
উৎপল রক্ষিত,
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন লিচু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক গাছের ডাল ভেঙে মাটিতে পড়ে যায় পাকা ও আধাপাকা লিচু। কোথাও কোথাও পুরো ডালসহ লিচু ছিঁড়ে পড়ায় বাগানজুড়ে দেখা গেছে ক্ষতির চিত্র।
রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, টেপিরবাড়ী এলাকার বিভিন্ন বাগানে একদল শ্রমিক ঝড়ে পড়ে যাওয়া লিচু বাছাইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ঝুড়িতে ভরে লিচু তুলছেন, আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত ডাল সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় লিচু ব্যবসায়ী সফিজ উদ্দিন বলেন,
“গত রাতের ঝড়ে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার এখানে ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক কাজ করে। দুই মাস আগে ধার-দেনা করে বাগান মালিকদের অগ্রিম টাকা পরিশোধ করেছি। এখন কীভাবে সেই ঋণ শোধ করব আর শ্রমিকদের মজুরি দেব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির কারণে বাগানের যথাযথ পরিচর্যা সম্ভব হয়নি। ফলে এবার কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনও পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই ঝড়ের আঘাতে লোকসানের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় খুচরা বাজারের পাশাপাশি টঙ্গীর কামারপাড়া আড়তেও গাজীপুরের লিচুর চাহিদা রয়েছে।প্রতি এক হাজার লিচুর পাইকারী বাজার মূল্য ২৮০০ থেকে ৩২০০ টাকা। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার সেই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ কৃষিঋণ এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুযোগ পেলে গাজীপুরে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর ব্যাপক উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তারা মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে দেশের অন্যতম লিচু উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে গাজীপুর আরও পরিচিতি লাভ করতে পারে।
গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ফল লিচু শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। লিচুতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, কপার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়া লিচু শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে এবং গরমে প্রশান্তি এনে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে লিচু খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়। তবে অতিরিক্ত লিচু খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গাজীপুরের লিচুচাষি ও ব্যবসায়ীরা এখন সরকারের সহায়তা এবং অনুকূল আবহাওয়ার প্রত্যাশায় দিন গুনছেন।
























