
এস এ ডিউক ভূঁইয়া,
তিতাস(কুমিল্লা)প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের সাগরফেনা গ্রামের প্রতিবন্ধীর দোকানসহ ৩টি বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে প্রথমে প্রতিবন্ধী মহসিন মিয়ার দোকানে আগুনের শিখা দেখে একই গ্রামের বাবু মিয়া ডাক চিৎকার শুরু করে।তখন তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন বেরিয়ে আসে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে ।
শত চেষ্টা করেও দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের ভয়ে কেউ সামনে এগোতে পারেনি। তখন একে একে আরও তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আরো জানা যায়, তাৎক্ষণিক ৯৯৯ ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিলেও গাজীপুর – জগতপুর রাস্তার বেহাল দশার কারণে সময়মতো ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রতিবন্ধী দোকানদার মহসিন মিয়া (২৫) জানান, আমার একমাত্র সম্বল,আমার দোকান, আমি ঠিক মত চলাফেরাও করতে পারিনা খুব কষ্ট করে এই দোকানটিকে সাজিয়েছিলাম আজ আগুনে পুড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া বসত ঘরের মালিক আব্দুল খালেক মিয়া (৭০)জানান, আমার বসবাস করার মতো সম্বল ঘরটিই ছিল। এ ছাড়া আর আমার কিছু নেই, আমি এই বৃদ্ধ বয়সে কোথায় থাকবো।
আমার প্রায় ২০/২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি মাথা গোছানোর জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। রাশিদা আক্তার (৫০)জানান, আমার স্বামী নাই আমি এখনো গার্মেন্টসে কাজ করি। আমার একমাত্র সম্বল একটি দোচালা ও একটি চার চালা ঘর। এই ঘরে আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেছিলাম। আমার প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।আমি এখন কোথায় যাব? আমার ও আমার পরিবারের মাথা গোছানোর জন্য সকলের কাছে সহযোগিতা চাই।
অটোরিক্সার মালিক মকবুল হাসান মনা বলেন, আমার এই অটোরিকশাটি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একসপ্তাহ আগে কিস্তিতে কিনে এনেছি, আজকে রিক্সাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আমি কিভাবে সংসার ও কিস্তি পরিশোধ করবো বলেই ভেঙে পড়েন তিনি। তবে অনেকেই ধারণা করেন ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সটি চার্জে থাকার কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। খবর শুনে তাৎক্ষণিক তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ সুধীন চন্দ্র দাস ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

























