
বিশেষ প্রতিবেদক,
বরিশাল জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়াতে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনে গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বিভাগের প্রধান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মহানগর ও জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জনসেবা এবং প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে জনগণের সেবক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে বরিশালের সরিকল-বাটাজোর খালের পাশে একটি পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে ঢেলে সাজানোর কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, রাজপথের নৈরাজ্যের রাজনীতির পরিবর্তে কার্যকর জাতীয় সংসদ গড়ে তোলা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদ যদি সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়, তাহলে রাজপথে নৈরাজ্য ফিরে আসার সুযোগ কমবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের বিশেষ সভায় তার এসব বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয় প্রয়োজন।
এর আগে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি সফর করেন। সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সরকারি স্থাপনা, আবাসন প্রকল্প ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বরিশালে রূপাতলী হাউজিং এস্টেট পরিদর্শনকালে তিনি সরকারি সম্পত্তি ও আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজ নেন।
দক্ষিণাঞ্চলের সফর শেষে বরিশালে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় তাঁর উপস্থিতি সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক তদারকির বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণকে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতা বাড়ানো এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয় এই সভায়। সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যাতে মানুষ হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মান, সময়মতো কাজ শেষ করা এবং সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহারের বিষয়েও তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মত দেওয়া হয়।
বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হয়। রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি থাকায় স্থানীয় সমস্যা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময়ের ক্ষেত্রও তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সভায় আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক প্রতিরোধ, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং জবাবদিহিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ায় এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে এসব বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন। নিয়মিত তদারকি ও সমন্বয় থাকলে সরকারি সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে।
বরিশালে বিশেষ এই সভার মাধ্যমে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মতামত ব্যক্ত করেন অতিথিবৃন্দ।

























