
নুর মুহাম্মদ, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পূর্ব রাজারকুল পাহাড়পাড়া এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে একটি পাকা বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হন মৃত গোলাম কাদেরের ছেলে মুফিজুর রহমান।
ভুক্তভোগী মুফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় এক ব্যক্তি কালুর মাধ্যমে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা তার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তার বসতবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, রাজারকুল রেঞ্জের আওতাধীন পূর্ব রাজারকুল পাহাড়পাড়া এলাকায় বন বিভাগের জমি দখল করে গাছ কেটে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর আদালতের নির্দেশে যৌথবাহিনীর সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “টাকা লেনদেনের কোনো প্রশ্নই আসে না। বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিতে পারলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।”
ঘটনার খবর পেয়ে রাজারকুল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন রাশেদ সিকদারের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা সিরাজুল হক, সাহাব উদ্দিন, নাছির উদ্দীন মুন্না ও নুরুল হাকিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় বিএনপি নেতা ফয়েজ উদ্দিন রাশেদ সিকদার বলেন, পাহাড়পাড়া এলাকায় বনভূমিতে শত শত বসতবাড়ি রয়েছে। সেখানে শুধু অসহায় মুফিজের বাড়িটিই কেন গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের।”
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দও একই প্রশ্ন তুলে বলেন, বনভূমিতে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা থাকার পরও শুধুমাত্র একটি পরিবারের ওপর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে মুফিজুর রহমান তার এক কন্যা ও দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করার দাবী স্থানীয়দের।
























