
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি,
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে এক ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ যুবককে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয় সীমান্তবাসী ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আজিজপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৮৫৫ নম্বর প্রধান পিলারের ৫ নম্বর উপ-পিলারসংলগ্ন এলাকায় ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর ১৫৬ ব্যাটালিয়নের দাউয়াকামারী ক্যাম্পের একটি টহল দল সীমান্তের কাঁটাতারের গেট খুলে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিএসএফ সদস্যরা ওই যুবককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় তারা লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ সদস্যরা চাপে পড়ে যায়। একই সঙ্গে স্থানীয়রা দ্রুত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে খবর দেন।
খবর পেয়ে ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের কালীরহাট ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধারকৃত ব্যক্তির আচরণ ও কথাবার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় তাকে প্রাথমিকভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে ধারণা করা হয়।
বিজিবি সদস্যরা ওই যুবককে সীমান্তের শূন্যরেখায় ফিরিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপরও বিএসএফ সদস্যরা তাকে আবার বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালীরহাট ক্যাম্পের এক দায়িত্বশীল বিজিবি কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের দাউয়াকামারী ক্যাম্পের বিএসএফ কমান্ডারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিএসএফকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর আজিজপুর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।























