ারম্যানের, ট্যাগ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় কেবল শিক্ষাই জেলে পল্লীর ভাগ্য বদলাতে পারে:- ডিসি জাহিদ নারায়ণগঞ্জে লেবার পার্টির প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বানভাসিদের পাশে ইউসিএফ ও পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র, চিকিৎসাসেবা-নগদ সহায়তা-বস্ত্র বিতরণ বর্ষাকাল এলেই সরগরম পাইকগাছার নার্সারি; শত কোটি টাকার চারা বিক্রির সম্ভাবনা পাইকগাছায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সিলেট নগরীর শিববাড়ি এলাকার বাসিন্দা বিপাশা দে (দিয়া) নামে এক কলেজছাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। আশুলিয়ার বাইপাইলে আবাসিক হোটেলে অভিযান, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ৮ জন আটক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে বিএনপি সরকার – এমপি খোকন তালুকদার মাদারীপুরে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলা উদ্বোধন অব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে সড়ক নির্মাণ করায় রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় নগরপাড়া বাজারে কেনাবেচা বন্ধ \ দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ পাইকগাছায় স্পটে হাটবাজারের চান্দিনা ভিটি লাইসেন্স নবায়ন; রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম কেন ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদানে বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল? স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান নিয়ে ইসলাম কী বলে চায়ের সঙ্গে বিস্কুটের মতো সাধারণ অভ্যাসেই লুকিয়ে আছে বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি! দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমি গর্বিত: টুইঙ্কেল খান্না গার্দিওলার ইতালির কোচ হওয়া নিয়ে যা জানা গেল যন্তর মন্তর অভিমুখে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আটকে দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রপতির ‘পদত্যাগ’ নিয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে ইনোভারের বিজনেস মিট ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বর্ষাকাল এলেই সরগরম পাইকগাছার নার্সারি; শত কোটি টাকার চারা বিক্রির সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:02:47 pm, Friday, 24 July 2026
  • 4 বার পড়া হয়েছে

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা (খুলনা),

বর্ষা মানেই বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময়। আর এই মৌসুমকে ঘিরেই খুলনার পাইকগাছা উপজেলার নার্সারিগুলোতে শুরু হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। চারদিকে সবুজের সমারোহ, সারি সারি সাজানো ফল, ফুল, বনজ ও মসলাজাতীয় গাছের চারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতাদের ভিড়, আর সেই সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন নার্সারি মালিক, শ্রমিক ও পরিবহনকর্মীরা। এবছরও বর্ষা মৌসুমে গাছের চারার ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় পাইকগাছার নার্সারি ব্যবসায় নতুন করে প্রাণ ফিরে এসেছে।

পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ন এখন দেশের অন্যতম পরিচিত নার্সারি অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি বাণিজ্যিক নার্সারি। এছাড়াও অন্যান্য এলাকায় ছোট-বড় আরও প্রায় ২০০টির মতো নার্সারি রয়েছে, যেগুলো ১০ শতক থেকে এক বিঘা বা তারও বেশি জমির ওপর গড়ে উঠেছে। ফলে পুরো গদাইপুর এলাকা যেন এখন এক বিশাল সবুজের গ্রামে পরিণত হয়েছে।

বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে কিংবা বসতবাড়ির সামনে-পেছনে ছড়িয়ে থাকা এসব নার্সারিতে চোখে পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। ফুল, ফল, বনজ, ঔষধি ও মসলাজাতীয় গাছের পাশাপাশি বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের চারাও উৎপাদন করা হচ্ছে। সবুজে ঘেরা এসব নার্সারি শুধু ব্যবসার কেন্দ্র নয়, বরং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যও হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় স্থান।

নার্সারি মালিকরা জানান, বর্ষাকালেই সবচেয়ে বেশি চারা বিক্রি হয়। কারণ এই সময়ে গাছ লাগালে বৃষ্টির পানির কারণে চারার বেঁচে থাকার হার অনেক বেশি থাকে। ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোও এ সময় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে।

এবিষয়ে গদাইপুর এলাকার স্থানীয় সৌমিতা নার্সারির মালিক দীপংকর অধিকারী জানান, কেবল বর্ষা মৌসুমেই গদাইপুর এলাকার নার্সারিগুলোতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার গাছের চারা বিক্রি হয়। আর পুরো বছর মিলিয়ে এই বিক্রির পরিমাণ প্রায় দেড় ২০০ কোটি টাকারও বেশি। তিনি বলেন, বছরের প্রতিদিনই অনলাইন ও সরাসরি বিক্রি মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়। বর্ষা মৌসুমে এই বিক্রির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা এখানে এসে চারা সংগ্রহ করেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশীয় ফলের পাশাপাশি বিদেশি ফলের চারার চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখানকার নার্সারিগুলোতে সিডলেস লেবু, মালটা, ক্যারেলা নারিকেল, স্ট্রবেরি, রাম্বুটান, ড্রাগন, থাই পেয়ারা, ছবেদা, কদবেল, আশফল, লিচু, সুপারি, নারিকেল সহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ প্রজাতির বিদেশি ফলের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব চারা দেশের বগুড়া, লালমনিরহাট, বাগেরহাট, নড়াইল, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ চারা রপ্তানি করা হয় বলে জানান নার্সারি ব্যবসায়ী দীপংকর অধিকারী।

শুধু ফলের চারাই নয়, চুইঝাল, দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ, এলাচ, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলাজাতীয় গাছের চারারও ব্যাপক উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, আমড়া, জলপাই, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, মেহগনি, আকাশমনি, নিম, বকুল, শিমুলসহ বিভিন্ন বনজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের চারারও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

নার্সারিগুলো ঘুরে দেখা যায়, কোথাও শ্রমিকরা আগাছা পরিষ্কার করছেন, কোথাও চারায় পানি দিচ্ছেন। কেউ নতুন চারা বস্তাব্যাগ ও পলিব্যাগে প্রতিস্থাপন করছেন, আবার কেউ ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চারার চালান পাঠাতে ব্যস্ত। মূলত বড় চারাগুলো বস্তার ব্যাগে ও ছোট চারাগুলো পলিব্যাগে উৎপাদন করায় পরিবহন সহজ হয় এবং চারার ক্ষতির আশঙ্কাও কম থাকে।

এছাড়াও স্থানীয় নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই শিল্প শুধু ব্যবসার ক্ষেত্রই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শত শত পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এই খাতকে ঘিরে। বছরের বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, মাটি ও সার সরবরাহকারী, বস্তা ও পলিব্যাগ ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে নার্সারি শিল্পের ওপর।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এসএম মনিরুল হুদা বলেন, নার্সারি ব্যবসা বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ। পরিকল্পিতভাবে নার্সারি গড়ে তুললে একজন উদ্যোক্তা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারেন। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, বর্ষাকাল গাছ লাগানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় রোপণ করা চারার বেঁচে থাকার হার বেশি হওয়ায় সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তার ধারে ও খালি জায়গায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্তা।

সব মিলিয়ে পাইকগাছার নার্সারি শিল্প এখন শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে না; বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবুজের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্ষা এলেই তাই পাইকগাছার নার্সারিগুলো হয়ে ওঠে ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলা, আর সবুজ স্বপ্নের এক প্রাণচঞ্চল কেন্দ্র।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ইসলামী মহা-সমাবেশ সফল করতে মতবিনিময় সভা

বর্ষাকাল এলেই সরগরম পাইকগাছার নার্সারি; শত কোটি টাকার চারা বিক্রির সম্ভাবনা

আপডেট সময় : 08:02:47 pm, Friday, 24 July 2026

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা (খুলনা),

বর্ষা মানেই বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময়। আর এই মৌসুমকে ঘিরেই খুলনার পাইকগাছা উপজেলার নার্সারিগুলোতে শুরু হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। চারদিকে সবুজের সমারোহ, সারি সারি সাজানো ফল, ফুল, বনজ ও মসলাজাতীয় গাছের চারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতাদের ভিড়, আর সেই সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন নার্সারি মালিক, শ্রমিক ও পরিবহনকর্মীরা। এবছরও বর্ষা মৌসুমে গাছের চারার ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় পাইকগাছার নার্সারি ব্যবসায় নতুন করে প্রাণ ফিরে এসেছে।

পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ন এখন দেশের অন্যতম পরিচিত নার্সারি অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি বাণিজ্যিক নার্সারি। এছাড়াও অন্যান্য এলাকায় ছোট-বড় আরও প্রায় ২০০টির মতো নার্সারি রয়েছে, যেগুলো ১০ শতক থেকে এক বিঘা বা তারও বেশি জমির ওপর গড়ে উঠেছে। ফলে পুরো গদাইপুর এলাকা যেন এখন এক বিশাল সবুজের গ্রামে পরিণত হয়েছে।

বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে কিংবা বসতবাড়ির সামনে-পেছনে ছড়িয়ে থাকা এসব নার্সারিতে চোখে পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। ফুল, ফল, বনজ, ঔষধি ও মসলাজাতীয় গাছের পাশাপাশি বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের চারাও উৎপাদন করা হচ্ছে। সবুজে ঘেরা এসব নার্সারি শুধু ব্যবসার কেন্দ্র নয়, বরং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যও হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় স্থান।

নার্সারি মালিকরা জানান, বর্ষাকালেই সবচেয়ে বেশি চারা বিক্রি হয়। কারণ এই সময়ে গাছ লাগালে বৃষ্টির পানির কারণে চারার বেঁচে থাকার হার অনেক বেশি থাকে। ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোও এ সময় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে।

এবিষয়ে গদাইপুর এলাকার স্থানীয় সৌমিতা নার্সারির মালিক দীপংকর অধিকারী জানান, কেবল বর্ষা মৌসুমেই গদাইপুর এলাকার নার্সারিগুলোতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার গাছের চারা বিক্রি হয়। আর পুরো বছর মিলিয়ে এই বিক্রির পরিমাণ প্রায় দেড় ২০০ কোটি টাকারও বেশি। তিনি বলেন, বছরের প্রতিদিনই অনলাইন ও সরাসরি বিক্রি মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়। বর্ষা মৌসুমে এই বিক্রির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা এখানে এসে চারা সংগ্রহ করেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশীয় ফলের পাশাপাশি বিদেশি ফলের চারার চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখানকার নার্সারিগুলোতে সিডলেস লেবু, মালটা, ক্যারেলা নারিকেল, স্ট্রবেরি, রাম্বুটান, ড্রাগন, থাই পেয়ারা, ছবেদা, কদবেল, আশফল, লিচু, সুপারি, নারিকেল সহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ প্রজাতির বিদেশি ফলের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব চারা দেশের বগুড়া, লালমনিরহাট, বাগেরহাট, নড়াইল, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ চারা রপ্তানি করা হয় বলে জানান নার্সারি ব্যবসায়ী দীপংকর অধিকারী।

শুধু ফলের চারাই নয়, চুইঝাল, দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ, এলাচ, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলাজাতীয় গাছের চারারও ব্যাপক উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, আমড়া, জলপাই, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, মেহগনি, আকাশমনি, নিম, বকুল, শিমুলসহ বিভিন্ন বনজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের চারারও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

নার্সারিগুলো ঘুরে দেখা যায়, কোথাও শ্রমিকরা আগাছা পরিষ্কার করছেন, কোথাও চারায় পানি দিচ্ছেন। কেউ নতুন চারা বস্তাব্যাগ ও পলিব্যাগে প্রতিস্থাপন করছেন, আবার কেউ ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চারার চালান পাঠাতে ব্যস্ত। মূলত বড় চারাগুলো বস্তার ব্যাগে ও ছোট চারাগুলো পলিব্যাগে উৎপাদন করায় পরিবহন সহজ হয় এবং চারার ক্ষতির আশঙ্কাও কম থাকে।

এছাড়াও স্থানীয় নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই শিল্প শুধু ব্যবসার ক্ষেত্রই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শত শত পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এই খাতকে ঘিরে। বছরের বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, মাটি ও সার সরবরাহকারী, বস্তা ও পলিব্যাগ ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে নার্সারি শিল্পের ওপর।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এসএম মনিরুল হুদা বলেন, নার্সারি ব্যবসা বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ। পরিকল্পিতভাবে নার্সারি গড়ে তুললে একজন উদ্যোক্তা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারেন। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, বর্ষাকাল গাছ লাগানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় রোপণ করা চারার বেঁচে থাকার হার বেশি হওয়ায় সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তার ধারে ও খালি জায়গায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্তা।

সব মিলিয়ে পাইকগাছার নার্সারি শিল্প এখন শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে না; বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবুজের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্ষা এলেই তাই পাইকগাছার নার্সারিগুলো হয়ে ওঠে ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলা, আর সবুজ স্বপ্নের এক প্রাণচঞ্চল কেন্দ্র।