Dhaka , Saturday, 7 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সোনারগাঁয়ে বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার-১৫ সাতই নভেম্বর পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নতুন যাত্রা শুরুর দিন: ডা. শাহাদাত হোসেন পাইকগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত মধুপুরে মাদক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত নারী গ্রেপ্তার মধুপুরে কথিত মাদক ব্যবসায়ী হাবুর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন দুর্গাপুরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত ​ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে দুর্গম চরাঞ্চলে ‘স্বাবলম্বী প্রজেক্ট’ এর মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শিত যথাযোগ্য মর্যাদায় চরভদ্রাসনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত- বর্ণাঢ্য আয়োজন মুশফিকের রেকর্ড ভেঙে হৃদয়ের ২৪২, বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় গাইবান্ধায় এলজিইডির রাস্তার কাজ যথাযথভাবে বুঝে নিচ্ছেন কর্মকর্তা’রা কাউখালীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে অভিষেক সেঞ্চুরিতেই ডাবল সেঞ্চুরি হৃদয়ের ত্রিশালে মাদকবিরোধী র‍্যালি, অংশ নিলেন শত শত তরুণ সংহতির দিনে বরিশাল বিএনপিতে অনৈক্যের প্রদর্শন, তিন মঞ্চে তিন আয়োজন চরভদ্রাসনে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক এক মাদক কারবারি রূপগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় পুলিশ কনস্টেবলকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ কাচপুরে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিল নারায়ণগঞ্জে বিদেশি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ রাজন গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জ সদরের ১১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ বিতরণ বন্দরে এলজিইডির কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ​হাট দারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্মারক গ্রন্থ ‘স্বপ্ন সারথি’র মোড়ক উন্মোচন ও তাল বীজ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত মধুপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন চুরি, নারী গ্রেপ্তার ৭ নভেম্বর: সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সংহতি ও বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা দীঘিনালায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ​হরিপুরে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ টাকার ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ ভবনের একাধিক কক্ষে চুরি, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা গণহত্যাকারীদের এই দেশে রাজনীতির সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকল্প নেই: ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী

সংহতির দিনে বরিশাল বিএনপিতে অনৈক্যের প্রদর্শন, তিন মঞ্চে তিন আয়োজন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:13:25 pm, Saturday, 7 November 2026
  • 3 বার পড়া হয়েছে

আরিফ আহমেদ,

তৃণমূল থেকে জেলা, উপজেলা, মহানগর ও কেন্দ্র পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী সোহেল মঞ্জুরসহ বিএনপির বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। ৭ নভেম্বর শনিবার ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা এই আহ্বান জানান। দিবসটিকে কেন্দ্র করে সরগরম ছিলো বরিশাল নগরী। সকাল থেকেই ঢাকঢোল পিটিয়ে, মাইক বাজিয়ে ও ধূপ জ্বালিয়ে অনেকটা দুর্গোৎসবের আদলে নগরীর অলিগলি মুখরিত করে তুলেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলে দলে তারা ছুটছেন টাউন হলের সামনে বিএনপি কার্যালয়ে কিংবা বরিশালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। আবার কারও কারও অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হচ্ছেন বিভিন্ন পয়েন্টে। বের করছেন পছন্দের নেতার নাম সম্বলিত ব্যানার পোস্টার। তাদের মুখে নেতার নামে জয়ধ্বনি ও স্লোগান। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও চোখে পড়াড মত মিছিল ছিলো মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরীন, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুসহ আরো কয়েকজনের নামে শ্লোগান ও ব্যানার পোস্টার চোখে পড়ে। এসময় জেলা দক্ষিণ মঞ্চ থেকে সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু বারবার ঘোষণা দিয়ে বলেন, কোনো ব্যাক্তির নামে শ্লোগান হবেনা। শ্লোগান শুধু জিয়া পরিবারের নামে হবে।। কিন্তু কে শোনে কার কথা।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে এ যেন আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নিজস্ব শক্তি ও সমর্থন প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা ছিলো বরিশালে। পাশাপাশি তিন ভাগে বিভক্ত জাতীয়তাবাদী দলের এই বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের আয়োজনে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি হয়। শহীদ মিণার প্রাঙ্গণে জিয়াউদ্দিন সিকদার বা নাসরীন সমর্থকদের মিছিল আসামাত্র জেলা দক্ষিণ মঞ্চ থেকে তাদের উপস্থিতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তাদের মিছিল চলে যায় সোজা সদর রোড ধরে টাউনহলের দিকে। আবার টাউনহলের সামনে দিয়ে সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বা বাবুগঞ্জের মিছিল দেখে তাদের উপস্থিতি ঘোষণা করে মহানগর মাইক। কিন্তু সেটি চলে যায় শহীদ মিণার প্রাঙ্গণে।
৭ নভেম্বর শনিবার বরিশাল জেলা উত্তর, জেলা দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির পৃথক তিনটি সমাবেশেই প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (সুমন)। বিশেষ অতিথি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনসহ বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ।
একই দিনে একই দলের তিনটি পৃথক কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে অংশ নিতে গিয়ে অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই প্রধান অতিথি বলেন, আগামীতে এ ধরনের আয়োজন জেলা ও মহানগর একসঙ্গে আরও বড় পরিসরে করবে, এটাই তার প্রত্যাশা।
একই আহ্বান জানান বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তিনি বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন আরো বলেন, এই দিবস উদযাপন হচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণে। তাঁর এবং মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের ঐক্যের বিকল্প নেই।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু, জেলা দক্ষিণের সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন, কেন্দ্রীয় সদস্য এবায়দুল হক চানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে শহীদ মিণার প্রাঙ্গণ থেকে বিশাল র‌্যালি বের করা হয়। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালিটি কাকলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
অন্যদিকে একই সময়ে বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী মজিবর রহমান সরোয়ার, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এর নেতৃত্বে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে পৃথক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ কর্মসূচিতেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী সোহেল মঞ্জুর ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনসহ বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ।
এর কিছুক্ষণ পরই বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন জেলা উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা উত্তর বিএনপির নেতা সরফুদ্দিন সান্টুসহ নেতৃবৃন্দ। জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীদেরও পৃথক সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল। বরিশালে আসার আগে নিজ উপজেলায় সমাবেশ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে জেলা দক্ষিণ বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
এখানে একটি ইতিবাচক দিকও ছিল। জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতৃবৃন্দকে পৃথক কোনো বিভক্তির কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। বরং দুই সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে উপস্থিত থেকে দিবসটি পালন করেছেন। তাদের মধ্যে চমৎকার ঐক্য ও পারস্পরিক সমন্বয়ের চিত্র ছিল লক্ষণীয়। জেলা যুবদলের সভাপতি মামুন রেজা খান, সাধারণ সম্পাদক তসলিমউদ্দীন, সহসভাপতি আলমগীর হোসেন, সালাউদ্দিন নাহিদ ইসলাম প্রমূখদের উপস্থিতি চোখে পড়ে।
মূল বিএনপির নেতাদের মধ্যে যেখানে তিনটি পৃথক আয়োজনের প্রতিযোগিতা, সেখানে যুবদলের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি ছিল এক ভিন্ন বার্তা। দলীয় ঐক্য যে সম্ভব, যুবদলের নেতাকর্মীরা অন্তত সেই দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন।
এভাবেই তিনটি পৃথক কর্মসূচি বরিশাল বিএনপির মূল সাংগঠনিক অনৈক্যকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। একই দলের তিনটি মঞ্চ, তিনটি আয়োজন এবং পৃথক নেতৃত্বের কারণে অতিথিদেরও একাধিক কর্মসূচিতে ছুটোছুটি করতে হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নেতাকর্মীদের মিছিল, সমাবেশ ও যানবাহনের চাপ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। অথচ সংহতি মানেই পারস্পরিক দৃঢ় একতা, নিবিড় সংযোগ ও মিলন। সহজ কথায়, কোনো গোষ্ঠী, সমাজ বা জাতির মানুষের মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধন ও ঐক্যকেই সংহতি বলা হয়।
যে দিবসের মূল চেতনায় রয়েছে ঐক্য ও সংহতির বার্তা, সেই দিবসেই বরিশালে বিএনপির এমন বিভক্ত আয়োজন রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একই দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনটি পৃথক কর্মসূচি পালনের বিষয়টি দলটির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাকে আরও দৃশ্যমান করেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গত ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৭ নভেম্বর সারাদেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি আয়োজনের কথা ছিল। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল দলীয়ভাবে দিবসটি উদযাপন। কিন্তু বরিশালে জেলা উত্তর, জেলা দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির পৃথক আয়োজন কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ঐক্যবদ্ধ চেতনার সঙ্গে সাংগঠনিক বাস্তবতার ব্যবধান তুলে ধরেছে।
আরও তাৎপর্যের বিষয়, দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নিয়েও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৪ নভেম্বরের প্রস্তুতি সভায় আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারসহ নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে দিবসটি পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে পৃথক আয়োজনের চিত্র সেই আহ্বানের প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং বিশেষ করে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাদের মধ্যে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি, অনুসারী ও জনপ্রিয়তা প্রদর্শনের প্রবণতা থেকেই তৈরি হয়েছে এই পৃথক আয়োজন। কে কত বড় সমাবেশ করতে পারেন, কার অনুসারী কত বেশি, কোন নেতার সাংগঠনিক প্রভাব কতটা, এমন প্রতিযোগিতাও কি এর পেছনে কাজ করেছে?
ইতিহাসের পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। একই বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যেই ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়।
এরপর ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
বিএনপি দিনটিকে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সিপাহি-জনতার ঐক্য এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তির ঐতিহাসিক দিন হিসেবে মূল্যায়ন করে। দলটির রাজনৈতিক দর্শনে ৭ নভেম্বরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়, সেটিকেও বিএনপি দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরে।
সেই ঐতিহাসিক দিনটির চেতনা ধারণ করেই বিএনপি প্রতিবছর নানা কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু বরিশালে এবারের আয়োজন যেন দিবসটির নামের সঙ্গে বাস্তবতার এক বড় বৈপরীত্য তৈরি করেছে। সংহতির দিনে অনৈক্যের প্রদর্শন, ঐক্যের আহ্বানের মধ্যেই পৃথক মঞ্চ, পৃথক নেতৃত্ব ও পৃথক শক্তি প্রদর্শন,সব মিলিয়ে বরিশাল বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অথচ একই দলের যুবদলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে উপস্থিত থেকে দেখিয়েছেন, সাংগঠনিক ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব। তাহলে মূল দলের নেতাদের মধ্যে সেই সমন্বয় কেন সম্ভব হলো না?
বরিশালের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরকে সিপাহি-জনতার ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়, সেই দলের নেতাকর্মীরা কেন অন্তত একটি দিনে এক মঞ্চে দাঁড়াতে পারলেন না? জনভোগান্তি সৃষ্টি করে তিনটি পৃথক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের প্রয়োজনই বা কী ছিল?

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার-১৫

সংহতির দিনে বরিশাল বিএনপিতে অনৈক্যের প্রদর্শন, তিন মঞ্চে তিন আয়োজন

আপডেট সময় : 06:13:25 pm, Saturday, 7 November 2026

আরিফ আহমেদ,

তৃণমূল থেকে জেলা, উপজেলা, মহানগর ও কেন্দ্র পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী সোহেল মঞ্জুরসহ বিএনপির বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। ৭ নভেম্বর শনিবার ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা এই আহ্বান জানান। দিবসটিকে কেন্দ্র করে সরগরম ছিলো বরিশাল নগরী। সকাল থেকেই ঢাকঢোল পিটিয়ে, মাইক বাজিয়ে ও ধূপ জ্বালিয়ে অনেকটা দুর্গোৎসবের আদলে নগরীর অলিগলি মুখরিত করে তুলেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলে দলে তারা ছুটছেন টাউন হলের সামনে বিএনপি কার্যালয়ে কিংবা বরিশালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। আবার কারও কারও অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হচ্ছেন বিভিন্ন পয়েন্টে। বের করছেন পছন্দের নেতার নাম সম্বলিত ব্যানার পোস্টার। তাদের মুখে নেতার নামে জয়ধ্বনি ও স্লোগান। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও চোখে পড়াড মত মিছিল ছিলো মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরীন, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুসহ আরো কয়েকজনের নামে শ্লোগান ও ব্যানার পোস্টার চোখে পড়ে। এসময় জেলা দক্ষিণ মঞ্চ থেকে সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু বারবার ঘোষণা দিয়ে বলেন, কোনো ব্যাক্তির নামে শ্লোগান হবেনা। শ্লোগান শুধু জিয়া পরিবারের নামে হবে।। কিন্তু কে শোনে কার কথা।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে এ যেন আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নিজস্ব শক্তি ও সমর্থন প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা ছিলো বরিশালে। পাশাপাশি তিন ভাগে বিভক্ত জাতীয়তাবাদী দলের এই বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের আয়োজনে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি হয়। শহীদ মিণার প্রাঙ্গণে জিয়াউদ্দিন সিকদার বা নাসরীন সমর্থকদের মিছিল আসামাত্র জেলা দক্ষিণ মঞ্চ থেকে তাদের উপস্থিতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তাদের মিছিল চলে যায় সোজা সদর রোড ধরে টাউনহলের দিকে। আবার টাউনহলের সামনে দিয়ে সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বা বাবুগঞ্জের মিছিল দেখে তাদের উপস্থিতি ঘোষণা করে মহানগর মাইক। কিন্তু সেটি চলে যায় শহীদ মিণার প্রাঙ্গণে।
৭ নভেম্বর শনিবার বরিশাল জেলা উত্তর, জেলা দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির পৃথক তিনটি সমাবেশেই প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (সুমন)। বিশেষ অতিথি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনসহ বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ।
একই দিনে একই দলের তিনটি পৃথক কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে অংশ নিতে গিয়ে অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই প্রধান অতিথি বলেন, আগামীতে এ ধরনের আয়োজন জেলা ও মহানগর একসঙ্গে আরও বড় পরিসরে করবে, এটাই তার প্রত্যাশা।
একই আহ্বান জানান বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তিনি বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন আরো বলেন, এই দিবস উদযাপন হচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণে। তাঁর এবং মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের ঐক্যের বিকল্প নেই।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু, জেলা দক্ষিণের সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন, কেন্দ্রীয় সদস্য এবায়দুল হক চানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে শহীদ মিণার প্রাঙ্গণ থেকে বিশাল র‌্যালি বের করা হয়। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালিটি কাকলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
অন্যদিকে একই সময়ে বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী মজিবর রহমান সরোয়ার, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এর নেতৃত্বে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে পৃথক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ কর্মসূচিতেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী সোহেল মঞ্জুর ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনসহ বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ।
এর কিছুক্ষণ পরই বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন জেলা উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা উত্তর বিএনপির নেতা সরফুদ্দিন সান্টুসহ নেতৃবৃন্দ। জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীদেরও পৃথক সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল। বরিশালে আসার আগে নিজ উপজেলায় সমাবেশ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে জেলা দক্ষিণ বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
এখানে একটি ইতিবাচক দিকও ছিল। জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতৃবৃন্দকে পৃথক কোনো বিভক্তির কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। বরং দুই সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে উপস্থিত থেকে দিবসটি পালন করেছেন। তাদের মধ্যে চমৎকার ঐক্য ও পারস্পরিক সমন্বয়ের চিত্র ছিল লক্ষণীয়। জেলা যুবদলের সভাপতি মামুন রেজা খান, সাধারণ সম্পাদক তসলিমউদ্দীন, সহসভাপতি আলমগীর হোসেন, সালাউদ্দিন নাহিদ ইসলাম প্রমূখদের উপস্থিতি চোখে পড়ে।
মূল বিএনপির নেতাদের মধ্যে যেখানে তিনটি পৃথক আয়োজনের প্রতিযোগিতা, সেখানে যুবদলের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি ছিল এক ভিন্ন বার্তা। দলীয় ঐক্য যে সম্ভব, যুবদলের নেতাকর্মীরা অন্তত সেই দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন।
এভাবেই তিনটি পৃথক কর্মসূচি বরিশাল বিএনপির মূল সাংগঠনিক অনৈক্যকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। একই দলের তিনটি মঞ্চ, তিনটি আয়োজন এবং পৃথক নেতৃত্বের কারণে অতিথিদেরও একাধিক কর্মসূচিতে ছুটোছুটি করতে হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নেতাকর্মীদের মিছিল, সমাবেশ ও যানবাহনের চাপ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। অথচ সংহতি মানেই পারস্পরিক দৃঢ় একতা, নিবিড় সংযোগ ও মিলন। সহজ কথায়, কোনো গোষ্ঠী, সমাজ বা জাতির মানুষের মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধন ও ঐক্যকেই সংহতি বলা হয়।
যে দিবসের মূল চেতনায় রয়েছে ঐক্য ও সংহতির বার্তা, সেই দিবসেই বরিশালে বিএনপির এমন বিভক্ত আয়োজন রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একই দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনটি পৃথক কর্মসূচি পালনের বিষয়টি দলটির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাকে আরও দৃশ্যমান করেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গত ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৭ নভেম্বর সারাদেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি আয়োজনের কথা ছিল। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল দলীয়ভাবে দিবসটি উদযাপন। কিন্তু বরিশালে জেলা উত্তর, জেলা দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির পৃথক আয়োজন কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ঐক্যবদ্ধ চেতনার সঙ্গে সাংগঠনিক বাস্তবতার ব্যবধান তুলে ধরেছে।
আরও তাৎপর্যের বিষয়, দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নিয়েও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৪ নভেম্বরের প্রস্তুতি সভায় আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারসহ নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে দিবসটি পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে পৃথক আয়োজনের চিত্র সেই আহ্বানের প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং বিশেষ করে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাদের মধ্যে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি, অনুসারী ও জনপ্রিয়তা প্রদর্শনের প্রবণতা থেকেই তৈরি হয়েছে এই পৃথক আয়োজন। কে কত বড় সমাবেশ করতে পারেন, কার অনুসারী কত বেশি, কোন নেতার সাংগঠনিক প্রভাব কতটা, এমন প্রতিযোগিতাও কি এর পেছনে কাজ করেছে?
ইতিহাসের পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। একই বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যেই ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়।
এরপর ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
বিএনপি দিনটিকে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সিপাহি-জনতার ঐক্য এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তির ঐতিহাসিক দিন হিসেবে মূল্যায়ন করে। দলটির রাজনৈতিক দর্শনে ৭ নভেম্বরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়, সেটিকেও বিএনপি দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরে।
সেই ঐতিহাসিক দিনটির চেতনা ধারণ করেই বিএনপি প্রতিবছর নানা কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু বরিশালে এবারের আয়োজন যেন দিবসটির নামের সঙ্গে বাস্তবতার এক বড় বৈপরীত্য তৈরি করেছে। সংহতির দিনে অনৈক্যের প্রদর্শন, ঐক্যের আহ্বানের মধ্যেই পৃথক মঞ্চ, পৃথক নেতৃত্ব ও পৃথক শক্তি প্রদর্শন,সব মিলিয়ে বরিশাল বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অথচ একই দলের যুবদলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে উপস্থিত থেকে দেখিয়েছেন, সাংগঠনিক ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব। তাহলে মূল দলের নেতাদের মধ্যে সেই সমন্বয় কেন সম্ভব হলো না?
বরিশালের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরকে সিপাহি-জনতার ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়, সেই দলের নেতাকর্মীরা কেন অন্তত একটি দিনে এক মঞ্চে দাঁড়াতে পারলেন না? জনভোগান্তি সৃষ্টি করে তিনটি পৃথক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের প্রয়োজনই বা কী ছিল?