
কাজল খান,
মাদারীপুর সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অপরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ঢাকায় ফিরে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমেই যদি বলি, আমি কোনো অনিয়ম পাইনি, তাহলে সেটা অসত্য বলা হবে। আপনারা সবাই জানেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, পুরো দেশেই ব্যাপক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে টাকা লুটপাট হয়েছে, মেশিন কেনা হয়েছে কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নেই, আবার জনবল থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। ওষুধের সরবরাহ নেই, ভ্যাকসিনের সংকট এমন একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরাজমান অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করে পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে এসে অনেক অনিয়ম পেয়েছি। হাসপাতালের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংস্কার ও মেরামতের প্রয়োজন থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি রোগীরা যথাযথ সেবাও পাচ্ছেন না। নানা ধরনের বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও অনিয়ম রয়েছে।’
ওষুধ সরবরাহ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন মজুত থাকার পরও রোগীদের সেগুলো দেওয়া হচ্ছে না। বরং রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলা হচ্ছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে তিনি এমন পরিস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানান। ঢাকায় ফিরে এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী জাহান, জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন, মাদারীপুরের পুলিশ সুপার ফজলে ইলাহী, সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. অখিল সরকার, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মতিউর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন হাওলাদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।


























