Dhaka , Thursday, 16 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
লালমনিরহাটে দুই উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা; প্রধান অতিথি মমিনুল হক নিরাপত্তা বলয়ে পাইকগাছায় বৃত্তি পরীক্ষা শুরু; ইউএনও’র কেন্দ্র পরিদর্শন উচ্চশিক্ষার পথে বাধা দূর করল জেলা প্রশাসন: ঢাবি-জবিতে ভর্তির সুযোগ পেল ৬ অসচ্ছল মেধাবী বিগত ১৭ বছরে কিছু লোক এসেছিল তারা খেলার নামে রং তামাশা করেছে: মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ভাড়া বাসায় মদের কারবার,বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার-১ নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল তুরাগের আকস্মিক পানি বৃদ্ধি রুখে কৃষকের স্বস্তি: রাতভর বাঁধ নির্মাণে রক্ষা পেল হাজারো বিঘা ফসল নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় আজ ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৫,৫০০ লিটার তেল জব্দ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সৌদি ফেরত নোয়াখালীর  সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিমানবন্দরে আটক রূপগঞ্জে কিশোরীর আত্মহত্যা উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ রূপগঞ্জে ৪২০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ ঐতিহ্য রক্ষায় সাংগ্রাই উৎসবের ভূমিকা অপরিসীম:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাপেন্ডিসাইটিস: অবহেলা বয়ে আনতে পারে মারাত্মক ঝুঁকি পহেলা বৈশাখে উৎসবে ভাসলো রায়পুর: বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১৪৩৩-কে স্বাগত। কালীগঞ্জে র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান: গোয়ালঘর থেকে মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পাইকগাছায় নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন : প্রতিমন্ত্রী আড়াইহাজারে মাদ্রাসার ঝুঁকিপূর্ণ বাউন্ডারি দেয়াল, আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও পথচারী ঐতিহ্যের বর্ণিল আবহে পহেলা বৈশাখ: মঙ্গল শোভাযাত্রায় নবযাত্রার স্বপ্নে ঢাকাবাসী এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার অন্তরের অত্যন্ত কাছের, কারন আমার বাবা-মা দুজনই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন: নববর্ষে চবিতে মীর হেলাল শ্রীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নতুন বছর সাজানোর আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর বর্ণিল আয়োজনে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন রঙে-ঐতিহ্যে বর্ণিল কুড়িগ্রামে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হাতীবান্ধা ও নাগেশ্বরী সীমান্তে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অভিযানে পৌনে ২ লাখ টাকার মালামাল জব্দ মধুপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন রূপগঞ্জে বাংলা নববর্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি আনন্দ উৎসবে বোয়ালী ইউনিয়নে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

নীলফামারীতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গুলের নেশায় আসক্তের সংখ্যা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:28:31 pm, Wednesday, 1 December 2021
  • 461 বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গুলের নেশায় আসক্তের সংখ্যা

আমিরুল হক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ।।

নীলফামারীর ৬টি উপজেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গুল নামক তামাকজাত পণ্যে আসক্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ধোঁয়াবিহীন গুল নামক এই বিষ সেবন করে অজান্তেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ। এছাড়া গুল তৈরির কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এমন তথ্য জানিয়েছে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এ জেলার কয়কটি উপজেলায় বেশি তামাক উৎপাদন হয়। বিভিন্ন নামীদামী সিগারেট কোম্পানিগুলো সেখানে তামাক পাতা কিনে গুদামজাত করছে। এসব তামাক পাতা দিয়ে জর্দা এবং তামাকের ডাটাসহ উচ্ছৃষ্ট অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুল। জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় রয়েছে অনেক গুল তৈরির কারখানা। এসব কারখানা গড়ে উঠেছে আবাসিক ও ঘনবসতি এলাকায়। ফলে মালিকরা খুব সহজে ও অল্প টাকায় নারী ও শিশু শ্রমিক পান। তাই দিনে-রাতে সমানতালে চলে কাজ। যত্রতত্র ময়লা স্থানে গুলের পাউডার রেখে শ্রমিকরা কৌটায় ভরছে। আবার কেউ কেউ কৌটায় লেবেল লাগাচ্ছে। তাদের হাতে-পায়ে নেই কোন রক্ষাকারী সামগ্রী। বাতাসের মাধ্যমে গুলের পাউডারগুলো ছড়াচ্ছে এলাকায়। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সৈয়দপুরের তৈরি গুলের চাহিদা অনেক বেশি। দুই টাকা দামের গুল একটু বড় কৌটায় ভরে এখন বিক্রয় হচ্ছে ৫ টাকায়।
শহরের বাঁশবাড়ী এলাকার কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার চারপাশে গুলের কারখানা গড়ে উঠেছে। এই কারখানাগুলো উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করে কোন লাভ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই নিজের ও সন্তানের কথা চিন্তা করে ওই এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছি।

 

গুল ব্যবহারকারী নূরুল হুদা বলেন, দাঁতে ব্যাথার কারনে শুরুতে গুল দিয়ে দাঁত মাজা শুরু করি। পরে ধীরে ধীরে গুল আসক্তি শুরু হয়। শেষমেশ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যা নেশায় পরিনত হয়ে গেছে। এখন আর ইচ্ছা করলেও ছাড়তে পারছিনা।
নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর কবীর জানান, তামাকের মধ্যে যত ক্ষতিকর পদার্থ এর সব আছে গুলের মধ্যে। বিড়ি ও সিগারেটের ধোঁয়ার মাধ্যমে নিকোটিনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ শরীরে প্রবেশ করায় এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। গুল সরাসরি মুখে সেবন করায় সকল প্রকার ক্ষতিকর পদার্থ শরীরের ভেতরে গিয়ে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। যা খুব দ্রæত নার্ভের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। গুল সেবনের কারণে মুখে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। অনেকে আছেন যারা সারাক্ষণ মুখে গুল রেখে দেন। যে স্থানে নিয়মিত গুল লাগানো থাকে ধীরে ধীরে সেই স্থানটিতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই ক্ষত স্থানটি ক্যান্সারে রূপ নেয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের (সংশোধিত ২০০৯) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনের ১০ ধারায় সকল প্রকার তামাকজাত পণ্যে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কতাবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ সিগারেট কোম্পানি সিগারেটের প্যাকেটের দু’পাশে অর্ধেক জায়গাজুড়ে বীভৎস ছবি দিলেও গুলের কৌটার লেবেলে এখনও বীভৎস ছবি সংবলিত সতর্কবাণী দেয়া হয়নি। সিগারেটের প্যাকেটে বীভৎস ক্যান্সারের ছবি দেয়ার পর ধীরে ধীরে মানুষ সচেতন হয়ে উঠছে। আর গুলসহ ধোঁয়াবিহীন অন্যান্য তামাক জাত পণ্যে এখনও এই ছবি সংযোজন না করায় মানুষজন এর কুফল না ভেবে যথেচ্ছভাবে এগুলো সেবন করে আসছে।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে দুই উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা; প্রধান অতিথি মমিনুল হক

নীলফামারীতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গুলের নেশায় আসক্তের সংখ্যা

আপডেট সময় : 04:28:31 pm, Wednesday, 1 December 2021

আমিরুল হক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ।।

নীলফামারীর ৬টি উপজেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গুল নামক তামাকজাত পণ্যে আসক্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ধোঁয়াবিহীন গুল নামক এই বিষ সেবন করে অজান্তেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ। এছাড়া গুল তৈরির কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এমন তথ্য জানিয়েছে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এ জেলার কয়কটি উপজেলায় বেশি তামাক উৎপাদন হয়। বিভিন্ন নামীদামী সিগারেট কোম্পানিগুলো সেখানে তামাক পাতা কিনে গুদামজাত করছে। এসব তামাক পাতা দিয়ে জর্দা এবং তামাকের ডাটাসহ উচ্ছৃষ্ট অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুল। জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় রয়েছে অনেক গুল তৈরির কারখানা। এসব কারখানা গড়ে উঠেছে আবাসিক ও ঘনবসতি এলাকায়। ফলে মালিকরা খুব সহজে ও অল্প টাকায় নারী ও শিশু শ্রমিক পান। তাই দিনে-রাতে সমানতালে চলে কাজ। যত্রতত্র ময়লা স্থানে গুলের পাউডার রেখে শ্রমিকরা কৌটায় ভরছে। আবার কেউ কেউ কৌটায় লেবেল লাগাচ্ছে। তাদের হাতে-পায়ে নেই কোন রক্ষাকারী সামগ্রী। বাতাসের মাধ্যমে গুলের পাউডারগুলো ছড়াচ্ছে এলাকায়। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সৈয়দপুরের তৈরি গুলের চাহিদা অনেক বেশি। দুই টাকা দামের গুল একটু বড় কৌটায় ভরে এখন বিক্রয় হচ্ছে ৫ টাকায়।
শহরের বাঁশবাড়ী এলাকার কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার চারপাশে গুলের কারখানা গড়ে উঠেছে। এই কারখানাগুলো উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করে কোন লাভ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই নিজের ও সন্তানের কথা চিন্তা করে ওই এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছি।

 

গুল ব্যবহারকারী নূরুল হুদা বলেন, দাঁতে ব্যাথার কারনে শুরুতে গুল দিয়ে দাঁত মাজা শুরু করি। পরে ধীরে ধীরে গুল আসক্তি শুরু হয়। শেষমেশ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যা নেশায় পরিনত হয়ে গেছে। এখন আর ইচ্ছা করলেও ছাড়তে পারছিনা।
নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর কবীর জানান, তামাকের মধ্যে যত ক্ষতিকর পদার্থ এর সব আছে গুলের মধ্যে। বিড়ি ও সিগারেটের ধোঁয়ার মাধ্যমে নিকোটিনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ শরীরে প্রবেশ করায় এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। গুল সরাসরি মুখে সেবন করায় সকল প্রকার ক্ষতিকর পদার্থ শরীরের ভেতরে গিয়ে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। যা খুব দ্রæত নার্ভের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। গুল সেবনের কারণে মুখে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। অনেকে আছেন যারা সারাক্ষণ মুখে গুল রেখে দেন। যে স্থানে নিয়মিত গুল লাগানো থাকে ধীরে ধীরে সেই স্থানটিতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই ক্ষত স্থানটি ক্যান্সারে রূপ নেয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের (সংশোধিত ২০০৯) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনের ১০ ধারায় সকল প্রকার তামাকজাত পণ্যে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কতাবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ সিগারেট কোম্পানি সিগারেটের প্যাকেটের দু’পাশে অর্ধেক জায়গাজুড়ে বীভৎস ছবি দিলেও গুলের কৌটার লেবেলে এখনও বীভৎস ছবি সংবলিত সতর্কবাণী দেয়া হয়নি। সিগারেটের প্যাকেটে বীভৎস ক্যান্সারের ছবি দেয়ার পর ধীরে ধীরে মানুষ সচেতন হয়ে উঠছে। আর গুলসহ ধোঁয়াবিহীন অন্যান্য তামাক জাত পণ্যে এখনও এই ছবি সংযোজন না করায় মানুষজন এর কুফল না ভেবে যথেচ্ছভাবে এগুলো সেবন করে আসছে।