Dhaka , Tuesday, 11 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে সর্বনিম্ন নোয়াখালী, জেলায় শীর্ষে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রাজাপুরে চার বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, অসচ্ছল ৭ শিক্ষার্থী পেল শিক্ষা উপকরণ এসএসসিতে MCPSC-এর কৃতিত্ব, ৩৮৮ পরীক্ষার্থীর ২৪১ জনই জিপিএ-৫ সাইকেলের চাকায় জামশেদের জীবন বদলে দিলেন মানবিক ডিসি জাহিদ আওয়ামী লীগের নেতাদের গলায় ডেলিগেট কার্ড, ১৭ বছরের ত্যাগীরা রেডিসনের বাইরে—চট্টগ্রামে ‘কার্ড বাণিজ্য’ নিয়ে তোলপাড় চট্টগ্রাম নেত্রকোণায় মাদক ও বাল্যবিবাহ কে লাল কার্ড প্রদর্শন শিক্ষার্থীদের নরসিংদী নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসে এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়েছে রূপগঞ্জে মামলা করায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা-ভাংচুর ও হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন রূপগঞ্জে পিকনিক ট্রলারে মাদক ও নারী নিয়ে অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ার কারণে মুড়াপাড়া ইউপি সদস্যসহ ২০ জন গ্রেফতার রূপগঞ্জে পরিবেশ উন্নয়নে অভিযান, গাছের চারা রোপন, বিতরণ ও আলোচনা সভা ‘চতুর্থ বিয়েটা কবে করছেন?’, আমিরকে নেটিজেনের প্রশ্ন চোখের জলে বাবাকে শেষ বিদায় জানালেন মেসি কসোভোর সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কেনায় দারুণ সুযোগ রাষ্ট্রপতি হওয়ার গুঞ্জন, যা বললেন মির্জা ফখরুল এসএসসির ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করবেন যেভাবে মধুপুরে মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনার রূপগঞ্জে মাদকসেবীসহ ৩ জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড লক্ষ্মীপুরে গাছ কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান ডা:দিবালোক সিংহের চট্টগ্রাম ছাত্র কল্যাণ পরিষদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নেতৃত্বে কামাল-শরীফ ইমাম মোয়াজ্জেম কে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ আদায় করে বহিষ্কার হলেন বিএনপির ২ নেতা পানির নিচের গ্যাস পাইপে লিকেজ, নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরে সরবরাহ বন্ধ মধুপুরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা চন্দনাইশে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’র প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন: সেলাই মেশিন ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ রূপগঞ্জে পূবালী ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংকিং প্রডাক্ট সেলস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে সাহাপুর-মুশরী-তেলিপাড়া খাল সংস্কার কাজের উদ্বোধন মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে আশুগঞ্জে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সমাবেশ শরীয়তপুরে জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে মারধর, নারীসহ আহত ৩ ক্রিকেট তারকার সঙ্গে অভিনেত্রীর প্রেমের গুঞ্জন

প্লাস্টিকের স্রোতে ভাসছে উপকূল- সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসছে মানুষ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 11:49:42 am, Wednesday, 23 April 2025
  • 107 বার পড়া হয়েছে

প্লাস্টিকের স্রোতে ভাসছে উপকূল- সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসছে মানুষ

শওকত আলম, কক্সবাজার

বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে বাড়ছে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে উপচে পড়ছে বোতল, ব্যাগ, মোড়কসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। এতে যেমন হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জীবনযাপনও। সম্প্রতি উপকূলীয় একটি সৈকতে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি একাই সৈকত থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করছেন। এই একক প্রচেষ্টা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি তা আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রতিফলনও।
জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীর সমুদ্রে প্রায় ৮০ লাখ টন প্লাস্টিক পড়ে। এর বড় একটি অংশ আসে অব্যবস্থাপনার কারণে। প্লাস্টিকের এই বিষাক্ত জাল ফাঁদে পড়ে যায় মাছ, কচ্ছপ, পাখিসহ অসংখ্য প্রাণী। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলোতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ—নদীর সঙ্গে সমুদ্রেও পৌঁছে যাচ্ছে শহর থেকে আসা অব্যবস্থাপিত বর্জ্য।

কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, মহেশখালী, ভোলা, খুলনার দ্বীপাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সৈকতের চিত্র প্রায় এক—যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্যে ঢেকে গেছে বালুকাবেলা। অতিরিক্ত পর্যটক প্রবাহ ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিদিন বেড়েই চলেছে দূষণের মাত্রা।

 

প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে। এই প্রাণীগুলো মানুষের খাদ্য তালিকায় থাকায়, পরোক্ষভাবে এই বিষাক্ত কণাগুলো মানবদেহেও প্রবেশ করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, হরমোনজনিত সমস্যা ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সত্ত্বেও, মানুষ থেমে নেই। ছবির ওই ব্যক্তি, এবং তার মতো অনেকেই নিজ উদ্যোগে সৈকত পরিষ্কারে নামছেন। বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও সচেতনতামূলক অভিযানে অংশ নিচ্ছে। “সেভ দ্য বে”, “ক্লিন কক্সবাজার”, “গ্রিন বাংলাদেশ” ইত্যাদি সংগঠন নিয়মিত পরিষ্কার অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতামূলক সেমিনার, ওয়ার্কশপ আয়োজন করে আসছে।

পরিবেশবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কিছু কার্যকর উদ্যোগ:

প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ: সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

পরিবেশবান্ধব বিকল্প: পাট, কাগজ, কাঁচের তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শহর ও উপকূলে সুনির্দিষ্ট বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ ও রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা।

আইন প্রয়োগ: পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর মনোভাব।

সচেতনতা: স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পরিবেশ শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি।

প্লাস্টিক দূষণ শুধু একটি পরিবেশগত ইস্যু নয়—এটি স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন। একক বা ব্যক্তি উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও প্রয়োজন রাষ্ট্রীয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক সমন্বিত পদক্ষেপ। এখনই সময়, নিজেদের জীবন ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে আমরা সবাই যেন দায়িত্ব নিই—অন্যথায়, দূষণের ঢেউয়ে একদিন হয়তো আমাদের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে সর্বনিম্ন নোয়াখালী, জেলায় শীর্ষে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

প্লাস্টিকের স্রোতে ভাসছে উপকূল- সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসছে মানুষ

আপডেট সময় : 11:49:42 am, Wednesday, 23 April 2025

শওকত আলম, কক্সবাজার

বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে বাড়ছে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে উপচে পড়ছে বোতল, ব্যাগ, মোড়কসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। এতে যেমন হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জীবনযাপনও। সম্প্রতি উপকূলীয় একটি সৈকতে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি একাই সৈকত থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করছেন। এই একক প্রচেষ্টা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি তা আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রতিফলনও।
জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীর সমুদ্রে প্রায় ৮০ লাখ টন প্লাস্টিক পড়ে। এর বড় একটি অংশ আসে অব্যবস্থাপনার কারণে। প্লাস্টিকের এই বিষাক্ত জাল ফাঁদে পড়ে যায় মাছ, কচ্ছপ, পাখিসহ অসংখ্য প্রাণী। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলোতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ—নদীর সঙ্গে সমুদ্রেও পৌঁছে যাচ্ছে শহর থেকে আসা অব্যবস্থাপিত বর্জ্য।

কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, মহেশখালী, ভোলা, খুলনার দ্বীপাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সৈকতের চিত্র প্রায় এক—যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্যে ঢেকে গেছে বালুকাবেলা। অতিরিক্ত পর্যটক প্রবাহ ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিদিন বেড়েই চলেছে দূষণের মাত্রা।

 

প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে। এই প্রাণীগুলো মানুষের খাদ্য তালিকায় থাকায়, পরোক্ষভাবে এই বিষাক্ত কণাগুলো মানবদেহেও প্রবেশ করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, হরমোনজনিত সমস্যা ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সত্ত্বেও, মানুষ থেমে নেই। ছবির ওই ব্যক্তি, এবং তার মতো অনেকেই নিজ উদ্যোগে সৈকত পরিষ্কারে নামছেন। বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও সচেতনতামূলক অভিযানে অংশ নিচ্ছে। “সেভ দ্য বে”, “ক্লিন কক্সবাজার”, “গ্রিন বাংলাদেশ” ইত্যাদি সংগঠন নিয়মিত পরিষ্কার অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতামূলক সেমিনার, ওয়ার্কশপ আয়োজন করে আসছে।

পরিবেশবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কিছু কার্যকর উদ্যোগ:

প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ: সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

পরিবেশবান্ধব বিকল্প: পাট, কাগজ, কাঁচের তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শহর ও উপকূলে সুনির্দিষ্ট বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ ও রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা।

আইন প্রয়োগ: পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর মনোভাব।

সচেতনতা: স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পরিবেশ শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি।

প্লাস্টিক দূষণ শুধু একটি পরিবেশগত ইস্যু নয়—এটি স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন। একক বা ব্যক্তি উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও প্রয়োজন রাষ্ট্রীয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক সমন্বিত পদক্ষেপ। এখনই সময়, নিজেদের জীবন ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে আমরা সবাই যেন দায়িত্ব নিই—অন্যথায়, দূষণের ঢেউয়ে একদিন হয়তো আমাদের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যাবে।