
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাক-শ্রবণ (বধির) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বুধবার (২২ জুলাই) সকালে তবলছড়িস্থ নির্মাণাধীন রাঙ্গামাটি বধির (বাক-শ্রবণ) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সহযোগিতায় এবং রাঙ্গামাটি বধির (বাক-শ্রবণ) বিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার।
সভাপতির বক্তব্যে মো. হাবীব আজম বলেন, বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে জেলা পরিষদ সবসময় পাশে থাকবে। পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, “বধির ও বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তারা অবহেলিত নয়; বরং যথাযথ সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে আগামী দিনের সম্পদে পরিণত হবে। বন্যাদুর্গত বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণের মতো মানবিক উদ্যোগ শুধু খাদ্যের সংকট লাঘব করবে না, সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতার বন্ধনও আরও সুদৃঢ় করবে।”
বিশেষ বক্তা হিসেবে রাঙ্গামাটি বধির কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী (বধির) সাংকেতিক ভাষায় বক্তব্য দেন। তিনি বধির জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাঙ্গামাটি বধির (বাক-শ্রবণ) বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. নাছির উদ্দীন। তিনি বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বধিরদের সুবিধার্থে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে বক্তব্যগুলো সাংকেতিক ভাষায় অনুবাদ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দোভাষী হাছিনা বেগম।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বাসেত অপু, রাঙ্গামাটি থানা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, রাঙ্গামাটি বধির কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বন্যাদুর্গত বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের হাতে খাদ্য সহায়তার প্যাকেট তুলে দেন।
আয়োজকরা জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

























