
ধর্ম ডেস্ক,
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মূল উদ্দেশ্য হলো একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন—“নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক। তাঁর কোনো শরিক নেই।”
মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.)-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কোরবানি বা ইবাদত করা যাবে না। নামাজ ও কোরবানি—সবই হতে হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে।
এছাড়া সূরা কাউসারের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন—“তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।” অর্থাৎ সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদিত হওয়া আবশ্যক।
এদিকে কোরবানি আদায়ের সময় নিয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান। হাদিস অনুযায়ী, ঈদুল আজহার দিন ঈদের নামাজ আদায়ের পরই কোরবানি করা উত্তম ও বৈধ। নামাজের আগে কোরবানি করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না—এমনটি হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন। যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চল বা গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় না, সেখানে ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকেই কোরবানি করা যাবে বলে ফিকহবিদরা মত দিয়েছেন।
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, সাধারণভাবে শহর ও বড় জনপদে ঈদের নামাজ আদায়ের পর কোরবানি শুরু করা ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে যেখানে ঈদের জামাতের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ভোর থেকেই কোরবানি করা বৈধ।
সব মিলিয়ে, কোরবানি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং এটি একান্তভাবে আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ ও ত্যাগের মহান শিক্ষা।
























