Dhaka , Saturday, 18 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান; ইয়াবা সহ আটক – ১ জনগণই দেশের মালিক, প্রধানমন্ত্রীর ব্রত বৈষম্যহীন মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়া:- ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল নিখোঁজের একদিন পর পুকুরে পাওয়া গেল তুহিন সরদারের মরদেহ প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে চরভদ্রাসনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন। জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে শিশুর মৃত্যু নোয়াখালীতে দুই চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার নোয়াখালী বেগমগঞ্জে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আবদুর রহমান সুমন নামে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিহত হিউম্যান অ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ পাকিস্তানে আনারস রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে মধুপুরে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের মাঠ পরিদর্শন দুর্গাপুর তেরী বাজার বড় মসজিদের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ এবার দেশে মুক্তি পেল ‘মাস্তুল’ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে? জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, দুই যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালু ,‌ নাগরিক সেবা এখন হাতের মুঠোয় বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বন্যাদুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে হবে: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বানভাসি মানুষের পাশে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী ত্রাণ বিতরণ মধুপুরে রথযাত্রা, অংশ নিলেন সহস্রাধিক ভক্ত গর্জনিয়ায় জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবসে ঢাবি ছাত্রশিবিরের ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে জুলাই শহীদ দিবস উদযাপন জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর প্রধান মিন্টু আটক শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, সরকারের লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন করা :- বান্দরবানে ভুমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষকদের ধান বীজ ও চারা দেয়া হবে, ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদি পশুকে টিকা দেওয়া হবে: কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগেই রচিত হয়েছে দেশের রাজনীতির নতুন ধারা’:- ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাইকগাছা পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সাইট পরিদর্শন

ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত বিচারকের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া ড্রাইভার গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 09:44:26 am, Thursday, 10 October 2024
  • 307 বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত বিচারকের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া ড্রাইভার গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়।।

জসিমউদ্দিন ইতি  

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

   

নিয়োগ পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধাভোগ- যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন-জোরপূর্বক গর্ভপাত ও বিচারকের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আদালত চত্বরে দোকান ঘর লীজসহ অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের ড্রাইভার -গাড়ীচালক- মোকসেদুল রহমানের বিরুদ্ধে।

আদালতের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা তাঁর দুর্নীতি- ক্ষমতার অপব্যবহারের শাস্তি চেয়ে বিচার বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন ড্রাইভার মোকসেদুল রহমান।

বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা গেছে- ২০১৯ সালে নিয়োগ পরীক্ষায় পাস না করেও উৎকোচের বিনিময়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চাকুরী নেন মোকসেদুল। চাকুরীতে যোগদানের পর থেকেই অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সদ্য বিদায়ী বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেনের নাম ভাঙিয়ে আদালত চত্বরের ব্যবসায়ীদের থেকে অর্থ আদায় ও এক ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বাজার সদাই করে নিয়ে বিদায়ী বিচারককে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

আরো জানা গেছে- বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে চাকুরীর যোগদানের মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় জরাজীর্ণ বসতভিটা থেকে দৃষ্টিনন্দন বাড়িসহ কয়েক বিঘা জমির মালিক বনে গেছেন তিনি। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদাধিকার বলে কর্মচারীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হওয়ায় ড্রাইভার মোকসেদুল কর্মচারীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে উক্ত বিচারকের কাছে সুপারিশের মাধ্যমে পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে- অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতের ড্রাইভার মোকসেদুল রহমান  বিচারকের নাম ভাঙিয়ে আদালত চত্বরে তাঁর বাবা নূর মোহাম্মদের নামে ফলের দোকান বরাদ্দ নিলেও পরবর্তীতে সেটি কম্পিউটারের দোকান হিসেবে ব্যবহার করেন। এবং ভগ্নিপতির নামে একটি দোকান ঘর ও তাঁর নিকটতম আত্মীয়ের নামে জজ কোর্ট ক্যান্ট্রিন লিজ নেয়।

দীর্ঘদিন জেলা জজ অনুপস্থিত থাকায় বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আদালত চত্বরে অস্থায়ীভাবে বেশকয়েকটি দোকান ঘর গড়ে তোলার অনুমতি দেন মোকসেদুল। তাঁর একক প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ধরে লিজ নেয়া ব্যাক্তিদের বরাদ্দ বাতিল করে স্বজনদের নামে করে নেন। আর বরাদ্দ বাতিলকৃতরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে আদালত চত্বরে দোকান ঘর লিজ নিয়ে ব্যবসা করে আসলেও কেউ কোন কিছু বলেনি। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের লিজ বাতিল হয়ে যায়। ড্রাইভার মোকসেদুল জজ সাহেবকে ভুল বুঝিয়ে লিজ নেয়া দোকান ঘরের বরাদ্দ বাতিল করেছে বলে অভিযোগ তুলেন তাঁরা। এটা আমাদের সঙ্গে খুবই অবিচার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে যে অবিচার হয়েছে তা নতুন জজ মহোদয় দৃষ্টিতে নিবেন বলে আশা তাদের।

আরো জানা গেছে,আদালতে চাকুরী নেওয়ার পর থেকেই যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন মোকসেদুল। যৌতুক না দিয়ে পরকিয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রী আফরোজা বেগমের উপর চলতো নিয়মিত নির্যাতন। এবং কি স্ত্রীর অমতে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটায় বলেও অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকলে নিরুপায় হয়ে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে ৭লাখ টাকা এনে দিলেও থামেনি নির্যাতন। মোকসেদুলের দাবি সে জজ সাহেবের ড্রাইভার যৌতুক লাগবে ২০ লাখ। পরে মারধর করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বেরও করে দেয়।

এসবের প্রতিবাদ করায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিচারকের এজলাস কক্ষে ডেকে জোরপূর্বক স্ত্রীকে তালাক দেয়। স্বামীর বিচার চেয়ে থানা-পুলিশের দারস্ত হয়েও পাননি বিচার। পরে কোন উপায় না পেয়ে যৌতুক ও পরকিয়ায় বাধা দেওয়ার কারণে স্ত্রীকে নির্যাতন- পুলিশ মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ও স্বামী মোকসেদুল রহমানের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন তাঁর স্ত্রীর পরিবার। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও বিচারাঙ্গণে যেন একটি ত্রাসের নাম ড্রাইভার মোকসেদুল রহমান।

অভিযোগকারীরা জানান, বর্তমানে ঠাকুরগাঁও বিচারাঙ্গণে যেন একটি ত্রাসের নাম ড্রাইভার মোকসেদুল রহমান। এমন কোন অপরাধ নেই যেটা সে করেনা। অন্যায়ভাবে কয়েকজন দোকানিকে বের করে দেওয়া হয়েছে। নিজের পরিবারের নামে দোকান বরাদ্দ নিয়েছে। ক্যান্টিনের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় দেড় লাখ টাকা। সেটা আদালতের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এতো কিছুর পরেও কিভাবে সে বহালতবিয়তে থাকে?

তাঁর সব অপরাধ কি মাপ। যেখানে কোন কর্মচারী তাদের সারাজীবন চাকুরী করে একটি দোকানও বরাদ্দ নিতে পারেননি। সেখানে ড্রাইভার মোকসেদ পাঁচ বছরের চাকুরী জীবনে তার পরিবারের তিনজন সদস্যের নামে তিনটি দোকান বরাদ্দ পেয়ে গেল। অনুসন্ধান করলে পাঁচ বছরে সে কি কি করেছে তা সব বেড়িয়ে আসবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ড্রাইভার মোকসেদুল রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- আমার নামে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা-বানোয়াট ও ভিত্তিহিন। একটি চক্র তাঁর বিরুদ্ধে লেগেছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল ইসলাম জানান- এই আদালতে নতুন যোগদান করায় সেভাবে কিছুই বলতে পারছেন না। তবে ড্রাইভার মোকসেদুল রহমানের বিষয়ে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

এব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আবুল মনসুর মিঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান; ইয়াবা সহ আটক – ১

ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত বিচারকের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া ড্রাইভার গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়।।

আপডেট সময় : 09:44:26 am, Thursday, 10 October 2024

জসিমউদ্দিন ইতি  

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

   

নিয়োগ পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধাভোগ- যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন-জোরপূর্বক গর্ভপাত ও বিচারকের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আদালত চত্বরে দোকান ঘর লীজসহ অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের ড্রাইভার -গাড়ীচালক- মোকসেদুল রহমানের বিরুদ্ধে।

আদালতের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা তাঁর দুর্নীতি- ক্ষমতার অপব্যবহারের শাস্তি চেয়ে বিচার বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন ড্রাইভার মোকসেদুল রহমান।

বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা গেছে- ২০১৯ সালে নিয়োগ পরীক্ষায় পাস না করেও উৎকোচের বিনিময়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চাকুরী নেন মোকসেদুল। চাকুরীতে যোগদানের পর থেকেই অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সদ্য বিদায়ী বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেনের নাম ভাঙিয়ে আদালত চত্বরের ব্যবসায়ীদের থেকে অর্থ আদায় ও এক ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বাজার সদাই করে নিয়ে বিদায়ী বিচারককে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

আরো জানা গেছে- বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে চাকুরীর যোগদানের মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় জরাজীর্ণ বসতভিটা থেকে দৃষ্টিনন্দন বাড়িসহ কয়েক বিঘা জমির মালিক বনে গেছেন তিনি। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদাধিকার বলে কর্মচারীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হওয়ায় ড্রাইভার মোকসেদুল কর্মচারীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে উক্ত বিচারকের কাছে সুপারিশের মাধ্যমে পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে- অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতের ড্রাইভার মোকসেদুল রহমান  বিচারকের নাম ভাঙিয়ে আদালত চত্বরে তাঁর বাবা নূর মোহাম্মদের নামে ফলের দোকান বরাদ্দ নিলেও পরবর্তীতে সেটি কম্পিউটারের দোকান হিসেবে ব্যবহার করেন। এবং ভগ্নিপতির নামে একটি দোকান ঘর ও তাঁর নিকটতম আত্মীয়ের নামে জজ কোর্ট ক্যান্ট্রিন লিজ নেয়।

দীর্ঘদিন জেলা জজ অনুপস্থিত থাকায় বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আদালত চত্বরে অস্থায়ীভাবে বেশকয়েকটি দোকান ঘর গড়ে তোলার অনুমতি দেন মোকসেদুল। তাঁর একক প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ধরে লিজ নেয়া ব্যাক্তিদের বরাদ্দ বাতিল করে স্বজনদের নামে করে নেন। আর বরাদ্দ বাতিলকৃতরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে আদালত চত্বরে দোকান ঘর লিজ নিয়ে ব্যবসা করে আসলেও কেউ কোন কিছু বলেনি। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের লিজ বাতিল হয়ে যায়। ড্রাইভার মোকসেদুল জজ সাহেবকে ভুল বুঝিয়ে লিজ নেয়া দোকান ঘরের বরাদ্দ বাতিল করেছে বলে অভিযোগ তুলেন তাঁরা। এটা আমাদের সঙ্গে খুবই অবিচার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে যে অবিচার হয়েছে তা নতুন জজ মহোদয় দৃষ্টিতে নিবেন বলে আশা তাদের।

আরো জানা গেছে,আদালতে চাকুরী নেওয়ার পর থেকেই যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন মোকসেদুল। যৌতুক না দিয়ে পরকিয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রী আফরোজা বেগমের উপর চলতো নিয়মিত নির্যাতন। এবং কি স্ত্রীর অমতে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটায় বলেও অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকলে নিরুপায় হয়ে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে ৭লাখ টাকা এনে দিলেও থামেনি নির্যাতন। মোকসেদুলের দাবি সে জজ সাহেবের ড্রাইভার যৌতুক লাগবে ২০ লাখ। পরে মারধর করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বেরও করে দেয়।

এসবের প্রতিবাদ করায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিচারকের এজলাস কক্ষে ডেকে জোরপূর্বক স্ত্রীকে তালাক দেয়। স্বামীর বিচার চেয়ে থানা-পুলিশের দারস্ত হয়েও পাননি বিচার। পরে কোন উপায় না পেয়ে যৌতুক ও পরকিয়ায় বাধা দেওয়ার কারণে স্ত্রীকে নির্যাতন- পুলিশ মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ও স্বামী মোকসেদুল রহমানের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন তাঁর স্ত্রীর পরিবার। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও বিচারাঙ্গণে যেন একটি ত্রাসের নাম ড্রাইভার মোকসেদুল রহমান।

অভিযোগকারীরা জানান, বর্তমানে ঠাকুরগাঁও বিচারাঙ্গণে যেন একটি ত্রাসের নাম ড্রাইভার মোকসেদুল রহমান। এমন কোন অপরাধ নেই যেটা সে করেনা। অন্যায়ভাবে কয়েকজন দোকানিকে বের করে দেওয়া হয়েছে। নিজের পরিবারের নামে দোকান বরাদ্দ নিয়েছে। ক্যান্টিনের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় দেড় লাখ টাকা। সেটা আদালতের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এতো কিছুর পরেও কিভাবে সে বহালতবিয়তে থাকে?

তাঁর সব অপরাধ কি মাপ। যেখানে কোন কর্মচারী তাদের সারাজীবন চাকুরী করে একটি দোকানও বরাদ্দ নিতে পারেননি। সেখানে ড্রাইভার মোকসেদ পাঁচ বছরের চাকুরী জীবনে তার পরিবারের তিনজন সদস্যের নামে তিনটি দোকান বরাদ্দ পেয়ে গেল। অনুসন্ধান করলে পাঁচ বছরে সে কি কি করেছে তা সব বেড়িয়ে আসবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ড্রাইভার মোকসেদুল রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- আমার নামে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা-বানোয়াট ও ভিত্তিহিন। একটি চক্র তাঁর বিরুদ্ধে লেগেছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল ইসলাম জানান- এই আদালতে নতুন যোগদান করায় সেভাবে কিছুই বলতে পারছেন না। তবে ড্রাইভার মোকসেদুল রহমানের বিষয়ে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

এব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আবুল মনসুর মিঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে রিসিভ করেননি।