Dhaka , Thursday, 5 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রোহিঙ্গা পরিচয়ের অভিযোগে ফায়সালের ভুয়া এনআইডি-পাসপোর্ট, রাঙ্গুনিয়ায় আটক মাদক সেবনের দায়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলী আহম্মেদকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও বহিষ্কার কুড়িগ্রামে ১১৭০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার, একজনের বিরুদ্ধে ২০টি মাদক মামলা ‘এই পৃথিবীর জন্য বড্ড নরম মনের মানুষ আমি’: মেঘনা আলম পাইকগাছায় নাশকতা, জুয়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪ বি‌লে‌তের মা‌টি‌তে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ ও গুণীজন সম্মাননা ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষককে বিদায় সংবর্ধনা:: সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত, পুলিশের গাড়িতে আগুন, ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সিলেট টেস্টে ব্যাটিং অর্ডারে রদবদলের ইঙ্গিত, তিনে নামতে পারেন অধিনায়ক ১৯ বছরেই এমবাপ্পেকে টপকে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ ‘মিথ্যা’: সংবাদ সম্মেলনে সেলিম উদ্দিন খাগড়াছড়িতে ৫৫তম পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত, ‘গিরিস্বপ্ন ২০২৬’-এর মোড়ক উন্মোচন রূপগঞ্জ পূর্বাচলের ৩০০ ফুটে প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি \ চালকসহ তিন জন গ্রেফতার সীতাকুণ্ডে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে সচিবকে ডিসির চিঠি, ২৪ ঘণ্টায় নানা পদক্ষেপ আসামে উচ্ছেদ অভিযানে গৃহহীন ৪ হাজার বাঙালি মুসলিম ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের আহ্বান জিএম কাদেরের জয়পুরহাটে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান একনেক সভায় বিসিসির জন্য ৭০১ কোটি টাকা অনুমোদন : অবহেলিত থেকে গেল দক্ষিণাঞ্চল মধুপুরে সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিচ্ছে জাইকা, চট্টগ্রামে নির্মিত হবে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সাভারে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০ ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ নারায়ণগঞ্জে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ কালিয়াকৈরে শ্রমিকের আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন নেত্রকোনার পূর্বধলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

তথ্যমন্ত্রীর সফরকে বানচাল করতে ফ্যাসিবাদী দোসরদের সার্কিট হাউজে মব সৃষ্টি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:25:22 pm, Saturday, 7 March 2026
  • 200 বার পড়া হয়েছে

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, চট্টগ্রামের সফরকে বানচাল করতে ফ্যাসিবাদের দোসর কতিপয় নামধারী সাংবাদিক সার্কিট হাউজে মব সৃষ্টি করে উত্তেজনা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। তারা নিজেরা গায়ে পড়ে ঝগড়া বাঁধিয়ে পরিস্থিতি তৈরির জন্য তথ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের লোকজন সার্কিট হাউস চত্বর ত্যাগ করতে বললেও তারা উপর্যুপরি ঘুরে ঘুরে এসে বারবার ফিরে এসে সাংবাদিকদের সাথে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হয় এবং ঝগড়াঝাঁটি পরিস্থিতি তৈরির জন্য অপচেষ্টা চালায়।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একই সাথে ছাত্র-জনতা হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মূলত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে একের পর এক ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকতার নামে বিগত ৪০ বছর ধরে দুর্নীতি এবং দুর্বৃত্তপনার যে সিন্ডিকেট প্রেসক্লাবকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছিল, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী তার দখল হারিয়ে তারা এখন উন্মাদের মতো প্রলাপ বকছে। সাংবাদিকদেরকে দুর্বৃত্ত, ডাকাত বলার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এরাই প্রেসক্লাবের পরিচালনা কমিটির নামে বা প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব নামে জাতীয় পার্টির নেতা-মন্ত্রী ও এমপিদের চাটুকারিতা করেছে। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১, ২০০৭ পর্যন্ত বিএনপি নেতা-মন্ত্রীদের চাটুকারি করেছে, তাদের পদলেহন করেছে, সুযোগ-সুবিধা আদায় করেছে। একইভাবে বিগত ১৭ বছর ধরে কন্টিনিউয়াস আওয়ামী লীগের নেতাদের পা চাটছে।

শুধু তাই নয়, বিগত ১৭ বছর প্রেস ক্লাবে অন্য কোনো মতাদর্শের মানুষকে নেতৃত্বে আসতে দেয়নি, অন্য কোনো মতাদর্শের সাংবাদিকদের সদস্য তেমন একটা করা হয় নাই। এখানে বিগত ৪০ বছর প্রেসক্লাবের এমন একজন সভাপতি আছে যার অফিসের পিয়ন, তার পত্রিকার একাউন্ট্যান্ট এবং জীবনে কোনো দিন এক মিনিটের জন্য কোনো পত্রিকায় সাংবাদিকতা করে নাই—এমন একজন লোককে প্রেসক্লাবের মেম্বার বানিয়েছে তাদের পকেট ভোটের জন্য। এরকম আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যারা সাংবাদিকদের হাউজিং সোসাইটির কবরস্থানের জায়গা নিজেদের স্ত্রীর নামে করে, আবার বাইরে বিক্রি করে—ওরা আবার এখন বিশাল সাংবাদিক নেতা। এইসব সাংবাদিক নেতাদের কারণেই চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব একটা কুক্ষিগত কোটারি ভিত্তিক সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। তাদের কোটারি ভঙ্গ হবে বলে, তাদের পকেট নষ্ট হয়ে যাবে বলে তারা এখানে পেশাজীবী সাংবাদিকদের কখনো মেম্বারশিপ দেয় নাই। এইসব কোটারি, এইসব লুটেরা, এইসব কবরখেকোদেরকে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করেছি বলেই আজকে তাদের মাথাব্যথা হয়েছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করে আমরা অতীতে দেখেছি, বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে বিজ্ঞাপন নেওয়া, টাকা নেওয়া। একইভাবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে যে পরিমাণ মাসোহারা পেত, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এখন ওরা পাগলা কুকুরের মতো হয়ে গেছে। ওদেরকে আমরা চিহ্নিত করেছি, ওরা আর প্রেসক্লাবে ঢুকতে পারবে না। আর প্রেসক্লাবের স্পেসে যাদের অফিস আছে, তারা যদি প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে যায়, আমরা তাদেরকে এখান থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করব। এখানে আমরা অনেককে জানি সরকারি স্কুলে ভর্তি বাণিজ্য করে। যে জীবনে ক্যামেরাম্যান ছাড়া কখনো সাংবাদিকতা করে নাই। কোন সরকারি অফিসে, কোন শিল্পপতির কাছে কী সাপ্লাই দেয়, এটা চট্টগ্রাম শহরের সবাই জানে। এইসব দুর্বৃত্তদেরকে আমরা এখান থেকে প্রতিহত করেছি, বের করে দিয়েছি, ওরা বাইরে থাকবে। কোনো মন্ত্রীর পা চেটে, কোনো এমপির পা চেটে এই প্রেসক্লাবে আসতে পারবে না। কারণ প্রেসক্লাব কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। যারা চাটুকার তারা বের হয়ে গেছে। সাধারণ সদস্য যারা, তারা প্রেসক্লাবের সদস্য আছে। তারা প্রেসক্লাবে আসবে, প্রেসক্লাবের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তাদের জন্য থাকবে।

এছাড়া নতুন করে যারা প্রফেশনাল সাংবাদিক, যারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিল, আমরা তাদেরকে মেম্বারশিপ দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও দেব। কোনো চাটুকারের, কোনো দলকানার, কোনো দলবাজের, কোনো চাঁদাবাজের, কোনো ভূমিখোর, কবরখেকোদের জায়গা প্রেসক্লাবে হবে না। আমরা তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো নেতাকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ২০১৮-র পর কোনো অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয় নাই। একইভাবে আজকের চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানকেও এখানে কোনো অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয় নাই। ওরা এখন গিয়ে বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রী-এমপিদের পা চাটা শুরু করেছে। এইসব চাটুকারকে আপনারা চিনে রাখুন। আমরা বিএনপির এমপি মন্ত্রীদের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাব, যারা বিগত ১৭ বছর আপনাদের মুখ দেখতে চায়নি, আপনাদের সম্মান জানায়নি, আপনাদের প্রেসক্লাবে প্রোগ্রাম করতে দেয়নি—এবং এটা বিএনপি এবং জামায়াতের নেতৃবৃন্দদেরকে অনুরোধ করব—প্রেসক্লাবের নাম দিয়ে যেসব চাটুকার ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের চাটুকারিতা করেছে, তাদেরকে আপনারা কোনোভাবে আশ্রয় এবং প্রশ্রয় দিবেন না।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা পরিচয়ের অভিযোগে ফায়সালের ভুয়া এনআইডি-পাসপোর্ট, রাঙ্গুনিয়ায় আটক

তথ্যমন্ত্রীর সফরকে বানচাল করতে ফ্যাসিবাদী দোসরদের সার্কিট হাউজে মব সৃষ্টি

আপডেট সময় : 12:25:22 pm, Saturday, 7 March 2026

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, চট্টগ্রামের সফরকে বানচাল করতে ফ্যাসিবাদের দোসর কতিপয় নামধারী সাংবাদিক সার্কিট হাউজে মব সৃষ্টি করে উত্তেজনা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। তারা নিজেরা গায়ে পড়ে ঝগড়া বাঁধিয়ে পরিস্থিতি তৈরির জন্য তথ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের লোকজন সার্কিট হাউস চত্বর ত্যাগ করতে বললেও তারা উপর্যুপরি ঘুরে ঘুরে এসে বারবার ফিরে এসে সাংবাদিকদের সাথে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হয় এবং ঝগড়াঝাঁটি পরিস্থিতি তৈরির জন্য অপচেষ্টা চালায়।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একই সাথে ছাত্র-জনতা হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মূলত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে একের পর এক ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকতার নামে বিগত ৪০ বছর ধরে দুর্নীতি এবং দুর্বৃত্তপনার যে সিন্ডিকেট প্রেসক্লাবকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছিল, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী তার দখল হারিয়ে তারা এখন উন্মাদের মতো প্রলাপ বকছে। সাংবাদিকদেরকে দুর্বৃত্ত, ডাকাত বলার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এরাই প্রেসক্লাবের পরিচালনা কমিটির নামে বা প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব নামে জাতীয় পার্টির নেতা-মন্ত্রী ও এমপিদের চাটুকারিতা করেছে। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১, ২০০৭ পর্যন্ত বিএনপি নেতা-মন্ত্রীদের চাটুকারি করেছে, তাদের পদলেহন করেছে, সুযোগ-সুবিধা আদায় করেছে। একইভাবে বিগত ১৭ বছর ধরে কন্টিনিউয়াস আওয়ামী লীগের নেতাদের পা চাটছে।

শুধু তাই নয়, বিগত ১৭ বছর প্রেস ক্লাবে অন্য কোনো মতাদর্শের মানুষকে নেতৃত্বে আসতে দেয়নি, অন্য কোনো মতাদর্শের সাংবাদিকদের সদস্য তেমন একটা করা হয় নাই। এখানে বিগত ৪০ বছর প্রেসক্লাবের এমন একজন সভাপতি আছে যার অফিসের পিয়ন, তার পত্রিকার একাউন্ট্যান্ট এবং জীবনে কোনো দিন এক মিনিটের জন্য কোনো পত্রিকায় সাংবাদিকতা করে নাই—এমন একজন লোককে প্রেসক্লাবের মেম্বার বানিয়েছে তাদের পকেট ভোটের জন্য। এরকম আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যারা সাংবাদিকদের হাউজিং সোসাইটির কবরস্থানের জায়গা নিজেদের স্ত্রীর নামে করে, আবার বাইরে বিক্রি করে—ওরা আবার এখন বিশাল সাংবাদিক নেতা। এইসব সাংবাদিক নেতাদের কারণেই চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব একটা কুক্ষিগত কোটারি ভিত্তিক সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। তাদের কোটারি ভঙ্গ হবে বলে, তাদের পকেট নষ্ট হয়ে যাবে বলে তারা এখানে পেশাজীবী সাংবাদিকদের কখনো মেম্বারশিপ দেয় নাই। এইসব কোটারি, এইসব লুটেরা, এইসব কবরখেকোদেরকে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করেছি বলেই আজকে তাদের মাথাব্যথা হয়েছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করে আমরা অতীতে দেখেছি, বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে বিজ্ঞাপন নেওয়া, টাকা নেওয়া। একইভাবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে যে পরিমাণ মাসোহারা পেত, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এখন ওরা পাগলা কুকুরের মতো হয়ে গেছে। ওদেরকে আমরা চিহ্নিত করেছি, ওরা আর প্রেসক্লাবে ঢুকতে পারবে না। আর প্রেসক্লাবের স্পেসে যাদের অফিস আছে, তারা যদি প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে যায়, আমরা তাদেরকে এখান থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করব। এখানে আমরা অনেককে জানি সরকারি স্কুলে ভর্তি বাণিজ্য করে। যে জীবনে ক্যামেরাম্যান ছাড়া কখনো সাংবাদিকতা করে নাই। কোন সরকারি অফিসে, কোন শিল্পপতির কাছে কী সাপ্লাই দেয়, এটা চট্টগ্রাম শহরের সবাই জানে। এইসব দুর্বৃত্তদেরকে আমরা এখান থেকে প্রতিহত করেছি, বের করে দিয়েছি, ওরা বাইরে থাকবে। কোনো মন্ত্রীর পা চেটে, কোনো এমপির পা চেটে এই প্রেসক্লাবে আসতে পারবে না। কারণ প্রেসক্লাব কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। যারা চাটুকার তারা বের হয়ে গেছে। সাধারণ সদস্য যারা, তারা প্রেসক্লাবের সদস্য আছে। তারা প্রেসক্লাবে আসবে, প্রেসক্লাবের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তাদের জন্য থাকবে।

এছাড়া নতুন করে যারা প্রফেশনাল সাংবাদিক, যারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিল, আমরা তাদেরকে মেম্বারশিপ দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও দেব। কোনো চাটুকারের, কোনো দলকানার, কোনো দলবাজের, কোনো চাঁদাবাজের, কোনো ভূমিখোর, কবরখেকোদের জায়গা প্রেসক্লাবে হবে না। আমরা তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো নেতাকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ২০১৮-র পর কোনো অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয় নাই। একইভাবে আজকের চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানকেও এখানে কোনো অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয় নাই। ওরা এখন গিয়ে বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রী-এমপিদের পা চাটা শুরু করেছে। এইসব চাটুকারকে আপনারা চিনে রাখুন। আমরা বিএনপির এমপি মন্ত্রীদের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাব, যারা বিগত ১৭ বছর আপনাদের মুখ দেখতে চায়নি, আপনাদের সম্মান জানায়নি, আপনাদের প্রেসক্লাবে প্রোগ্রাম করতে দেয়নি—এবং এটা বিএনপি এবং জামায়াতের নেতৃবৃন্দদেরকে অনুরোধ করব—প্রেসক্লাবের নাম দিয়ে যেসব চাটুকার ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের চাটুকারিতা করেছে, তাদেরকে আপনারা কোনোভাবে আশ্রয় এবং প্রশ্রয় দিবেন না।