
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
নদী পথে যেকোনো নৌ দূর্ঘটনা ঘটলেই মনে পড়ে যায় এমভি নাসরিন-১ লঞ্চডুবির ঘটনা। ২০০৩ সালের ৮ জুলাই চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় এমভি নাসরিন-১ লঞ্চটি ডুবে যায়। প্রায় ৮ শতর বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ঢাকা থেকে ভোলার লালমোহন গন্তব্যস্হলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । লঞ্চটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৪০০ জনের থাকলেও কিন্তু সেসময় ৮ শতাধিক উপর যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে শুরু করে। এমভি নাসরিন-১ লঞ্চডুবির ঘটনায় সরকারি হিসাবে ১১০ জনের মৃত্যু ও প্রায় ২০০ জন নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হলেও, বেসরকারি ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যানুযায়ী ওই দুর্ঘটনায় প্রায় ৮ শতাধিক মানুষের সলিল সমাধি ঘটে।
এটি বাংলাদেশের নৌযান দুর্ঘটনার ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তবে ১৯৮৬ সালেও একবার ৭ শতাধিক উপর জন যাত্রী নিয়ে একই জায়গা ত্রিমোহনীতে লঞ্চডুবের দূর্ঘটনা ঘটে, সেসময় ৬০০ এর অধিক যাত্রীর প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে।
এমভি নাসরিন লঞ্চডুবির ঘটনার আজ ২৫ বছর পুণ্য হতে চলছে। বাংলাদেশে বিগত ৫৫ বছরেও নৌপথটি নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেনি বলে জানান, “নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলন সংগঠন”।
এমভি নাসরিন লঞ্চডুবির দূর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৮ জুলাই তারিখ “নিরাপদ নৌপথ দিবস” হিসেবে ঘোষণা করার দাবীতে সরকারের প্রতি কয়েকবার স্মারকলিপি ও মন্ত্রীর সাথেও বৈঠক হয় “নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলন সংগঠন কমিটির”। আলোচনা হয় নৌপথে গতিশীল অর্থনীতি: বাংলাদেশের নৌপথের অতিত, বর্তমান ও ভবিষৎ নিয়ে। এ দেশের বহু এলাকায় রেলপথ ও সড়কপথে যোগাযোগ সুবিধা নেই এখনও| আবার অনেক এলাকায় থাকলেও তা অনেক ঘুরপথ এবং বেশ ঝামেলাপূর্ণ। কোথাও লঞ্চ-স্টীমার এর মতো বড় নৌ-যান চলাচলে উপযোগী নৌপথও নেই। এসব এলাকায় নৌকাই সাচ্ছন্দ্য এবং সর্বাপেক্ষা পছন্দের বাহন। এখানকার
ভৌ-গোলিক প্রকৃতিতে বড় অংশ নিম্নাঞ্চল। সমগ্র দেশজুড়ে প্রবাহিত নদনদী, বিল, হাওর, খাল শিরা-
উপশিরার মত ছড়িয়ে আছে এদেশে।
বাংলাদেশ যেহেতু নদীমাতৃক দেশ, সেক্ষেত্রে নৌপথকে নৌপরিবহন জাতীয় হিসেবে ঘোষণা করারও দাবী জানিয়ে আসছে “নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলন সংগঠন”। বাংলাদেশের উপকুলী বিষয় নিয়ে নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলন এর সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বলেন, উপকূলীয় জেলাগুলোতে নৌপথ প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড স্থল হিসেবে এর প্রসার ঘটলেও নদীতীরবর্তী এলাকা এবং হাওর অঞ্চলে তেমন প্রসার ঘটেনি। হাওর অঞ্চলে অবস্থা আরো সমস্যা সংকুল। চরম
অব্যবস্থাপনা এমনকি সরকারের কাছেও এ সকল নৌপথ গুরুত্বহীন। যার প্রমাণ নদী ও হাওর অঞ্চলে ট্রলারডুবি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লঞ্চ দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু। যেগুলোকে নদীবন্দর হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ ও নিয়মিত যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে
এবং দীর্ঘমেয়াদে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাথে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংযোগ সুদৃঢ়
হয়েছে। এছাড়া দ্বীপাঞ্চলে নৌ․-পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। ইহা সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে আর গতিশীলতা বাড়াতে হবে।
নৌ-শুমারী বিষয়ে চট্টগ্রাম থেকে “কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদের” সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট কামাল পারভেজ বলেন, নৌ-শুমারী সঠিকভাবে করা হয়না, এখানে একটা গাফিলতি আছে। সরকারের দায়িত্ব থাকা দপ্তর গুলো একটা গা-সারা কর্তব্য পালন করেন। সঠিকভাবে তুলে আনতে নৌ-শুমারী এবং সেটা সরকারি গেজেট আকারে প্রতি বছর প্রকাশ করতে জনসাধারণের সামনে। ঠিক তদরুপ ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও একটা ধোঁয়াসার মধ্যেই থেকে যায়। আমাদের দাবী সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি গেজেট আকারে প্রকাশ করে তা জনসম্মুখে আনতে হবে।

























