Dhaka , Tuesday, 22 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘পজিটিভ সরাইল’ এর উদ্যোগে সংবর্ধনা চবির দুই শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শোক কক্সবাজার সরকারি কলেজের মহিলা হোস্টেলে ২০ হাজার ইয়াবা, ছাত্রী গ্রেপ্তার ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকে এন্ট্রি নিয়েই হিট গ্যাংস্টার ইংলিশ লেবু বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার অপেক্ষায় সার্জিও আগুয়েরো! পাইকগাছায় ১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বাপ্পীর মতবিনিময় জাপানে ঘূর্ণিঝড় দুজুয়ানের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, ভূমিধসের শঙ্কা ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? সরকারকে ‘মেজরিটির ভূতে’ ধরেছে: গোলাম পরওয়ার বাস ভাড়া বাড়ানো নিয়ে বৈঠক ‘ডাকাতদের কাছে আইনজীবীদের নাম’—এসপির বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি সরকারের এক পার্সেন্ট জমিও ছাড় দেওয়া হবে না, পুনরুদ্ধার করা হবে: ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন চিকিৎসার ভরসাস্থলে চরম হতাশা:নানামুখী সংকটে ভুগছে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল পাইকগাছাকে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন উপজেলা গড়তে কাজ করছি: বাপ্পী পাইকগাছা পৌরসভা পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো শিশু অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমের করণীয় শীর্ষক কর্মশালা নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে আগুন মূল কারখানা ও উৎপাদন কার্যক্রম অক্ষত, হতাহতদের পাশে থাকার ঘোষণা কর্তৃপক্ষের অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন আজিজীর ভোলা সফর উপলক্ষে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের প্রস্তুতি সভা ২৬ সেপ্টেম্বর কাউখালী-বরিশাল সরাসরি বাস নেই, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী চন্দনাইশ-আনোয়ারায় রুবি সিমেন্টের সর্বোচ্চ পাইকারি বিক্রেতা হাজী মোহাম্মদ রফিক, পেলেন মোটরসাইকেল উপহার ইউনাইটেড ইয়ুথ ব্লাড ডোনেশন সোসাইটির উদ্যোগে ‘Youth Tech Connect’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত টেকনাফে বনভোজন শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, বিএনপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক বরিশালে কারখানার বর্জ্য ও নগরবাসীর পলিথিনে মরছে কীর্তনখোলা কালিয়াকৈরে হাফেজ আলীমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সুন্দরগঞ্জে পরপর তিন ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক সাতকানিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ২ ‘মক্কা জোট’ হবে এক যুগান্তকারী প্ল্যাটফর্ম: তুরস্ক কর আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির টম ক্রুজকে ফুটবল শেখালেন টেলর সুইফট, জানালেন কী কথা হয়েছিল

সংস্কারে নতুন রূপে ফিরছে আচার্য পিসি রায়ের জন্মভিটা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:28:57 pm, Saturday, 24 January 2026
  • 94 বার পড়া হয়েছে

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা:

বাংলার জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা ও মানবকল্যাণের ইতিহাসে যে ক’টি নাম চিরভাস্বর হয়ে আছে, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তাঁদের অন্যতম। উপমহাদেশের আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের পথিকৃৎ, শিল্পোদ্যোক্তা ও মানবতাবাদী এই মনীষীর স্মৃতিবাহী পৈতৃক ভিটা অবশেষে ফিরে পাচ্ছে তার হারানো গৌরব। খুলনা জেলার দক্ষিণে পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নে অবস্থিত আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক বসতভিটা বর্তমানে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।

১৮৬১ সালের ২ আগস্ট রাড়ুলী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী। তাঁর পিতা হরিশ্চন্দ্র রায় ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসচেতন একজন মানুষ। রাড়ুলীতে অবস্থিত হরিশ্চন্দ্র রায়ের এই পৈতৃক বাড়িতেই কেটেছে প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এখানেই গড়ে ওঠে তাঁর মনন, চিন্তা ও ভবিষ্যৎ জীবনপথের ভিত্তি। একারণে এই বাড়িটি শুধু একটি স্থাপনা নয়-এটি ইতিহাস, স্মৃতি ও আদর্শের এক জীবন্ত নিদর্শন।

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় রসায়নবিদ অধ্যাপক। তাঁর হাত ধরেই গড়ে ওঠে উপমহাদেশে আধুনিক রসায়ন গবেষণার ভিত। ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর “বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস” ছিল এশিয়ার প্রথম ওষুধ শিল্প, যা আজও তাঁর শিল্পদর্শনের সাক্ষ্য বহন করে। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান ইতিহাসে অনন্য।

কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুর স্রোতে শতবর্ষের বেশি পুরোনো এই ঐতিহাসিক বাড়িটি দীর্ঘদিন অবহেলা ও অযত্নে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। দেয়ালে ফাটল, খসে পড়া প্লাস্টার ও ভঙ্গুর কাঠামো যা বাড়িটিকে বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দেয়। ইতিহাসপ্রেমী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয় গভীর উদ্বেগ।

অবশেষে সেই আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক ভিটাকে সংরক্ষণ ও সংস্কারের আওতায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২২ জানুয়ারি) সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে চলমান সংস্কারকাজের মাধ্যমে বাড়িটি ধীরে ধীরে তার ঐতিহ্যবাহী রূপ ফিরে পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার কার্যক্রমে স্যার পি.সি. রায়ের বসতবাড়ির ৫টি কক্ষ, ২টি বারান্দা, বাহিরের প্লাস্টার, চারপাশের রং ও নান্দনিক নকশা নতুনভাবে নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। চলমান এই কাজ আগামী ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সংস্কার কার্যক্রম শুধু একটি বাড়ি রক্ষার উদ্যোগ নয়; এটি একটি ইতিহাস, একটি আদর্শ ও একটি প্রজন্মকে সংরক্ষণের প্রয়াস। সংস্কার সম্পন্ন হলে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক ভিটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যা দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারিভাবে এই স্থাপনাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে এখানে গবেষণা কেন্দ্র, জাদুঘর ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হলে নতুন প্রজন্ম আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জীবন, কর্ম ও মানবিক দর্শন সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হবে।

এ বিষয়ে রাড়ুলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হাসেম জানান, বাংলার এই গর্বিত সন্তানের স্মৃতি ও অবদান ধরে রাখতে তাঁর পৈতৃক ভিটা সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী, প্রশংসনীয় ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ-যা অতীতকে বাঁচিয়ে রেখে ভবিষ্যতের পথে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘পজিটিভ সরাইল’ এর উদ্যোগে সংবর্ধনা

সংস্কারে নতুন রূপে ফিরছে আচার্য পিসি রায়ের জন্মভিটা

আপডেট সময় : 12:28:57 pm, Saturday, 24 January 2026

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা:

বাংলার জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা ও মানবকল্যাণের ইতিহাসে যে ক’টি নাম চিরভাস্বর হয়ে আছে, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তাঁদের অন্যতম। উপমহাদেশের আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের পথিকৃৎ, শিল্পোদ্যোক্তা ও মানবতাবাদী এই মনীষীর স্মৃতিবাহী পৈতৃক ভিটা অবশেষে ফিরে পাচ্ছে তার হারানো গৌরব। খুলনা জেলার দক্ষিণে পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নে অবস্থিত আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক বসতভিটা বর্তমানে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।

১৮৬১ সালের ২ আগস্ট রাড়ুলী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী। তাঁর পিতা হরিশ্চন্দ্র রায় ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসচেতন একজন মানুষ। রাড়ুলীতে অবস্থিত হরিশ্চন্দ্র রায়ের এই পৈতৃক বাড়িতেই কেটেছে প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এখানেই গড়ে ওঠে তাঁর মনন, চিন্তা ও ভবিষ্যৎ জীবনপথের ভিত্তি। একারণে এই বাড়িটি শুধু একটি স্থাপনা নয়-এটি ইতিহাস, স্মৃতি ও আদর্শের এক জীবন্ত নিদর্শন।

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় রসায়নবিদ অধ্যাপক। তাঁর হাত ধরেই গড়ে ওঠে উপমহাদেশে আধুনিক রসায়ন গবেষণার ভিত। ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর “বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস” ছিল এশিয়ার প্রথম ওষুধ শিল্প, যা আজও তাঁর শিল্পদর্শনের সাক্ষ্য বহন করে। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান ইতিহাসে অনন্য।

কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুর স্রোতে শতবর্ষের বেশি পুরোনো এই ঐতিহাসিক বাড়িটি দীর্ঘদিন অবহেলা ও অযত্নে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। দেয়ালে ফাটল, খসে পড়া প্লাস্টার ও ভঙ্গুর কাঠামো যা বাড়িটিকে বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দেয়। ইতিহাসপ্রেমী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয় গভীর উদ্বেগ।

অবশেষে সেই আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক ভিটাকে সংরক্ষণ ও সংস্কারের আওতায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২২ জানুয়ারি) সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে চলমান সংস্কারকাজের মাধ্যমে বাড়িটি ধীরে ধীরে তার ঐতিহ্যবাহী রূপ ফিরে পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার কার্যক্রমে স্যার পি.সি. রায়ের বসতবাড়ির ৫টি কক্ষ, ২টি বারান্দা, বাহিরের প্লাস্টার, চারপাশের রং ও নান্দনিক নকশা নতুনভাবে নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। চলমান এই কাজ আগামী ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সংস্কার কার্যক্রম শুধু একটি বাড়ি রক্ষার উদ্যোগ নয়; এটি একটি ইতিহাস, একটি আদর্শ ও একটি প্রজন্মকে সংরক্ষণের প্রয়াস। সংস্কার সম্পন্ন হলে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক ভিটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যা দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারিভাবে এই স্থাপনাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে এখানে গবেষণা কেন্দ্র, জাদুঘর ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হলে নতুন প্রজন্ম আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জীবন, কর্ম ও মানবিক দর্শন সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হবে।

এ বিষয়ে রাড়ুলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হাসেম জানান, বাংলার এই গর্বিত সন্তানের স্মৃতি ও অবদান ধরে রাখতে তাঁর পৈতৃক ভিটা সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী, প্রশংসনীয় ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ-যা অতীতকে বাঁচিয়ে রেখে ভবিষ্যতের পথে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।