
নিউজ ডেস্ক,
ঢাকা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষ ৯৬.৩৩ জন। জনসংখ্যার বড় অংশ নারী হওয়ায় তাদের সম্ভাবনা ও অধিকার নিশ্চিত না করলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠন করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে নারী-পুরুষ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ ও টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
নারীর অগ্রগতি ও বৈষম্য
-
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
-
তবু কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, আইনি সুরক্ষার ঘাটতি ও সামাজিক মানসিকতার কারণে নারীরা ‘গ্লাস সিলিং’-এর মুখোমুখি।
-
বিশ্বব্যাংকের ‘Women, Business and the Law ২০২৬’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে আইনি কাঠামোর স্কোর মাত্র ৩৪.৩৮ (গ্লোবাল গড় ৬৭)।
-
নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করার জন্য আইন এখনও কার্যকর হয়নি।
শ্রমবাজারে নারীর চ্যালেঞ্জ
-
২০২৪ সালের লেবার ফোর্স সার্ভে অনুযায়ী, নারী স্নাতকদের বেকারত্বের হার ২০.৩৯%, পুরুষের ক্ষেত্রে ১১.৩১%।
-
১৫–২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে নারীর বেকারত্ব ৩৪%, পুরুষের ২৬%।
-
নিম্নমজুরির কাজ ও লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত নারীর সমান অধিকার অর্জনে প্রতিবন্ধক।
অর্থনৈতিক ও শিল্পখাতে অবদান
-
তৈরি পোশাক শিল্পে ৬৫% শ্রমিক নারী, যা রপ্তানি অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
-
কৃষিক্ষেত্রে ৭৪% নারী যুক্ত।
-
তবে প্রযুক্তি, আর্থিক খাত ও ব্যবস্থাপনায় নারীর অংশগ্রহণ সীমিত। উদ্যোক্তা হিসাবেও নারী সংখ্যালঘু; দেশে মাত্র ৭% ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক নারী।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
-
নারীর ক্ষমতায়ন শুধুমাত্র নৈতিক দায় নয়, এটি অর্থনৈতিকভাবে অপরিহার্য।
-
শিক্ষার উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সহজ ঋণ, এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো উচিত।
-
সমান সুযোগ দিলে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি বাড়ে, যার সুফল পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
উপসংহার:
নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত না করলে টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। নারী শিক্ষায়, অর্থনীতি ও নেতৃত্বে কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করলে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

























