Dhaka , Saturday, 29 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নিটারে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও নেটওয়ার্কিং নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন রায়পুরে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী লাইসেন্সবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা, কলমাকান্দায় এক যুবকের কারাদণ্ড জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জরুরি: ডিসি জাহিদ দাউদপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনিময় সভা রাজনগরে এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু। রামগঞ্জে অভিমান করে তরুনীর আত্নহত্যা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সিলেটে গিয়ে ৩ রোহিঙ্গা আটক রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫টি পাইপগান ও ৪ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার রূপগঞ্জের মুশরী-তেলিপাড়া-টানমুশরী সড়ক ধসে চলাচলের অনুপযোগী মধুপুরে জুমার নামাজ আদায় করলেন পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজাই প্রিন্স দুর্গাপুরে নানা আয়োজনে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বৃক্ষ হত্যাকারীদের ছাড় নয়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের অবৈধ বালু উত্তোলন: কলমাকান্দায় ৩৯ নৌকা জব্দ, এক ব্যক্তির কারাদণ্ড ভাঙা সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানবোঝাই হেন্ট্রলি খাদে, অল্পের জন্য রক্ষা পেলো চালক। কাউখালীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত: সভাপতি আলী হোসেন, সম্পাদক আহসান হাবিব সিলেটে নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদের আত্মপ্রকাশ ভারতে মুক্তির প্রথম দিনেই ১১৭ কোটি রুপি আয় করল ‘টক্সিক’ ভারতের বিপক্ষে ব্যাট হাতে নতুন নায়ক কে এই সোনাল দিনুশা ইরানে ছয় মাসের যুদ্ধের ছয় বড় পরিণতি টিন সার্টিফিকেট থাকলেও করমুক্ত সীমা? ঘরে বসে অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে সরাইল অরুয়াইলে জুনাইদ মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন দুষ্ট লোকে বলে ‘টুকু আসে টুকু যায়’: লোডশেডিং নিয়ে রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফশিল ও ভোট কবে, যা জানালেন সিইসি মির্জাবাড়ীর হাসিল গ্রামে আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা ফটিকছড়িতে পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান, শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা মোবারকসহ ৪ জন গ্রেফতার; বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার নরসিংদীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন আড়াইহাজারে এক রাতে ৭ টিউবওয়েল চুরি

লালমনিরহাটে ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে পশুর হাট, চাহিদা পূরণ করছে জেলার খামারিরা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:58:39 pm, Thursday, 22 May 2025
  • 209 বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটে ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে পশুর হাট, চাহিদা পূরণ করছে জেলার খামারিরা

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা -কোরবানির ঈদ- এর দিনক্ষণ এগিয়ে আসার সাথে জমে উঠেছে লালমনিরহাটের গবাদি পশুর হাট। জেলার বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য হাটগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত সদর উপজেলার বড়বাড়ী ও দুরাকুটি হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাকি হাটগুলো ক’দিনের মধ্যেই জমে উঠবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিক্রেতা ও হাট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাটগুলোকে ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে ক্যাম্প পরিচালনা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর জেলায় গবাদি পশুর চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কোরবানির পশু পাঠানো সম্ভব। 

সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার উল্লেখযোগ্য হাটগুলো হল- সদর উপজেলার  নয়ারহাট, নবাবের হাট -বিডিআর হাট-, দুরাকুটি ও বড়বাড়ি হাট, কালীগঞ্জের শিয়ালখোয়া হাট ও চাপারহাট, হাতীবান্ধার দইখাওয়া হাট এবং পাটগ্রামের বড়খাতা। এই সকল হাটে এই বছর  গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে।

কয়েকটি হাট ঘুরে সবচেয়ে বেশী ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার বড়বাড়ী হাটে সকাল ৮টা থেকেই জনসমাগম শুরু হয়। এই হাটে প্রচুর পরিমাণ দেশি গরু কেনা-বেচা হচ্ছে। যার মূল্য গরুর আকার ও প্রকারভেদে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। লক্ষ্য করা গেছে বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের  দীর্ঘক্ষণ ধরে পুরো হাট ঘুরে দেখে কাঙ্ক্ষিত আকার ও দাম মিলে গেলে তবেই গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। অনেকেই আবার দাম কমে গেলে তখন কিনবেন এই আশা নিয়ে খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন।

ক্রেতা আসা সব্বুর আলী বলেন, “ঈদ যত ঘনিয়ে আসে দাম ততো বাড়ে , তাই আগেভাগেই কিনতে এসেছি। ৮০ হাজার টাকায় আমি একটি গরু কিনেছি।“ 

তার অভিযোগ, সব হাটেই দালালদের জন্য কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েছেন তিনি।

রাজ্জাক মিয়া নামের একজন ক্রেতা জানান, কয়েকজন একসাথে ৯০ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়েছে। কোরবানি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য তাই নসিবে যা এসেছে তাতেই খুশী তিনি।

ছাগল কিনে বাড়ি ফিরছেন ব্যবসায়ি খয়বার আলী। তিনি জানান, ১১ হাজার টাকায় ছাগল -খাসি- কিনেছেন তিনি। হাটে গবাদি পশুর সরবরাহ নিয়ে সন্তুষ্ট।

 খামারি রুস্তম হোসেন বলেন,” আমি ৬টি গরু এনেছি। মাঝারিগুলো বিক্রি হলেও বড় ২ টি এখনও বিক্রি হয়নি।  আবার আসতে হতে পারে।“

তবে খামারিদের অভিযোগ, গবাদি পশুর খাবার-ফিড- ও আনুষঙ্গিক খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশী কিন্তু পশুর দাম তেমন বাড়েনি।

হাটের নিরাপত্তা বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ জানায়, পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.আব্দুস সামাদ বলেন ,” প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম কাজ করে। ক্রেতা বিক্রেতারা বিভিন্ন সেবা নিচ্ছেন। অসুস্থ গবাদি পশুর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ক্রেতা বা বিক্রেতা  আমাদের কাছে গবাদি পশু নিয়ে আসলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দিচ্ছি।“

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলার বেশিরভাগ খামারি এবার প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তাদের গরু মোটাতাজা করেছেন। ক্ষতিকর হরমোন বা ইনজেকশনের ব্যবহার এ বছর অনেক হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, “লালমনিরহাটে এবার প্রায় ২.৩০ লাখ কোরবানির পশু রয়েছে। আশা করছি চাহিদা পূরণের পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিটারে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও নেটওয়ার্কিং নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন

লালমনিরহাটে ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে পশুর হাট, চাহিদা পূরণ করছে জেলার খামারিরা

আপডেট সময় : 06:58:39 pm, Thursday, 22 May 2025

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা -কোরবানির ঈদ- এর দিনক্ষণ এগিয়ে আসার সাথে জমে উঠেছে লালমনিরহাটের গবাদি পশুর হাট। জেলার বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য হাটগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত সদর উপজেলার বড়বাড়ী ও দুরাকুটি হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাকি হাটগুলো ক’দিনের মধ্যেই জমে উঠবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিক্রেতা ও হাট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাটগুলোকে ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে ক্যাম্প পরিচালনা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর জেলায় গবাদি পশুর চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কোরবানির পশু পাঠানো সম্ভব। 

সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার উল্লেখযোগ্য হাটগুলো হল- সদর উপজেলার  নয়ারহাট, নবাবের হাট -বিডিআর হাট-, দুরাকুটি ও বড়বাড়ি হাট, কালীগঞ্জের শিয়ালখোয়া হাট ও চাপারহাট, হাতীবান্ধার দইখাওয়া হাট এবং পাটগ্রামের বড়খাতা। এই সকল হাটে এই বছর  গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে।

কয়েকটি হাট ঘুরে সবচেয়ে বেশী ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার বড়বাড়ী হাটে সকাল ৮টা থেকেই জনসমাগম শুরু হয়। এই হাটে প্রচুর পরিমাণ দেশি গরু কেনা-বেচা হচ্ছে। যার মূল্য গরুর আকার ও প্রকারভেদে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। লক্ষ্য করা গেছে বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের  দীর্ঘক্ষণ ধরে পুরো হাট ঘুরে দেখে কাঙ্ক্ষিত আকার ও দাম মিলে গেলে তবেই গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। অনেকেই আবার দাম কমে গেলে তখন কিনবেন এই আশা নিয়ে খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন।

ক্রেতা আসা সব্বুর আলী বলেন, “ঈদ যত ঘনিয়ে আসে দাম ততো বাড়ে , তাই আগেভাগেই কিনতে এসেছি। ৮০ হাজার টাকায় আমি একটি গরু কিনেছি।“ 

তার অভিযোগ, সব হাটেই দালালদের জন্য কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েছেন তিনি।

রাজ্জাক মিয়া নামের একজন ক্রেতা জানান, কয়েকজন একসাথে ৯০ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়েছে। কোরবানি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য তাই নসিবে যা এসেছে তাতেই খুশী তিনি।

ছাগল কিনে বাড়ি ফিরছেন ব্যবসায়ি খয়বার আলী। তিনি জানান, ১১ হাজার টাকায় ছাগল -খাসি- কিনেছেন তিনি। হাটে গবাদি পশুর সরবরাহ নিয়ে সন্তুষ্ট।

 খামারি রুস্তম হোসেন বলেন,” আমি ৬টি গরু এনেছি। মাঝারিগুলো বিক্রি হলেও বড় ২ টি এখনও বিক্রি হয়নি।  আবার আসতে হতে পারে।“

তবে খামারিদের অভিযোগ, গবাদি পশুর খাবার-ফিড- ও আনুষঙ্গিক খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশী কিন্তু পশুর দাম তেমন বাড়েনি।

হাটের নিরাপত্তা বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ জানায়, পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.আব্দুস সামাদ বলেন ,” প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম কাজ করে। ক্রেতা বিক্রেতারা বিভিন্ন সেবা নিচ্ছেন। অসুস্থ গবাদি পশুর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ক্রেতা বা বিক্রেতা  আমাদের কাছে গবাদি পশু নিয়ে আসলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দিচ্ছি।“

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলার বেশিরভাগ খামারি এবার প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তাদের গরু মোটাতাজা করেছেন। ক্ষতিকর হরমোন বা ইনজেকশনের ব্যবহার এ বছর অনেক হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, “লালমনিরহাটে এবার প্রায় ২.৩০ লাখ কোরবানির পশু রয়েছে। আশা করছি চাহিদা পূরণের পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”