Dhaka , Friday, 6 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ ভবনের একাধিক কক্ষে চুরি, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা গণহত্যাকারীদের এই দেশে রাজনীতির সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকল্প নেই: ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী সীতাকুণ্ডে মাইশার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক লরি চালক গ্রেফতার টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি রূপগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী’র মেয়র প্রার্থী’র প্রচারণা শুরু রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা দুই আন্তর্জাতিক আয়োজন সামনে রেখে নতুন রূপে সাজানো হবে সিলেট স্টেডিয়াম কালিয়াকৈরে শিল্পাঞ্চল পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পর অনেকটায় স্বাভাবিক হাসানের ছয় উইকেটের পরও চাপে বাংলাদেশ, দিন শেষে ২৬৮ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকেরা গায়ের জোরে দেশ চালাচ্ছে সরকার:নাহিদ ইসলাম দীঘিনালার পনছড়ি বন বিহারে চতুর্থবারের মতো কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত কারো গোলায় নয়, ঘরে ঘরে সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছেন শিরিন: নতুন বরাদ্দ নিয়ে নগরজুড়ে স্বপ্নবুনন চলছে ধর্মপাশায় পলাতক এক আসামি গ্রেপ্তার মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত শিল্পায়নে অবকাঠামো গড়বে সরকার: প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের পর্তুগিজ সমাজে ইন্টিগ্রেশনে দূতাবাসের পাশে থাকবে পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাব নোয়াখালীতে অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু জামিনের পর ‘অশালীন ভাষায়’ দুই শব্দের পোস্ট পরীমনির রোনালদোকে বিশেষ সংবর্ধনা দেবে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক যাচ্ছেন ছাত্রদল নেতা আবু হাসান নাহিয়ান ৪ দেশের জন্য হরমুজের দরজা খুলে দিল ইরান বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক পাইকগাছায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ উদ্বোধন এনসিপিকে কড়া বার্তা সামান্তা শারমিনের নেত্রকোণায় ডিএনসির মাদকবিরোধী অভিযান: ২০ লাখ টাকার ফেনসিডিলসহ আটক ১ অক্টোবরজুড়ে পাইকগাছা থানা পুলিশের অভিযান: ৪৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজা মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত শিল্পায়নে অবকাঠামো গড়বে সরকার: প্রধানমন্ত্রী জ্যাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৩৫ সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন কক্সবাজারের সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের নেতারা রূপগঞ্জে ঢাকা বাইপাস সড়কের আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন ও অবরোধ

কারো গোলায় নয়, ঘরে ঘরে সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছেন শিরিন: নতুন বরাদ্দ নিয়ে নগরজুড়ে স্বপ্নবুনন চলছে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:05:49 pm, Friday, 6 November 2026
  • 4 বার পড়া হয়েছে

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক

বরিশাল এখন শিরিনময়। একনেক সভায় ৭০১ বা ৭৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হওয়ামাত্র বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন স্বপ্ন বুনন। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন সমর্থক দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে উৎসব আমেজ। কেউ কেউ মিষ্টিও বিতরণ করেছেন। আর স্থানীয় অনেক পত্রিকা মনোমুগ্ধকর ও প্রশংসনীয় শিরোনামে নগরীকে শিরিনময় করে তুলেছে। তাদের বাহারি শিরোনামের একটি – “শিরিনের গোলায় পাকা ধান।”
যদিও বরিশাল সিটি করপোরেশন (বসিক) এর প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলছেন ভিন্নকথা। তিনি বলেন, আমার কোনো অর্জনই আমার নয়, বরিশালের জন্য। বরিশালের মানুষের জন্য।
তাই স্বাভাবিক ভাবেই বলা যায়, শিরিনের গোলায় নয়, এগুলো চালে পরিণত করে বরিশালবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শিরিন। যে কারণে এই প্রকল্প অনুমোদন হওয়া মাত্রই তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করে লিখেছেন আলহামদুলিল্লাহ। এরপর বলেছেন, এই বরাদ্দের সুফল পৌঁছে যাবে নগরীর প্রতিটি মানুষের দুয়ারে।
আর এ কাজ করতে গিয়ে পাকা ধানে মই দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা বা সিদ্ধান্ত যেন নগরবাসীর স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে সচেতন নাগরিকদেরও।
দীর্ঘ অবহেলা ও বঞ্চনার পর ৭৩০ কোটি টাকার নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন নগরজুড়ে এমনই স্বপ্ন বুনন শুরু হয়েছে। সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, খাল দখল, দূষণ, বেহাল সড়ক, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার নানা সংকটে জর্জরিত বরিশাল নগরবাসীর কাছে নতুন প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে বড় আশার খবর। গত ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মোট ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে বরিশাল অন্যতম ছিলো। এসময় একনেকে উপস্থিত ছিলেন বসিক প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনও।
প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩০টি খাল এবং ১০টি পুকুর ও লেক পুনরুদ্ধার, পুনঃখনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণ করা হবে ১৯টি নান্দনিক ঘাটলা। পাশাপাশি ৫৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প ব্যয়ের ৯০ শতাংশ সরকার এবং অবশিষ্ট ১০ শতাংশ, অর্থাৎ ৭৩ কোটি টাকা সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০টি খালের পাড় সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি অন্য খালগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ রয়েছে। খালগুলোর সঙ্গে কীর্তনখোলা নদীর জোয়ার-ভাটার পানির স্বাভাবিক সংযোগ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
একসময় অসংখ্য খাল, পুকুর ও নদীবেষ্টিত বরিশালকে বলা হতো প্রাচ্যের ভেনিস। নগরীর বুক চিরে বয়ে চলা খালগুলো ছিল পানি নিষ্কাশন, নৌযোগাযোগ, পরিবেশের ভারসাম্য ও নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে সেই ঐতিহ্য আজ বিপন্ন। নগরীর ৪৬টি খাল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরিকল্পনা ও প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে সব খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ১১টি খাল পুনরুদ্ধারের ঘোষণা হলেও জীবিত পাওয়া গেছে সাতটি খাল।
এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডও সাতটি খালের প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশ খননে প্রায় সাত কোটি টাকার উদ্যোগ নিয়েছিল। সাগরদী, চাঁদমারী, ভাটার, জেল, আমানতগঞ্জ, পলাশপুর ও রূপাতলী খাল ছিল সেই পরিকল্পনায়। কিন্তু অতীতের এসব উদ্যোগের পরও খাল দখল ও পানিপ্রবাহের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ২০২৩ সালে এসব খালের উপর থেকে অনেক কালভার্ট ও পুল ভেঙে দেওয়া হলেও রাতারাতি তা এখন দিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে সাগরদি দরগাবাড়ি থেকে টিয়াখালি খালে এরকম অসংখ্য পুল ও কালভার্ট চোখে পড়ে। ফলে নতুন প্রকল্পটি কেবল অর্থ বরাদ্দের খবর নয়, বরং অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার একটি বড় পরীক্ষা। এ ক্ষেত্রে প্রশাসক শিরিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে সচেতন নাগরিক সমাজের অনেকেই মনে করেন, প্রকল্প অনুমোদনই সাফল্যের শেষ কথা নয়। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু, স্বচ্ছ দরপত্র, মানসম্মত বাস্তবায়ন, ব্যয়ের জবাবদিহি এবং খালগুলোর স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর। নির্দিষ্ট ও চিহ্নিত হাতেগোনা কয়েকজন ঠিকাদার বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেন উল্লেখযোগ্য হয়ে না ওঠে সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে বলে জানান একাধিক শিরিন সমর্থক নগরবাসী। অর্থাৎ বলা যায়, নগরবাসীর অনেকেই এখন শিরিন নির্ভর এবং আগামীর নগরমাতা হিসেবে তার প্রতি আস্থা রাখতে চাইছেন তারা। বিশেষ করে সমস্যা জানামাত্রই তাৎক্ষণিক বিভিন্ন ওয়ার্ডের শিরিনের ছুটে যাওয়া ও সমস্যা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি নগরবাসী পছন্দ করেছেন। তার সাম্প্রতিক প্রশাসনিক তৎপরতায় নগরবাসীর প্রত্যাশা বাড়ার আরো কিছু কারণও রয়েছে। নগরীর রূপাতলী হাউজিংয়ের ডি-ব্লক সংলগ্ন লেকটি ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়ার পর তার নির্দেশনায় সেটি পুনরায় পরিষ্কার করা হয়েছে। ছোট পরিসরের হলেও এ উদ্যোগের তাৎপর্য অনেক। কারণ নগরীর লেক, পুকুর ও জলাধার সংরক্ষণে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না থাকলে বড় প্রকল্পের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বসিকের উদ্যোগ দেখা গেছে। গত ৩ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে এইচপিভি সংক্রমণ প্রতিরোধ ও রুটিন টিকাদান কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রশাসক শিরিন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রচার, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর এতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নগর প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু রাস্তা-ড্রেন নির্মাণ নয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাও যে তার অংশ, এ উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।
গত ৪ নভেম্বর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাবাড়ি এলাকার আব্দুল হামিদ সড়কের বেহাল অবস্থা ও ড্রেন পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসক। একই দিন পোর্ট রোড এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগও নেওয়া হয়। পরদিন ৫ নভেম্বর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের মদিনা মসজিদ সংলগ্ন তালুকদার বাড়ির মোড় এবং জিয়া সড়কের বাংলালিংক টাওয়ার এলাকায় দরপত্র বাতিলের পরও অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও পাইপ ফেলে রাখার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে পাইপ জব্দ ও অপসারণ করা হয়।
এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন অভিযান হলেও নগরবাসীর কাছে প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নগর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা বজায় থাকবে। তবে এখানে প্রশাসনের সামনে এখনো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হকার পুনর্বাসন। অতীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগের পাশাপাশি হকারদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের প্রশ্নে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো কোনো সমাধানের মুখ দেখেনি। নগর ভবনের পিছনে ও কেডিসি রোডের হকারেরা এখনো তাকিয়ে আছেন প্রশাসক শিরিনের মুখের দিকে। এটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে জানান নগর চিন্তাবিদ কাজী মিজানুর রহমান ও শাহ সাজেদা দুজনেই। তাদের মতে, নগরীর ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা যেমন জরুরি, তেমনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও মানবিক ও বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনা করতে হবে। বিকল্প ব্যবসাস্থল, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং আলোচনার মাধ্যমে পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে শুধু উচ্ছেদ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বরং এক এলাকার সমস্যা অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন তারা।
তাদের এই বক্তব্য বিশ্লেষণে বলা যায়, উন্নয়নের নামে পাকা ধানে মই দেওয়ার মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে প্রশাসক শিরিনকে। আর এটিও নগরবাসীর একান্ত প্রত্যাশা।
নগরবাসিদের কেউ কেউ বলেন, প্রশাসক হিসেবে শিরিনের সামনে এখন সুযোগ এসেছে নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর। তবে এই সুযোগের সঙ্গে দায়িত্বও অনেক বড়। ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে খাল পুনরুদ্ধারের নামে যেন নতুন করে দখলদারিত্বের সুযোগ তৈরি না হয়, খালের সীমানা নির্ধারণে যেন কোনো প্রভাবশালী মহলের কাছে প্রশাসন নতি স্বীকার না করে, ড্রেন নির্মাণে যেন নিম্নমানের কাজ না হয় এবং প্রকল্পের অর্থ যেন অপচয় না হয়, এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন হবে।
অর্থাৎ নগরবাসী শুধু নান্দনিক ওয়াকওয়ে, আলোকসজ্জা কিংবা সৌন্দর্যবর্ধন দেখতে চায় না। তারা চায় বর্ষায় ঘরে পানি উঠবে না, বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাবে, খালের পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াবে না, মশার উপদ্রব থেমে রক্ষা হবে, চলাচলের রাস্তা চলাচলযোগ্য থাকবে এবং নাগরিক সেবা সহজলভ্য হবে। উন্নয়নের সুফল যেন শুধু নগরীর অভিজাত এলাকা কিংবা দৃশ্যমান সড়ক কেন্দ্রিক না হয়ে ৩০টি ওয়ার্ডের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে যায়।
বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের প্রশাসনিক উদ্যোগ, নতুন প্রকল্পের অনুমোদন এবং সাম্প্রতিক অভিযান নগরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। এখন সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পালা। প্রশংসা যেমন কাজের স্বীকৃতিতে আসবে, সমালোচনাও থাকবে নাগরিক স্বার্থের প্রশ্নে। শেষ পর্যন্ত শিরিনের সাফল্য নির্ধারিত হবে কত বড় প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে তা দিয়ে নয়, বরং সেই প্রকল্পের সুফল কতটা সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছেছে তা দিয়ে। গোলায় ধান উঠলেই যেমন কৃষকের মুখে হাসি ফোটে না, তেমনি প্রকল্প অনুমোদন হলেই নগরবাসীর দুর্ভোগের অবসান হবে না। পাকা ধানের সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হলে উন্নয়নের মইটি হতে হবে সবার জন্য সমান, কারও ক্ষতির কারণ হয়ে নয়। আর এখানেই নিশ্চিত হবে শিরিনের আগামীর জয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ ভবনের একাধিক কক্ষে চুরি, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

কারো গোলায় নয়, ঘরে ঘরে সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছেন শিরিন: নতুন বরাদ্দ নিয়ে নগরজুড়ে স্বপ্নবুনন চলছে

আপডেট সময় : 08:05:49 pm, Friday, 6 November 2026

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক

বরিশাল এখন শিরিনময়। একনেক সভায় ৭০১ বা ৭৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হওয়ামাত্র বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন স্বপ্ন বুনন। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন সমর্থক দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে উৎসব আমেজ। কেউ কেউ মিষ্টিও বিতরণ করেছেন। আর স্থানীয় অনেক পত্রিকা মনোমুগ্ধকর ও প্রশংসনীয় শিরোনামে নগরীকে শিরিনময় করে তুলেছে। তাদের বাহারি শিরোনামের একটি – “শিরিনের গোলায় পাকা ধান।”
যদিও বরিশাল সিটি করপোরেশন (বসিক) এর প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলছেন ভিন্নকথা। তিনি বলেন, আমার কোনো অর্জনই আমার নয়, বরিশালের জন্য। বরিশালের মানুষের জন্য।
তাই স্বাভাবিক ভাবেই বলা যায়, শিরিনের গোলায় নয়, এগুলো চালে পরিণত করে বরিশালবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শিরিন। যে কারণে এই প্রকল্প অনুমোদন হওয়া মাত্রই তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করে লিখেছেন আলহামদুলিল্লাহ। এরপর বলেছেন, এই বরাদ্দের সুফল পৌঁছে যাবে নগরীর প্রতিটি মানুষের দুয়ারে।
আর এ কাজ করতে গিয়ে পাকা ধানে মই দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা বা সিদ্ধান্ত যেন নগরবাসীর স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে সচেতন নাগরিকদেরও।
দীর্ঘ অবহেলা ও বঞ্চনার পর ৭৩০ কোটি টাকার নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন নগরজুড়ে এমনই স্বপ্ন বুনন শুরু হয়েছে। সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, খাল দখল, দূষণ, বেহাল সড়ক, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার নানা সংকটে জর্জরিত বরিশাল নগরবাসীর কাছে নতুন প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে বড় আশার খবর। গত ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মোট ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে বরিশাল অন্যতম ছিলো। এসময় একনেকে উপস্থিত ছিলেন বসিক প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনও।
প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩০টি খাল এবং ১০টি পুকুর ও লেক পুনরুদ্ধার, পুনঃখনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণ করা হবে ১৯টি নান্দনিক ঘাটলা। পাশাপাশি ৫৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প ব্যয়ের ৯০ শতাংশ সরকার এবং অবশিষ্ট ১০ শতাংশ, অর্থাৎ ৭৩ কোটি টাকা সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০টি খালের পাড় সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি অন্য খালগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ রয়েছে। খালগুলোর সঙ্গে কীর্তনখোলা নদীর জোয়ার-ভাটার পানির স্বাভাবিক সংযোগ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
একসময় অসংখ্য খাল, পুকুর ও নদীবেষ্টিত বরিশালকে বলা হতো প্রাচ্যের ভেনিস। নগরীর বুক চিরে বয়ে চলা খালগুলো ছিল পানি নিষ্কাশন, নৌযোগাযোগ, পরিবেশের ভারসাম্য ও নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে সেই ঐতিহ্য আজ বিপন্ন। নগরীর ৪৬টি খাল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরিকল্পনা ও প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে সব খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ১১টি খাল পুনরুদ্ধারের ঘোষণা হলেও জীবিত পাওয়া গেছে সাতটি খাল।
এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডও সাতটি খালের প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশ খননে প্রায় সাত কোটি টাকার উদ্যোগ নিয়েছিল। সাগরদী, চাঁদমারী, ভাটার, জেল, আমানতগঞ্জ, পলাশপুর ও রূপাতলী খাল ছিল সেই পরিকল্পনায়। কিন্তু অতীতের এসব উদ্যোগের পরও খাল দখল ও পানিপ্রবাহের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ২০২৩ সালে এসব খালের উপর থেকে অনেক কালভার্ট ও পুল ভেঙে দেওয়া হলেও রাতারাতি তা এখন দিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে সাগরদি দরগাবাড়ি থেকে টিয়াখালি খালে এরকম অসংখ্য পুল ও কালভার্ট চোখে পড়ে। ফলে নতুন প্রকল্পটি কেবল অর্থ বরাদ্দের খবর নয়, বরং অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার একটি বড় পরীক্ষা। এ ক্ষেত্রে প্রশাসক শিরিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে সচেতন নাগরিক সমাজের অনেকেই মনে করেন, প্রকল্প অনুমোদনই সাফল্যের শেষ কথা নয়। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু, স্বচ্ছ দরপত্র, মানসম্মত বাস্তবায়ন, ব্যয়ের জবাবদিহি এবং খালগুলোর স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর। নির্দিষ্ট ও চিহ্নিত হাতেগোনা কয়েকজন ঠিকাদার বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেন উল্লেখযোগ্য হয়ে না ওঠে সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে বলে জানান একাধিক শিরিন সমর্থক নগরবাসী। অর্থাৎ বলা যায়, নগরবাসীর অনেকেই এখন শিরিন নির্ভর এবং আগামীর নগরমাতা হিসেবে তার প্রতি আস্থা রাখতে চাইছেন তারা। বিশেষ করে সমস্যা জানামাত্রই তাৎক্ষণিক বিভিন্ন ওয়ার্ডের শিরিনের ছুটে যাওয়া ও সমস্যা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি নগরবাসী পছন্দ করেছেন। তার সাম্প্রতিক প্রশাসনিক তৎপরতায় নগরবাসীর প্রত্যাশা বাড়ার আরো কিছু কারণও রয়েছে। নগরীর রূপাতলী হাউজিংয়ের ডি-ব্লক সংলগ্ন লেকটি ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়ার পর তার নির্দেশনায় সেটি পুনরায় পরিষ্কার করা হয়েছে। ছোট পরিসরের হলেও এ উদ্যোগের তাৎপর্য অনেক। কারণ নগরীর লেক, পুকুর ও জলাধার সংরক্ষণে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না থাকলে বড় প্রকল্পের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বসিকের উদ্যোগ দেখা গেছে। গত ৩ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে এইচপিভি সংক্রমণ প্রতিরোধ ও রুটিন টিকাদান কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রশাসক শিরিন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রচার, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর এতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নগর প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু রাস্তা-ড্রেন নির্মাণ নয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাও যে তার অংশ, এ উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।
গত ৪ নভেম্বর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাবাড়ি এলাকার আব্দুল হামিদ সড়কের বেহাল অবস্থা ও ড্রেন পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসক। একই দিন পোর্ট রোড এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগও নেওয়া হয়। পরদিন ৫ নভেম্বর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের মদিনা মসজিদ সংলগ্ন তালুকদার বাড়ির মোড় এবং জিয়া সড়কের বাংলালিংক টাওয়ার এলাকায় দরপত্র বাতিলের পরও অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও পাইপ ফেলে রাখার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে পাইপ জব্দ ও অপসারণ করা হয়।
এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন অভিযান হলেও নগরবাসীর কাছে প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নগর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা বজায় থাকবে। তবে এখানে প্রশাসনের সামনে এখনো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হকার পুনর্বাসন। অতীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগের পাশাপাশি হকারদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের প্রশ্নে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো কোনো সমাধানের মুখ দেখেনি। নগর ভবনের পিছনে ও কেডিসি রোডের হকারেরা এখনো তাকিয়ে আছেন প্রশাসক শিরিনের মুখের দিকে। এটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে জানান নগর চিন্তাবিদ কাজী মিজানুর রহমান ও শাহ সাজেদা দুজনেই। তাদের মতে, নগরীর ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা যেমন জরুরি, তেমনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও মানবিক ও বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনা করতে হবে। বিকল্প ব্যবসাস্থল, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং আলোচনার মাধ্যমে পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে শুধু উচ্ছেদ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বরং এক এলাকার সমস্যা অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন তারা।
তাদের এই বক্তব্য বিশ্লেষণে বলা যায়, উন্নয়নের নামে পাকা ধানে মই দেওয়ার মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে প্রশাসক শিরিনকে। আর এটিও নগরবাসীর একান্ত প্রত্যাশা।
নগরবাসিদের কেউ কেউ বলেন, প্রশাসক হিসেবে শিরিনের সামনে এখন সুযোগ এসেছে নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর। তবে এই সুযোগের সঙ্গে দায়িত্বও অনেক বড়। ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে খাল পুনরুদ্ধারের নামে যেন নতুন করে দখলদারিত্বের সুযোগ তৈরি না হয়, খালের সীমানা নির্ধারণে যেন কোনো প্রভাবশালী মহলের কাছে প্রশাসন নতি স্বীকার না করে, ড্রেন নির্মাণে যেন নিম্নমানের কাজ না হয় এবং প্রকল্পের অর্থ যেন অপচয় না হয়, এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন হবে।
অর্থাৎ নগরবাসী শুধু নান্দনিক ওয়াকওয়ে, আলোকসজ্জা কিংবা সৌন্দর্যবর্ধন দেখতে চায় না। তারা চায় বর্ষায় ঘরে পানি উঠবে না, বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাবে, খালের পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াবে না, মশার উপদ্রব থেমে রক্ষা হবে, চলাচলের রাস্তা চলাচলযোগ্য থাকবে এবং নাগরিক সেবা সহজলভ্য হবে। উন্নয়নের সুফল যেন শুধু নগরীর অভিজাত এলাকা কিংবা দৃশ্যমান সড়ক কেন্দ্রিক না হয়ে ৩০টি ওয়ার্ডের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে যায়।
বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের প্রশাসনিক উদ্যোগ, নতুন প্রকল্পের অনুমোদন এবং সাম্প্রতিক অভিযান নগরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। এখন সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পালা। প্রশংসা যেমন কাজের স্বীকৃতিতে আসবে, সমালোচনাও থাকবে নাগরিক স্বার্থের প্রশ্নে। শেষ পর্যন্ত শিরিনের সাফল্য নির্ধারিত হবে কত বড় প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে তা দিয়ে নয়, বরং সেই প্রকল্পের সুফল কতটা সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছেছে তা দিয়ে। গোলায় ধান উঠলেই যেমন কৃষকের মুখে হাসি ফোটে না, তেমনি প্রকল্প অনুমোদন হলেই নগরবাসীর দুর্ভোগের অবসান হবে না। পাকা ধানের সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হলে উন্নয়নের মইটি হতে হবে সবার জন্য সমান, কারও ক্ষতির কারণ হয়ে নয়। আর এখানেই নিশ্চিত হবে শিরিনের আগামীর জয়।