Dhaka , Friday, 17 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মধুপুরে রথযাত্রা, অংশ নিলেন সহস্রাধিক ভক্ত গর্জনিয়ায় জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবসে ঢাবি ছাত্রশিবিরের ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে জুলাই শহীদ দিবস উদযাপন জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর প্রধান মিন্টু আটক শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, সরকারের লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন করা :- বান্দরবানে ভুমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষকদের ধান বীজ ও চারা দেয়া হবে, ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদি পশুকে টিকা দেওয়া হবে: কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগেই রচিত হয়েছে দেশের রাজনীতির নতুন ধারা’:- ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাইকগাছা পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সাইট পরিদর্শন ইউএনওর উদ্যোগে দুই যুগের সংস্কারহীন সড়কের দুর্ভোগের অবসান; স্বস্তি এলাকাবাসীর রামগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার টানা বৃষ্টিতে রামগঞ্জে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি বিপাকে সাধারণ মানুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামে মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। নিখোঁজের ৮ মাস: তৃপ্তিকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে আহাজারি মায়ের। বঙ্গোপসাগর উপকূলে নৌকাডুবি, ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা নিহত কক্সবাজারে স্কুলছাত্র অপহরণ : রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার বন্যার্তদের সাহায্যার্থে বাঁশখালীতে ড্যাব, চট্টগ্রাম এর খাবার ও ঔষধ বিতরণ জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম সিএমপি’র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন জিপে লুকিয়ে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচার সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি দিদারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবর পাইকগাছায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত মধুপুরে জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত সম্পদের লোভে ওমান প্রবাসীর ওপর পৈশাচিকতা: ৫ দিন ঘরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন। জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার: পুলিশ সুপার জনগণের প্রতি সরকার শতভাগ দায়বদ্ধ, বাঘাইছড়িতে টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের নগরীর মুরাদপুরে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে ছুরিকাঘাতে যুবক আহত জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে চরভদ্রাসনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও বৈশ্বিক শক্তির টানাপোড়েন—নতুন বিশ্বব্যবস্থার আলোচনা জোরদার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:19:57 pm, Tuesday, 14 April 2026
  • 54 বার পড়া হয়েছে

জহিরুল ইসলাম খান, কলামিস্ট:

ইসলামাবাদ!

ইরান আমেরিকার এই আলোচনায় আগামী বিশ্ব ব্যবস্থার নীতিনির্ধারণ হবে। আমেরিকার ডলারের পরিবর্তে নতুন অর্থ ব্যবস্থার পদধ্বনি ইতোমধ্যে শুনা যাচ্ছে। ইজরায়েল হঠকারিতার সর্বশেষ প্রমান লেবাননের সাধারন জনগনের উপর হামলা মার্কনীরা তাদের দরকষাকষির রসদ হারিয়েছে। তার উপর ইরানের হাতে বন্দি ৬০০ মার্কিন মেরিন সেনা দরকষাকষির টেবিলে হয়ে উঠতে পারে মার্কিনীদের জন্য হারের অন্যতম কারন।

লেবাননের ৭০ ভাগ খ্রিস্টান বসতিতে হামলা করে মূলত ইজরায়েল পশ্চিমাদের আস্থা হারিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইজরায়েলের সাথে চুক্তি বাতিল এবং ইরানে তাদের দূতাবাস খোলার কথা জানিয়েছেন। এটা মার্কিন মুলুকে বিরাট ধাক্কা। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী লেবাননে হামলার সময় হামলার স্থান থেকে মাত্র ১০০ মি দূরে বেলজিয়াম দূতাবাসে অবস্থান করছিলেন।

যুদ্ধে যখন বিপক্ষ দেশ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করে তখন বুঝতে হবে তারা দিগভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া বিষন্নতার সর্বশেষ রুপান্তর হলো যখন শত্রু প্রলাপ বকতে শুরু করে। যা গত দুই সপ্তাহ যাবত ট্রাম্প বিরতিহীন ভাবে করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ন্যাটোর সুতোয় টান পড়ায় ট্রাম্প আরো বেসামাল আচরন করছিলেন।

আগামী মধ্যবর্তি নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মুখ রক্ষার জন্য প্রানান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছেন উপ রাষ্ট্রপতি জে ডি ভান্স। তাছাড়া আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার খায়েশও জিইয়ে রাখছেন একই সাথে। মার্কিন মুলুকে সাধারণ জনগনের ট্রাম্প বিরোধিতা চরমে পৌছেছে।

অন্যদিকে ইজরায়েলের পার্লামেন্টে নেতা নিয়াহুর মার খাওয়ার ভিডিও বিশ্ব মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে তাদের বেহাল দশা সারা পৃথিবীর মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। গ্রেটার ইজরায়েলের রণেভঙ্গ হওয়ায় এর জন্য তাদের অপেক্ষা আরো দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে।

সারা পৃথিবীর মুসলিমরা যখন ফিলিস্তিনের ইস্যুতে নীরব ইরান সেখানে তাদের স্বাধীনতার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। লেবাননের জনগনকে ইরান ছেড়ে যায়নি। একই হুথিদের জন্য রয়েছে আলাদা শর্ত। ইরান সারা পৃথিবীর মুসলিমদের চোখে আাঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো তারাই সাচ্চা মুসলিম। যে শেষ পর্যন্ত লড়ে যায় মাথানত করে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ইতোমধ্যে আলাদাভাবে ইরানের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। তারা ইউরোতে ক্রুড অয়েল কেনার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছেন। এতে অন্তত ডলার না থাকলেও নিজেদের অর্থনীতির বেহাল দশা থেকে বাচার প্রানান্তকর প্রচেষ্টার অংশ।

সৌদি আরবের মুসলিম বিশ্বের নেতাগিরী তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। যার জন্য শেষ চেষ্টা হিসেবে ইজরায়েল কে দিয়ে লেবাননে হামলা চালিয়ে আমেরিকারকে যুদ্ধের ময়দানে রাখার জন্য যে ষড়যন্ত্র করেছিলো তাও শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে ফিরেছে। ধারনা করা যাচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সকল ব্যয়ও শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবেকেই পরিশোধ করতে হবে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে তিন ট্রিলিয়ন ডলার চেয়ে রেখেছেন আরব দেশগুলোর কাছে। যা সৌদি, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন কে জরিমানা স্বরুপ মার্কিনীদের হাতে তুলে দিতে হবে।

ইরান এই যুদ্ধে রণনীতি এবং কূটনীতি তে সৌদি, আমেরিকা এবং ইজরাইলকে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু ইরান জিতে গেলেই সব শেষ হয়ে যাবে না। এখান থেকে শুরু হবে এক নতুন মহা যুদ্ধের পায়তারা। কারন সৌদি জোট কখনো চাইবে না ইরান অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। ইরানের মুসলিম বিশ্বে ত্রাতা হয়ে উঠা সৌদি জোট কখনো মেনে নিবে না।

মার্কিনীদের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবসার ব্যয় পেষাতে ইয়েমেনের উপর টানা চার বছর বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি। ইয়েমেনের সাধারণ জনগনের মানবেতর জীবন সারা পৃথিবীর মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে স্বচক্ষে। ফিলিস্তিনের উপর ইজরায়েলের উপুর্যুপরি হামলা, হামাসকে নিঃশেষ করে দেয়ার মানবতা বিরুধী হামলায় মদদ দিয়েছে সৌদি তুর্কী সমর্থিত সুন্নী জোট।

এই যুদ্ধে ইরানের বিজয় সুন্নীদের শ্রেষ্ঠত্ব কমিয়ে দিবে অনেকাংশে। রাজনৈতিক এই ভিন্নতাকে ধর্মীয় প্রচারের অংশ হিসেবে সারা পৃথিবীর মানুষকে বিভক্ত করার যুগের পর যুগের প্রানান্তকর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হচ্ছে। সৌদি কখনো চাইবে না মার্কিনীরা ভূমধ্যসাগর ছেড়ে চলে যাক। কারন অন্যথায় ওদের রাজবংশের টিকি নড়বড়ে হয়ে যাবে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে।

আজ এই যুদ্ধ থেমে গেছে ভাবলে ভুল করবে মুসলিমরা। কারন এরপর গোপন ষড়যন্ত্র শুরু হবে ইরানকে আবার একঘরে করার পায়তারায়। আমেরিকা ইজরায়েল ততদিন পর্যন্ত পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিবে যতদিন না বুঝতে পারবে ইরানকে পর্যুদস্ত করার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। আর সামনের যুদ্ধের সকল ব্যবভার গোপনে বহন করবে সৌদি আর তুর্কী সুন্নী জোট।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুপুরে রথযাত্রা, অংশ নিলেন সহস্রাধিক ভক্ত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও বৈশ্বিক শক্তির টানাপোড়েন—নতুন বিশ্বব্যবস্থার আলোচনা জোরদার

আপডেট সময় : 04:19:57 pm, Tuesday, 14 April 2026

জহিরুল ইসলাম খান, কলামিস্ট:

ইসলামাবাদ!

ইরান আমেরিকার এই আলোচনায় আগামী বিশ্ব ব্যবস্থার নীতিনির্ধারণ হবে। আমেরিকার ডলারের পরিবর্তে নতুন অর্থ ব্যবস্থার পদধ্বনি ইতোমধ্যে শুনা যাচ্ছে। ইজরায়েল হঠকারিতার সর্বশেষ প্রমান লেবাননের সাধারন জনগনের উপর হামলা মার্কনীরা তাদের দরকষাকষির রসদ হারিয়েছে। তার উপর ইরানের হাতে বন্দি ৬০০ মার্কিন মেরিন সেনা দরকষাকষির টেবিলে হয়ে উঠতে পারে মার্কিনীদের জন্য হারের অন্যতম কারন।

লেবাননের ৭০ ভাগ খ্রিস্টান বসতিতে হামলা করে মূলত ইজরায়েল পশ্চিমাদের আস্থা হারিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইজরায়েলের সাথে চুক্তি বাতিল এবং ইরানে তাদের দূতাবাস খোলার কথা জানিয়েছেন। এটা মার্কিন মুলুকে বিরাট ধাক্কা। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী লেবাননে হামলার সময় হামলার স্থান থেকে মাত্র ১০০ মি দূরে বেলজিয়াম দূতাবাসে অবস্থান করছিলেন।

যুদ্ধে যখন বিপক্ষ দেশ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করে তখন বুঝতে হবে তারা দিগভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া বিষন্নতার সর্বশেষ রুপান্তর হলো যখন শত্রু প্রলাপ বকতে শুরু করে। যা গত দুই সপ্তাহ যাবত ট্রাম্প বিরতিহীন ভাবে করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ন্যাটোর সুতোয় টান পড়ায় ট্রাম্প আরো বেসামাল আচরন করছিলেন।

আগামী মধ্যবর্তি নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মুখ রক্ষার জন্য প্রানান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছেন উপ রাষ্ট্রপতি জে ডি ভান্স। তাছাড়া আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার খায়েশও জিইয়ে রাখছেন একই সাথে। মার্কিন মুলুকে সাধারণ জনগনের ট্রাম্প বিরোধিতা চরমে পৌছেছে।

অন্যদিকে ইজরায়েলের পার্লামেন্টে নেতা নিয়াহুর মার খাওয়ার ভিডিও বিশ্ব মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে তাদের বেহাল দশা সারা পৃথিবীর মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। গ্রেটার ইজরায়েলের রণেভঙ্গ হওয়ায় এর জন্য তাদের অপেক্ষা আরো দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে।

সারা পৃথিবীর মুসলিমরা যখন ফিলিস্তিনের ইস্যুতে নীরব ইরান সেখানে তাদের স্বাধীনতার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। লেবাননের জনগনকে ইরান ছেড়ে যায়নি। একই হুথিদের জন্য রয়েছে আলাদা শর্ত। ইরান সারা পৃথিবীর মুসলিমদের চোখে আাঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো তারাই সাচ্চা মুসলিম। যে শেষ পর্যন্ত লড়ে যায় মাথানত করে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ইতোমধ্যে আলাদাভাবে ইরানের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। তারা ইউরোতে ক্রুড অয়েল কেনার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছেন। এতে অন্তত ডলার না থাকলেও নিজেদের অর্থনীতির বেহাল দশা থেকে বাচার প্রানান্তকর প্রচেষ্টার অংশ।

সৌদি আরবের মুসলিম বিশ্বের নেতাগিরী তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। যার জন্য শেষ চেষ্টা হিসেবে ইজরায়েল কে দিয়ে লেবাননে হামলা চালিয়ে আমেরিকারকে যুদ্ধের ময়দানে রাখার জন্য যে ষড়যন্ত্র করেছিলো তাও শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে ফিরেছে। ধারনা করা যাচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সকল ব্যয়ও শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবেকেই পরিশোধ করতে হবে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে তিন ট্রিলিয়ন ডলার চেয়ে রেখেছেন আরব দেশগুলোর কাছে। যা সৌদি, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন কে জরিমানা স্বরুপ মার্কিনীদের হাতে তুলে দিতে হবে।

ইরান এই যুদ্ধে রণনীতি এবং কূটনীতি তে সৌদি, আমেরিকা এবং ইজরাইলকে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু ইরান জিতে গেলেই সব শেষ হয়ে যাবে না। এখান থেকে শুরু হবে এক নতুন মহা যুদ্ধের পায়তারা। কারন সৌদি জোট কখনো চাইবে না ইরান অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। ইরানের মুসলিম বিশ্বে ত্রাতা হয়ে উঠা সৌদি জোট কখনো মেনে নিবে না।

মার্কিনীদের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবসার ব্যয় পেষাতে ইয়েমেনের উপর টানা চার বছর বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি। ইয়েমেনের সাধারণ জনগনের মানবেতর জীবন সারা পৃথিবীর মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে স্বচক্ষে। ফিলিস্তিনের উপর ইজরায়েলের উপুর্যুপরি হামলা, হামাসকে নিঃশেষ করে দেয়ার মানবতা বিরুধী হামলায় মদদ দিয়েছে সৌদি তুর্কী সমর্থিত সুন্নী জোট।

এই যুদ্ধে ইরানের বিজয় সুন্নীদের শ্রেষ্ঠত্ব কমিয়ে দিবে অনেকাংশে। রাজনৈতিক এই ভিন্নতাকে ধর্মীয় প্রচারের অংশ হিসেবে সারা পৃথিবীর মানুষকে বিভক্ত করার যুগের পর যুগের প্রানান্তকর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হচ্ছে। সৌদি কখনো চাইবে না মার্কিনীরা ভূমধ্যসাগর ছেড়ে চলে যাক। কারন অন্যথায় ওদের রাজবংশের টিকি নড়বড়ে হয়ে যাবে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে।

আজ এই যুদ্ধ থেমে গেছে ভাবলে ভুল করবে মুসলিমরা। কারন এরপর গোপন ষড়যন্ত্র শুরু হবে ইরানকে আবার একঘরে করার পায়তারায়। আমেরিকা ইজরায়েল ততদিন পর্যন্ত পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিবে যতদিন না বুঝতে পারবে ইরানকে পর্যুদস্ত করার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। আর সামনের যুদ্ধের সকল ব্যবভার গোপনে বহন করবে সৌদি আর তুর্কী সুন্নী জোট।