
মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি,
শরীয়তপুরের জাজিরায় গৃহবধূ কনিকা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাজিরা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জাজিরা-নড়িয়া সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা কনিকা আক্তারের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, কনিকা আক্তার জাজিরা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে সহপাঠী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কঘটনার পর বেশ কয়েকদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার না করায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা “কনিকা হত্যার বিচার চাই”, “দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে” এবং “সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে” —এমন নানা স্লোগান দেন।
এদিকে নিহত কনিকার বাবা আব্দুর রাজ্জাক মাদবর শরীয়তপুর জেলা আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৫ জনের উল্লেখসহ ৫-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মেয়েকে হত্যার অভিযোগ এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলেছে, মামলা দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির নিজ কক্ষ থেকে কনিকা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার শুরু থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে আসছে।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালেহ্ আহাম্মদ বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, “মামলাটি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাত ছাড়াই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

























