Dhaka , Tuesday, 28 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
চায়না অর্থায়নে নির্মিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বায়েজিদ বোস্তামী থানার অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ চিহিৃত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন’র ২ সহযোগী গ্রেফতার চট্টগ্রামের ‎আনোয়ারায় ‘সিইআইজেড’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মাদারীপুরে মৃত্যুফাঁদ খ্যাত সেই সড়কের মেরামতের কাজ শুরু দক্ষিণ মিঠাছড়ির সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে গিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ৫ বনকর্মী আহত লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ ও কুপিয়ে ছিনতাই মামলায় ৩ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু প্রফেসর ড. রামদুলাল রায়ের আরোগ্য কামনায় গীতা পাঠ ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জের দুইশত পরিবার আবারো উচ্ছেদ আতঙ্কে \ অনাবাসিক জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি নগরীর আমবাগান বস্তিতে মিললো থানা লুটের জোড়া অস্ত্র দূর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি সীতাকুণ্ডে মহাসড়ক পার হতে গিয়ে মিনিবাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু বছরের পর বছর গ্যাস সংকটে জর্জরিত আশুলিয়ার শ্রীপুর — বিল দিচ্ছেন, গ্যাস পাচ্ছেন না; চরম দুর্ভোগে হাজারো পরিবার রামুতে ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল মাদক মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কাশেম র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে র‍্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার মাদারীপুর পৌরসভায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কর্মশালা। মাদারীপুরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় দুই প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পলাতক বহিরাগত নয়, নোবিপ্রবির শিক্ষককেই ট্রেজারার চান শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রামে ০৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হরমুজে তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার র‍্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থেকে ২৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১.৫৫ কেজি গাঁজাসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নরসিংদী শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে বিএসটিআইয়ের অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য র‍্যালি সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ১৯ বছরেই বহুমাত্রিক সাফল্যের গল্প: কথাসাহিত্যিক, কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ও উদ্যোক্তা মেহেদি হাসান রাসেল ইমরান হাশমির সঙ্গে কাজ করতে চান তাসনুভা তিশা, কিন্তু কেন?

জ্বর ঠোসা কেন হয়, হলে করণীয় কী, জানালেন তাসনিম জারা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:59:46 pm, Thursday, 14 May 2026
  • 97 বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক,

প্রতি বছর সারাবিশ্বে যত মানুষ অন্ধ হয়ে যান, তার একটা বড় অংশ ঘটে জ্বর ঠোসার ভাইরাস এর কারণে। এ ছাড়াও জ্বর ঠোসা থেকে যৌনাঙ্গের হার্পিস হতে পারে, যা একবার হলে পুরোপুরি নির্মূল করার উপায় এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। নবজাতকের মাঝে ভাইরাসটি ছড়ালে তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই জ্বর ঠোসা হলে হেলাফেলা না করে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর ঠোসা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন চিকিৎসক তাসনিম জারা। যা নিম্নে তুলে ধরা হলো-

জ্বর ঠোসা কেন হয়?

জ্বর ঠোসা একটি ছোঁয়াচে রোগ। এটি ‘হার্পিস সিমপ্লেক্স’ নামের একটি ভাইরাসের কারণে হয়। এই ভাইরাস শরীরে বিভিন্নভাবে প্রবেশ করতে পারে। যেমন—

১. জ্বর ঠোসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ কিংবা মুখের লালার সংস্পর্শে আসলে জ্বর ঠোসা ছড়াতে পারে।

২. জ্বর ঠোসা স্পর্শ করে সেই হাত অন্য কারও মুখের সংস্পর্শে নিলে জ্বর ঠোসা ছড়াতে পারে।

৩. জ্বর ঠোসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ কারও যৌনাঙ্গের সংস্পর্শে আসলে যৌনাঙ্গে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৪. শরীরে একবার জ্বর ঠোসার ভাইরাস প্রবেশ করলে সেটি সারাজীবন থেকে যায়। বেশিরভাগ সময়ে ভাইরাস শরীরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, তবে মাঝেমাঝে জেগে উঠে জ্বর ঠোসা তৈরি করে। একারণে অনেকের বারবার জ্বর ঠোসা হয়।

ভাইরাস জেগে ওঠার অন্যতম কারণ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া। যেমন: ঠাণ্ডা লাগা অথবা জ্বর আসা। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া ছাড়াও আরও কিছু কারণে ভাইরাস জেগে উঠে জ্বর ঠোসা তৈরি হতে পারে।

যেমন: কোনো কারণে অসুস্থ হলে, খুব ক্লান্ত থাকলে, মানসিক চাপে থাকলে, রোদে গেলে ও মেয়েদের মাসিকের সময়ে।

কীভাবে বুঝবেন জ্বর ঠোসা হয়েছে কিনা?

মুখমণ্ডলের যে কোনো স্থানেই জ্বর ঠোসা উঠতে পারে। যেখানে জ্বর ঠোসা উঠবে, সেখানে সাধারণত জ্বর ঠোসা হওয়ার আগেই জ্বালাপোড়া, ঝিম ঝিম করা অথবা চুলকানি শুরু হয়। পরবর্তী ৬–৪৮ ঘণ্টায়— ১. ছোটো ছোটো ফোস্কা বা ঠোসা ওঠে। এগুলোর ভেতরে পানির মতো তরল থাকে।

২. ফোস্কাগুলো ফেটে গিয়ে সেগুলোর ওপরে আস্তে আস্তে চলটা পড়ে।

৩. ১০ দিনের মধ্যে জ্বর ঠোসা সেরে উঠতে শুরু করে। সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত এটি ছোঁয়াচে থাকে। এই সময়ে ব্যথা অথবা জ্বালাপোড়া হতে পারে।

জ্বর ঠোসা কতদিন ছোঁয়াচে থাকে?

যেখানে জ্বর ঠোসা উঠবে সেখানে যখন থেকে জ্বালাপোড়া, ঝিম ঝিম করা অথবা চুলকানি শুরু হয়, তখন থেকেই এটা ছোঁয়াচে। যতদিন পর্যন্ত আপনার জ্বর ঠোসা পুরোপুরি সেরে না ওঠে ততদিন এটা ছোঁয়াচে থাকে। বিশেষ করে যখন জ্বর ঠোসা কাঁচা থাকে কিংবা ফেটে যায়, তখন এটা সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে থাকে।

তাই জ্বালাপোড়া, ঝিম ঝিম করা অথবা চুলকানি শুরু হওয়া থেকে ঠোসা পুরোপুরি সেরে ওঠা পর্যন্ত এই পুরোটা সময় জুড়েই নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলবেন।

জ্বর ঠোসা হলে কী সতর্কতা মেনে চলতে হবে?

১. চোখের সুরক্ষা

আমাদের চোখের সামনে ‘কর্নিয়া’ নামের স্বচ্ছ একটা আবরণ থাকে। এটা চোখের জানালা হিসেবে কাজ করে। এই কর্নিয়ার সমস্যার কারণে পৃথিবীতে যত মানুষ অন্ধ হয়ে যায়, তার মধ্যে সবচেয়ে কমন কারণ হলো জ্বর ঠোসার হার্পিস ভাইরাসের ইনফেকশন। অর্থাৎ মুখের জ্বর ঠোসা থেকে ভাইরাসটা যদি চোখে চলে যায়, তাহলে এই মারাত্মক বিপত্তি ঘটার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়।

জ্বর ঠোসা থেকে অন্ধত্ব হওয়া প্রতিরোধে চারটি পরামর্শ মেনে চলবেন—

ক. জ্বর ঠোসায় হাত লাগাবেন না।

খ. জ্বর ঠোসায় হাত চলে গেলে ভালো করে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিবেন।

গ. জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় চোখে হাত লাগাবেন না।

ঘ. কোনো কারণে চোখে হাত দিতে হলে আগে ভালো করে হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন।

উল্লেখ্য, চোখে হার্পিস ভাইরাস দিয়ে ইনফেকশন হলেই যে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়, তা নয়। অনেকেরই এই ইনফেকশন হয় এবং সেরেও যায়। তাই এটা নিয়ে বেশি ভয় পাবেন না। তবে অল্প সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে এটা চোখের জটিল ইনফেকশনে রূপ নিতে পারে। তাই সতর্ক থাকাই শ্রেয়।

২. যৌনাঙ্গের হার্পিস থেকে সুরক্ষা

কারও যৌনাঙ্গ জ্বর ঠোসার সংস্পর্শে আসলে যৌনাঙ্গের হার্পিস হতে পারে। জ্বর ঠোসার মতোই একবার যৌনাঙ্গের হার্পিস হলে সেটিকে পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া নারীদের যৌনাঙ্গের হার্পিস হলে সেটি ডেলিভারির সময়ে নবজাতকের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই জ্বর ঠোসা পুরোপুরি সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত ওরাল সেক্স থেকে একেবারে বিরত থাকবেন, অর্থাৎ সঙ্গীর যৌনাঙ্গে মুখ লাগাবেন না। নাহলে আপনার সঙ্গীর যৌনাঙ্গে হার্পিস ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৩. নবজাতক ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের সুরক্ষা

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য হার্পিস ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে। যেমন, জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় নবজাতককে চুমু দিলে শিশুর মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে, এমনকি তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া মায়ের স্তনে যদি জ্বর ঠোসা হয়ে থাকে, তাহলে শিশুকে সেই স্তন থেকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়েও শিশুর দেহে ইনফেকশন ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই নবজাতকদের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন।

কারও একজিমা নামের চর্মরোগ থাকলে জ্বর ঠোসার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা এক্ষেত্রে চামড়ার ক্ষত দিয়ে জ্বর ঠোসার ভাইরাস শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে জীবনঘাতী ইনফেকশনে রূপ নিতে পারে। ছোটো শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তাদের এই গুরুতর ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৪. ‘আলঝেইমার’ নামক স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত রোগ থেকে সুরক্ষা

স্মৃতিশক্তি কমে গেছে, কথা মনে রাখতে পারেন না, একই প্রশ্ন বারবার জিজ্ঞেস করেন অথবা কিছু বলতে গেলে কথা খুঁজে পান না—এমন বয়স্ক মানুষ হয়তো দেখে থাকবেন। এগুলো সবই ‘আলঝেইমার’ রোগের লক্ষণ। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় জ্বর ঠোসা সৃষ্টিকারী হার্পিস ভাইরাসের সাথে আলঝেইমার রোগের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে।

যদিও এই ভাইরাসের কারণেই রোগটা হয় কিনা সেটি এখনো নিশ্চিত নয়, তবে অনেকগুলো গবেষণা সেই দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই আপনার যদি জ্বর ঠোসা হয়, তাহলে খুব সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখবেন যেন আপনার কাছ থেকে আরেকজনের কাছে এই ভাইরাস না ছড়ায়। কারণ একবার এই ভাইরাস শরীরে ঢুকলে সারাজীবন থেকে যায়, আর আলঝেইমারের মতো জটিল রোগের সঙ্গে এর একটা যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে।

কীভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে পারেন? এই সংক্রান্ত পরামর্শগুলো আমরা ‘জ্বর ঠোসা হলে কী করা উচিত?’ অংশে তুলে ধরেছি।

জ্বর ঠোসা হলে কী করা উচিত?

সাধারণত জ্বর ঠোসা নিজে নিজেই সেরে যায়। সেরে যাওয়ার পরে সাধারণত কোনো দাগও থাকে না। তবে লক্ষণ উপশমে আপনি কিছু কার্যকর পরামর্শ মেনে চলতে পারেন।

জ্বর ঠোসার ঘরোয়া চিকিৎসা

১. দ্রুত সারাতে অ্যান্টিভাইরাল ক্রিম বা মলম: জ্বর ঠোসা হবে বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যান্টিভাইরাল ক্রিম লাগাতে পারেন। এটা জ্বর ঠোসা দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। ক্রিম লাগানোর সময়ে জ্বর ঠোসায় ঘষে ঘষে না লাগিয়ে আঙ্গুল দিয়ে আলতো করে চেপে চেপে লাগাবেন। ক্রিম লাগানোর আগে ও পরে ভালো করে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিবেন।

২. দ্রুত সারাতে মধু: কিছু গবেষণায় জ্বর ঠোসা সারাতে অ্যান্টিভাইরাল ক্রিমের পরিবর্তে মেডিকেল গ্রেড কানুকা মধু ব্যবহার করে দেখা গেছে যে, মধু অ্যান্টিভাইরাল ক্রিমের মতোই কার্যকর। ভালো মানের কানুকা অথবা অন্য কোনো বিশুদ্ধ মধু ব্যবহার করে দেখতে পারেন আপনার জন্য কাজ করে কিনা। জ্বর ঠোসা হবে বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে মধু লাগাবেন। দিনে পাঁচ বার করে জ্বর ঠোসা পুরোপুরি সেরে ওঠা পর্যন্ত এভাবে ব্যবহার করবেন।

৩. ব্যথা কমানোর উপায়: জ্বর ঠোসার ব্যথা কমানোর কয়েকটা উপায় আছে। আপনার সুবিধামতো নিচের উপায়গুলো ব্যবহার করতে পারেন—

বরফ: জ্বর ঠোসার ওপরে বরফ লাগাতে পারেন। এ ছাড়া বরফের ছোটো ছোটো টুকরা চুষতে পারেন। এসবের মাধ্যমে ব্যথা কমার পাশাপাশি জ্বালাপোড়া ও চুলকানিও কমতে পারে।

ঠাণ্ডা সেঁক: দিনে কয়েকবার ঠাণ্ডা সেঁক দিতে পারেন। একটা পরিষ্কার ছোটো তোয়ালে ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে ৫–১০ মিনিট জ্বর ঠোসার ওপরে দিয়ে রাখুন। এটি জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

মলম: জ্বর ঠোসার ব্যথা কমাতে লিডোকেইন জাতীয় জেল অথবা মলম ব্যবহার করতে পারেন।

ঔষধ: ব্যথা, জ্বর ও ফোলা কমাতে প্যারাসিটামল অথবা আইবুপ্রোফেন খেতে পারেন। শিশুদের প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়াতে পারেন।

৪. পানিশূন্যতা এড়ানো: জ্বর ঠোসা হলে ব্যথার কারণে অনেকেই খাবার ও পানি খাওয়া কমিয়ে দেয়। একারণে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কিনা সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

৫. ত্বক ফাটা এড়াতে পেট্রোলিয়াম জেলি: ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়া এড়াতে জ্বর ঠোসার ওপরে ও এর আশেপাশের ত্বকে আলতো করে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাবেন। এর আগে ও পরে অবশ্যই সাবান-পানি দিয়ে ভালোমতো হাত ধুয়ে ফেলবেন।

৬. রোদ থেকে সুরক্ষা: রোদে বের হলে সানস্ক্রিন, বিশেষ করে ঠোঁটে সানব্লক লিপ বাম (এসপিএফ ১৫ বা তার বেশি শক্তির) ব্যবহার করবেন।

৭. বারবার জ্বর ঠোসা হওয়া ঠেকানো: যেসব কাজ জ্বর ঠোসার ভাইরাসকে জাগিয়ে দিতে পারে সেগুলো এড়িয়ে চলবেন। যেমন: রোদ, মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত ক্লান্তি। এতে পরবর্তীতে জ্বর ঠোসা হওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে।

যা করবেন না

১. জ্বর ঠোসা হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন না। কোনো কারণে স্পর্শ করতে হলে (যেমন: ঔষধ লাগানোর সময়ে) তার আগে ও পরে অবশ্যই সাবান ও পানি দিয়ে ভালোমতো হাত ধুয়ে ফেলবেন।

২. আক্রান্ত অবস্থায় কাউকে চুমু দিবেন না। বিশেষ করে ছোটো শিশুদের চুমু দেওয়া থেকে একেবারেই বিরত থাকবেন।

৩. জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় আপনার খাবার অথবা পানি আরেকজনের সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

৪. জ্বর ঠোসায় ছোঁয়া লাগে এমন জিনিসপত্র—যেমন: আপনার ব্যবহার করা চামচ, গ্লাস, তোয়ালে, রেজার, লিপজেল ও লিপস্টিক—এগুলো আলাদা রাখবেন। অন্য কেউ যেন ব্যবহার না করে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।

৫. জ্বর ঠোসা থাকলেও সহবাস করা যাবে। তবে জ্বর ঠোসা পুরোপুরি সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত ওরাল সেক্স বা যৌনাঙ্গে মুখ স্পর্শ করা থেকে একেবারে বিরত থাকবেন। নাহলে আপনার সঙ্গীর যৌনাঙ্গে হার্পিস ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৬. জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় চোখে হাত লাগাবেন না। কোনো কারণে চোখে হাত দিতে হলে আগে ভালো করে হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন।

৭. কারও কারও ক্ষেত্রে কিছু খাবার জ্বর ঠোসার সংস্পর্শে আসলে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। যেমন: টমেটো, কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা, অতিরিক্ত মসলাদার ও লবণযুক্ত খাবার। আপনার এমন সমস্যা হলে এসব খাবার এড়িয়ে চলতে পারেন।

৮. জরুরি প্রয়োজন না হলে জ্বর ঠোসা পুরোপুরি সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত দাঁতের কোনো প্রসিডিউর না করানোই ভালো।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চায়না অর্থায়নে নির্মিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

জ্বর ঠোসা কেন হয়, হলে করণীয় কী, জানালেন তাসনিম জারা

আপডেট সময় : 01:59:46 pm, Thursday, 14 May 2026

নিউজ ডেস্ক,

প্রতি বছর সারাবিশ্বে যত মানুষ অন্ধ হয়ে যান, তার একটা বড় অংশ ঘটে জ্বর ঠোসার ভাইরাস এর কারণে। এ ছাড়াও জ্বর ঠোসা থেকে যৌনাঙ্গের হার্পিস হতে পারে, যা একবার হলে পুরোপুরি নির্মূল করার উপায় এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। নবজাতকের মাঝে ভাইরাসটি ছড়ালে তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই জ্বর ঠোসা হলে হেলাফেলা না করে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর ঠোসা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন চিকিৎসক তাসনিম জারা। যা নিম্নে তুলে ধরা হলো-

জ্বর ঠোসা কেন হয়?

জ্বর ঠোসা একটি ছোঁয়াচে রোগ। এটি ‘হার্পিস সিমপ্লেক্স’ নামের একটি ভাইরাসের কারণে হয়। এই ভাইরাস শরীরে বিভিন্নভাবে প্রবেশ করতে পারে। যেমন—

১. জ্বর ঠোসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ কিংবা মুখের লালার সংস্পর্শে আসলে জ্বর ঠোসা ছড়াতে পারে।

২. জ্বর ঠোসা স্পর্শ করে সেই হাত অন্য কারও মুখের সংস্পর্শে নিলে জ্বর ঠোসা ছড়াতে পারে।

৩. জ্বর ঠোসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ কারও যৌনাঙ্গের সংস্পর্শে আসলে যৌনাঙ্গে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৪. শরীরে একবার জ্বর ঠোসার ভাইরাস প্রবেশ করলে সেটি সারাজীবন থেকে যায়। বেশিরভাগ সময়ে ভাইরাস শরীরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, তবে মাঝেমাঝে জেগে উঠে জ্বর ঠোসা তৈরি করে। একারণে অনেকের বারবার জ্বর ঠোসা হয়।

ভাইরাস জেগে ওঠার অন্যতম কারণ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া। যেমন: ঠাণ্ডা লাগা অথবা জ্বর আসা। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া ছাড়াও আরও কিছু কারণে ভাইরাস জেগে উঠে জ্বর ঠোসা তৈরি হতে পারে।

যেমন: কোনো কারণে অসুস্থ হলে, খুব ক্লান্ত থাকলে, মানসিক চাপে থাকলে, রোদে গেলে ও মেয়েদের মাসিকের সময়ে।

কীভাবে বুঝবেন জ্বর ঠোসা হয়েছে কিনা?

মুখমণ্ডলের যে কোনো স্থানেই জ্বর ঠোসা উঠতে পারে। যেখানে জ্বর ঠোসা উঠবে, সেখানে সাধারণত জ্বর ঠোসা হওয়ার আগেই জ্বালাপোড়া, ঝিম ঝিম করা অথবা চুলকানি শুরু হয়। পরবর্তী ৬–৪৮ ঘণ্টায়— ১. ছোটো ছোটো ফোস্কা বা ঠোসা ওঠে। এগুলোর ভেতরে পানির মতো তরল থাকে।

২. ফোস্কাগুলো ফেটে গিয়ে সেগুলোর ওপরে আস্তে আস্তে চলটা পড়ে।

৩. ১০ দিনের মধ্যে জ্বর ঠোসা সেরে উঠতে শুরু করে। সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত এটি ছোঁয়াচে থাকে। এই সময়ে ব্যথা অথবা জ্বালাপোড়া হতে পারে।

জ্বর ঠোসা কতদিন ছোঁয়াচে থাকে?

যেখানে জ্বর ঠোসা উঠবে সেখানে যখন থেকে জ্বালাপোড়া, ঝিম ঝিম করা অথবা চুলকানি শুরু হয়, তখন থেকেই এটা ছোঁয়াচে। যতদিন পর্যন্ত আপনার জ্বর ঠোসা পুরোপুরি সেরে না ওঠে ততদিন এটা ছোঁয়াচে থাকে। বিশেষ করে যখন জ্বর ঠোসা কাঁচা থাকে কিংবা ফেটে যায়, তখন এটা সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে থাকে।

তাই জ্বালাপোড়া, ঝিম ঝিম করা অথবা চুলকানি শুরু হওয়া থেকে ঠোসা পুরোপুরি সেরে ওঠা পর্যন্ত এই পুরোটা সময় জুড়েই নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলবেন।

জ্বর ঠোসা হলে কী সতর্কতা মেনে চলতে হবে?

১. চোখের সুরক্ষা

আমাদের চোখের সামনে ‘কর্নিয়া’ নামের স্বচ্ছ একটা আবরণ থাকে। এটা চোখের জানালা হিসেবে কাজ করে। এই কর্নিয়ার সমস্যার কারণে পৃথিবীতে যত মানুষ অন্ধ হয়ে যায়, তার মধ্যে সবচেয়ে কমন কারণ হলো জ্বর ঠোসার হার্পিস ভাইরাসের ইনফেকশন। অর্থাৎ মুখের জ্বর ঠোসা থেকে ভাইরাসটা যদি চোখে চলে যায়, তাহলে এই মারাত্মক বিপত্তি ঘটার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়।

জ্বর ঠোসা থেকে অন্ধত্ব হওয়া প্রতিরোধে চারটি পরামর্শ মেনে চলবেন—

ক. জ্বর ঠোসায় হাত লাগাবেন না।

খ. জ্বর ঠোসায় হাত চলে গেলে ভালো করে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিবেন।

গ. জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় চোখে হাত লাগাবেন না।

ঘ. কোনো কারণে চোখে হাত দিতে হলে আগে ভালো করে হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন।

উল্লেখ্য, চোখে হার্পিস ভাইরাস দিয়ে ইনফেকশন হলেই যে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়, তা নয়। অনেকেরই এই ইনফেকশন হয় এবং সেরেও যায়। তাই এটা নিয়ে বেশি ভয় পাবেন না। তবে অল্প সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে এটা চোখের জটিল ইনফেকশনে রূপ নিতে পারে। তাই সতর্ক থাকাই শ্রেয়।

২. যৌনাঙ্গের হার্পিস থেকে সুরক্ষা

কারও যৌনাঙ্গ জ্বর ঠোসার সংস্পর্শে আসলে যৌনাঙ্গের হার্পিস হতে পারে। জ্বর ঠোসার মতোই একবার যৌনাঙ্গের হার্পিস হলে সেটিকে পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া নারীদের যৌনাঙ্গের হার্পিস হলে সেটি ডেলিভারির সময়ে নবজাতকের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই জ্বর ঠোসা পুরোপুরি সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত ওরাল সেক্স থেকে একেবারে বিরত থাকবেন, অর্থাৎ সঙ্গীর যৌনাঙ্গে মুখ লাগাবেন না। নাহলে আপনার সঙ্গীর যৌনাঙ্গে হার্পিস ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৩. নবজাতক ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের সুরক্ষা

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য হার্পিস ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে। যেমন, জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় নবজাতককে চুমু দিলে শিশুর মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে, এমনকি তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া মায়ের স্তনে যদি জ্বর ঠোসা হয়ে থাকে, তাহলে শিশুকে সেই স্তন থেকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়েও শিশুর দেহে ইনফেকশন ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই নবজাতকদের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন।

কারও একজিমা নামের চর্মরোগ থাকলে জ্বর ঠোসার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা এক্ষেত্রে চামড়ার ক্ষত দিয়ে জ্বর ঠোসার ভাইরাস শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে জীবনঘাতী ইনফেকশনে রূপ নিতে পারে। ছোটো শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তাদের এই গুরুতর ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৪. ‘আলঝেইমার’ নামক স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত রোগ থেকে সুরক্ষা

স্মৃতিশক্তি কমে গেছে, কথা মনে রাখতে পারেন না, একই প্রশ্ন বারবার জিজ্ঞেস করেন অথবা কিছু বলতে গেলে কথা খুঁজে পান না—এমন বয়স্ক মানুষ হয়তো দেখে থাকবেন। এগুলো সবই ‘আলঝেইমার’ রোগের লক্ষণ। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় জ্বর ঠোসা সৃষ্টিকারী হার্পিস ভাইরাসের সাথে আলঝেইমার রোগের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে।

যদিও এই ভাইরাসের কারণেই রোগটা হয় কিনা সেটি এখনো নিশ্চিত নয়, তবে অনেকগুলো গবেষণা সেই দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই আপনার যদি জ্বর ঠোসা হয়, তাহলে খুব সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখবেন যেন আপনার কাছ থেকে আরেকজনের কাছে এই ভাইরাস না ছড়ায়। কারণ একবার এই ভাইরাস শরীরে ঢুকলে সারাজীবন থেকে যায়, আর আলঝেইমারের মতো জটিল রোগের সঙ্গে এর একটা যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে।

কীভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে পারেন? এই সংক্রান্ত পরামর্শগুলো আমরা ‘জ্বর ঠোসা হলে কী করা উচিত?’ অংশে তুলে ধরেছি।

জ্বর ঠোসা হলে কী করা উচিত?

সাধারণত জ্বর ঠোসা নিজে নিজেই সেরে যায়। সেরে যাওয়ার পরে সাধারণত কোনো দাগও থাকে না। তবে লক্ষণ উপশমে আপনি কিছু কার্যকর পরামর্শ মেনে চলতে পারেন।

জ্বর ঠোসার ঘরোয়া চিকিৎসা

১. দ্রুত সারাতে অ্যান্টিভাইরাল ক্রিম বা মলম: জ্বর ঠোসা হবে বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যান্টিভাইরাল ক্রিম লাগাতে পারেন। এটা জ্বর ঠোসা দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। ক্রিম লাগানোর সময়ে জ্বর ঠোসায় ঘষে ঘষে না লাগিয়ে আঙ্গুল দিয়ে আলতো করে চেপে চেপে লাগাবেন। ক্রিম লাগানোর আগে ও পরে ভালো করে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিবেন।

২. দ্রুত সারাতে মধু: কিছু গবেষণায় জ্বর ঠোসা সারাতে অ্যান্টিভাইরাল ক্রিমের পরিবর্তে মেডিকেল গ্রেড কানুকা মধু ব্যবহার করে দেখা গেছে যে, মধু অ্যান্টিভাইরাল ক্রিমের মতোই কার্যকর। ভালো মানের কানুকা অথবা অন্য কোনো বিশুদ্ধ মধু ব্যবহার করে দেখতে পারেন আপনার জন্য কাজ করে কিনা। জ্বর ঠোসা হবে বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে মধু লাগাবেন। দিনে পাঁচ বার করে জ্বর ঠোসা পুরোপুরি সেরে ওঠা পর্যন্ত এভাবে ব্যবহার করবেন।

৩. ব্যথা কমানোর উপায়: জ্বর ঠোসার ব্যথা কমানোর কয়েকটা উপায় আছে। আপনার সুবিধামতো নিচের উপায়গুলো ব্যবহার করতে পারেন—

বরফ: জ্বর ঠোসার ওপরে বরফ লাগাতে পারেন। এ ছাড়া বরফের ছোটো ছোটো টুকরা চুষতে পারেন। এসবের মাধ্যমে ব্যথা কমার পাশাপাশি জ্বালাপোড়া ও চুলকানিও কমতে পারে।

ঠাণ্ডা সেঁক: দিনে কয়েকবার ঠাণ্ডা সেঁক দিতে পারেন। একটা পরিষ্কার ছোটো তোয়ালে ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে ৫–১০ মিনিট জ্বর ঠোসার ওপরে দিয়ে রাখুন। এটি জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

মলম: জ্বর ঠোসার ব্যথা কমাতে লিডোকেইন জাতীয় জেল অথবা মলম ব্যবহার করতে পারেন।

ঔষধ: ব্যথা, জ্বর ও ফোলা কমাতে প্যারাসিটামল অথবা আইবুপ্রোফেন খেতে পারেন। শিশুদের প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়াতে পারেন।

৪. পানিশূন্যতা এড়ানো: জ্বর ঠোসা হলে ব্যথার কারণে অনেকেই খাবার ও পানি খাওয়া কমিয়ে দেয়। একারণে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কিনা সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

৫. ত্বক ফাটা এড়াতে পেট্রোলিয়াম জেলি: ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়া এড়াতে জ্বর ঠোসার ওপরে ও এর আশেপাশের ত্বকে আলতো করে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাবেন। এর আগে ও পরে অবশ্যই সাবান-পানি দিয়ে ভালোমতো হাত ধুয়ে ফেলবেন।

৬. রোদ থেকে সুরক্ষা: রোদে বের হলে সানস্ক্রিন, বিশেষ করে ঠোঁটে সানব্লক লিপ বাম (এসপিএফ ১৫ বা তার বেশি শক্তির) ব্যবহার করবেন।

৭. বারবার জ্বর ঠোসা হওয়া ঠেকানো: যেসব কাজ জ্বর ঠোসার ভাইরাসকে জাগিয়ে দিতে পারে সেগুলো এড়িয়ে চলবেন। যেমন: রোদ, মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত ক্লান্তি। এতে পরবর্তীতে জ্বর ঠোসা হওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে।

যা করবেন না

১. জ্বর ঠোসা হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন না। কোনো কারণে স্পর্শ করতে হলে (যেমন: ঔষধ লাগানোর সময়ে) তার আগে ও পরে অবশ্যই সাবান ও পানি দিয়ে ভালোমতো হাত ধুয়ে ফেলবেন।

২. আক্রান্ত অবস্থায় কাউকে চুমু দিবেন না। বিশেষ করে ছোটো শিশুদের চুমু দেওয়া থেকে একেবারেই বিরত থাকবেন।

৩. জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় আপনার খাবার অথবা পানি আরেকজনের সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

৪. জ্বর ঠোসায় ছোঁয়া লাগে এমন জিনিসপত্র—যেমন: আপনার ব্যবহার করা চামচ, গ্লাস, তোয়ালে, রেজার, লিপজেল ও লিপস্টিক—এগুলো আলাদা রাখবেন। অন্য কেউ যেন ব্যবহার না করে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।

৫. জ্বর ঠোসা থাকলেও সহবাস করা যাবে। তবে জ্বর ঠোসা পুরোপুরি সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত ওরাল সেক্স বা যৌনাঙ্গে মুখ স্পর্শ করা থেকে একেবারে বিরত থাকবেন। নাহলে আপনার সঙ্গীর যৌনাঙ্গে হার্পিস ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৬. জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় চোখে হাত লাগাবেন না। কোনো কারণে চোখে হাত দিতে হলে আগে ভালো করে হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন।

৭. কারও কারও ক্ষেত্রে কিছু খাবার জ্বর ঠোসার সংস্পর্শে আসলে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। যেমন: টমেটো, কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা, অতিরিক্ত মসলাদার ও লবণযুক্ত খাবার। আপনার এমন সমস্যা হলে এসব খাবার এড়িয়ে চলতে পারেন।

৮. জরুরি প্রয়োজন না হলে জ্বর ঠোসা পুরোপুরি সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত দাঁতের কোনো প্রসিডিউর না করানোই ভালো।