Dhaka , Sunday, 30 November 2025
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
চবিতে চাকসুর উদ্যােগে “Clean Campus Day with CUCSU” কর্মসূচি পালন। কালিয়াকৈরে সফিপুরে বাজারে আগুনে পুড়ল ১০ দোকান নির্বাচনী দায়িত্বে দক্ষতা উন্নয়নে ১৪তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করলেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার পাইকগাছা পৌরসভার প্রশাসক মাহেরা নাজনীনের বিদায়ী সংবর্ধনা রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ॥ আলোচনা সভা ॥ বিএনপি ও যুবদলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত বীরত্ব ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি: বিমান বাহিনীর ৪০ সদস্য পেলেন শান্তিকালীন পদক ভেলা-বরিশাল সেতুর দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন রূপগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার কক্সবাজারে নবাগত পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের যোগদান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সকলের সহযোগিতা কামনা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনের দাবিতে সাতকানিয়ায় সড়ক অবরোধ স্থানীয়দের বিক্ষোভে থমকে যায় যানচলাচল নারায়ণগঞ্জে নতুন পুলিশ সুপারের যোগদান মাজার-দরগাহ ভাঙচুর ও বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে স্মারকলিপি প্রদান দশম গ্রেডের দাবিতে মধুপুরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি রামগঞ্জে ১শ গজের মধ্যে ৫ দোকানে চুরি: আতংকিত ব্যবসায়ীরা ৩ দফা দাবিতে রামগঞ্জে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্ম বিরতি বেগমগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবীতে ২ঘন্টা কর্মবিরতি পালন ‎কিশোরগঞ্জে ভিপি সোহেল এর উদ্যোগে বি এন পি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গাজীপুরে নবমীবিহীত পূজার মধ্য দিয়ে  কাত্যায়নী পূজার সমাপ্তি  সাতকানিয়ায় যৌথ অভিযানে ২২ রোহিঙ্গা শ্রমিক আটক: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নোয়াখালীতে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় দোয়া চাইলেন বুলু ; মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নামাজরত অবস্থায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু ইয়াবা জব্দের ঘটনায় লুকোচুরি, র‌্যাব-১৫’র  তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা ভাংচুর ॥ ২০ লক্ষাধিক টাকার মাল লুট শিক্ষাক্ষেত্রে নারী সমজের উন্নতি ব্যতিত উন্নত জাতি গড়া সম্ভব নয় — মীর হেলাল ফরিদপুর-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মনিরুজ্জামান মনিরের বিশাল  শোডাউন। খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় রাজাপুরে দোয়া মাহফিল ভূমিদস্যুর কবল থেকে নগরীর চকবাজার কলেজ রোড ও লালচাঁন্দ রোড ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন   চা খেতে গিয়ে ধরা খেল সাজাপ্রাপ্ত আসামি ঠাকুরগাঁও হরিপুর সীমান্তে বিজিবির টহলে ফেনসিডিলের চালান উদ্ধার। নোয়াখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ পড়ুয়া নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণে নির্বাচনী অলিম্পিয়াড

নীলফামারীতে বোরো বীজতলা নিয়ে ক্ষতির শঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষক

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:10:36 am, Thursday, 13 January 2022
  • 262 বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীতে বোরো বীজতলা নিয়ে ক্ষতির শঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষক

আমিরুল হক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ।।

নীলফামারীতে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে চলতি মৌসুমের বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বীজতলায় বোরোর চারার গোড়া বা পাতা পচা রোগ এবং চারা হলুদ হয়ে দুর্বল হওয়াসহ ক্ষতির শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তবে বোরোর চারা রক্ষায় সাদা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বেশকিছু পরামর্শ কৃষকদের দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর ও ডিমলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেকেই বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছে। এতে করে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে বলে বিশ্বাস করছেন তারা। গত সপ্তাহ জুড়ে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বনি¤œ ১০ থেকে ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। এ সময়েই তীব্র শীতের সাথে মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারদিক। এ অবস্থায় জেলার কৃষকেরা বোরো ধানের বীজতলা নষ্টের আশংকা করছেন।

নীলফামারী জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, চারার বৃদ্ধিতে নিম্ম তাপমাত্রার প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য ঘন কুয়াশা ও বেশি শীতের সময়ে বোরো ধানের বীজতলা সকাল ১০টা থেকে সাদা পলিথিন শিট দিয়ে ঢেকে রেখে সন্ধ্যার আগে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া সন্ধ্যায় পানি সেচ দিয়ে বীজতলার চারা ডুবিয়ে দিতে হবে এবং সকালে সেই পানি বের করে দিতে হবে। প্রতিদিন সকালে দড়ি বা কঞ্চি টেনে বীজতলার চারায় জমাকৃত শিশির ঝরিয়ে দিতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা হলদে হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে কৃষকদের। এছাড়া ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ ও ৬০ গ্রাম জিপসাম সার মিশিয়ে বীজতলায় স্প্রে করতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, অতিরিক্ত শীতে বীজতলার চারার গোড়া বা পাতা পঁচা রোগ দেখা গেলে ব্যাভিস্টিন বা মেনকোজেব গ্রæপের যেকোনও একটি ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। যতদিন শৈত্যপ্রবাহ থাকে ততদিন এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে।

সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক সাদিকুল ইসলাম বলেন, এ বছরও তিনি বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। তীব্র শীত ও কুয়াশায় চারাগুলো হলুদ রং ধারন করেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বীজতলা পরিচর্যা করছি কিন্তু চারাগুলি বড় হচ্ছে না। এ অবস্থায় শীতের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেলে চারাগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশঙ্কা করছি।

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কৃষি বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে কৃষকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদানসহ সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শীতের কারণে কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলার তেমন একটা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরিচর্যার পদ্ধতি অনুসরন করায় কৃষকদের প্রশংসা করে জানান, বড় কোন প্রকিৃতিক দুর্যোগ না হলে আমনের মত বোরো ধানেরও বাম্পার ফলন হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে নিশ্চিত।

প্রসঙ্গত, এ বছর নীলফামারীতে বোরো বীজতলার জন্য ৪ হাজার ২৮২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও বীজতলা করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে, বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ৮১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৪ মেট্রিক টন ধান।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চবিতে চাকসুর উদ্যােগে “Clean Campus Day with CUCSU” কর্মসূচি পালন।

নীলফামারীতে বোরো বীজতলা নিয়ে ক্ষতির শঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষক

আপডেট সময় : 02:10:36 am, Thursday, 13 January 2022

আমিরুল হক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ।।

নীলফামারীতে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে চলতি মৌসুমের বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বীজতলায় বোরোর চারার গোড়া বা পাতা পচা রোগ এবং চারা হলুদ হয়ে দুর্বল হওয়াসহ ক্ষতির শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তবে বোরোর চারা রক্ষায় সাদা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বেশকিছু পরামর্শ কৃষকদের দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর ও ডিমলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেকেই বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছে। এতে করে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে বলে বিশ্বাস করছেন তারা। গত সপ্তাহ জুড়ে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বনি¤œ ১০ থেকে ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। এ সময়েই তীব্র শীতের সাথে মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারদিক। এ অবস্থায় জেলার কৃষকেরা বোরো ধানের বীজতলা নষ্টের আশংকা করছেন।

নীলফামারী জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, চারার বৃদ্ধিতে নিম্ম তাপমাত্রার প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য ঘন কুয়াশা ও বেশি শীতের সময়ে বোরো ধানের বীজতলা সকাল ১০টা থেকে সাদা পলিথিন শিট দিয়ে ঢেকে রেখে সন্ধ্যার আগে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া সন্ধ্যায় পানি সেচ দিয়ে বীজতলার চারা ডুবিয়ে দিতে হবে এবং সকালে সেই পানি বের করে দিতে হবে। প্রতিদিন সকালে দড়ি বা কঞ্চি টেনে বীজতলার চারায় জমাকৃত শিশির ঝরিয়ে দিতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা হলদে হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে কৃষকদের। এছাড়া ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ ও ৬০ গ্রাম জিপসাম সার মিশিয়ে বীজতলায় স্প্রে করতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, অতিরিক্ত শীতে বীজতলার চারার গোড়া বা পাতা পঁচা রোগ দেখা গেলে ব্যাভিস্টিন বা মেনকোজেব গ্রæপের যেকোনও একটি ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। যতদিন শৈত্যপ্রবাহ থাকে ততদিন এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে।

সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক সাদিকুল ইসলাম বলেন, এ বছরও তিনি বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। তীব্র শীত ও কুয়াশায় চারাগুলো হলুদ রং ধারন করেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বীজতলা পরিচর্যা করছি কিন্তু চারাগুলি বড় হচ্ছে না। এ অবস্থায় শীতের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেলে চারাগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশঙ্কা করছি।

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কৃষি বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে কৃষকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদানসহ সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শীতের কারণে কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলার তেমন একটা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরিচর্যার পদ্ধতি অনুসরন করায় কৃষকদের প্রশংসা করে জানান, বড় কোন প্রকিৃতিক দুর্যোগ না হলে আমনের মত বোরো ধানেরও বাম্পার ফলন হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে নিশ্চিত।

প্রসঙ্গত, এ বছর নীলফামারীতে বোরো বীজতলার জন্য ৪ হাজার ২৮২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও বীজতলা করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে, বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ৮১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৪ মেট্রিক টন ধান।