
মোঃ মিজানুর রহমান, সাতকানিয়া প্রতিনিধি,
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ রূপকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে মা/অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৪ অক্টোবর, ২০২৬) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান এর সঞ্চালনায় এবং বিদ্যালয়ের দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোঃ রিদওয়ানুল কবির চৌধুরী শিবলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মির্জাখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব শুমন বড়ুয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন, প্রবাসী ও সমাজ সেবক জমির উদ্দিন চৌধুরী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি আজিজুল হক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ করিমুল্লাহ চৌধুরী, ফরিদুল আলম, হাসন আহমদ, জুবাইদা জান্নাত, মনোয়ারা বেগম, মোহাম্মদ আয়ুব, তপন কুমার সর্দ্দার, মোঃ পরিজ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মা, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের সবুজ ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিয়মিত উপস্থিতি, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর মেধা ও শৃঙ্খলার পুরস্কার হিসেবে শিক্ষা উপকরণ ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ রিদওয়ানুল কবির চৌধুরী শিবলু বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। একটি শিশুর প্রথম শিক্ষক তার মা। মা যদি সচেতন হন, তাহলে একটি পরিবার, একটি সমাজ বদলে যায়। আজকের এই মা সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিদ্যালয়কে আমরা শুধু ইট-পাথরের ভবন হিসেবে দেখি না, এটি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। আমি দুইবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, আমি কথা দিচ্ছি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে করে যাব ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাবেন, তাদের খোঁজখবর নেবেন। মনে রাখবেন, একটি শিক্ষিত মা-ই পারে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, মায়েদের উপস্থিতি প্রমাণ করে তারা সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে কতটা আন্তরিক। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুশ্রম ও মোবাইল আসক্তি থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে মায়েদের আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিশেষে সভাপতি উপস্থিত সকল মা ও অভিভাবককে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
























