
তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল,
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস ও নির্ভীক চেতনা তরুণ প্রজন্মের মননে স্থায়ীভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে লালমনিরহাটে বর্ণাঢ্য সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হলো মাসব্যাপী আয়োজন “স্মৃতিতে ২৪” (সিজন ১)। ‘ওয়ারিয়র্স অফ জুলাই, লালমনিরহাট’-এর উদ্যোগে “স্মৃতিতে ২৪: নতুন প্রজন্মের চোখে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস” শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার জমকালো চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় লালমনিরহাট জেলা পরিষদের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই আয়োজনের পর্দা উন্মোচিত হয়।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি রাসেল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ রাশেদুল হক প্রধান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রেখে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থান কেবল অতীতের কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্র-জনতার অকুতোভয় সংগ্রামের প্রতীক। এই সত্য ইতিহাস যেন কোনো অবস্থাতেই বিকৃত না হয় এবং ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীরা যেন ওই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই সৃজনশীল প্রয়াস।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ রাশেদুল হক প্রধান শিক্ষার্থীদের চমৎকার যুক্তিনির্ভর মেধা ও উপস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক, সচেতন ও আদর্শ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এমন চর্চার বিকল্প নেই। আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশের রূপকার। ‘স্মৃতিতে ২৪’-এর মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তিকে শাণিত করার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সঠিক তথ্য ও ইতিহাস মনে ধারণ করতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।”
সভাপতির বক্তব্যে রাসেল মাহমুদ জানান, লালমনিরহাটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বিপুল অংশগ্রহণ এবং সুশীল সমাজের সার্বিক সহযোগিতা এই আয়োজনকে সাফল্যমণ্ডিত করেছে। ‘ওয়ারিয়র্স অফ জুলাই’ আগামীতেও মেধা বিকাশ ও বিপ্লবের আদর্শ টিকিয়ে রাখতে কাজ করে যাবে।
পুরস্কার বিতরণের ঠিক পূর্বে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘বিপক্ষ দল’ হিসেবে লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামান সুবহা, সামান্থা মারিয়াম পিঞ্জিরা ও সুবাহ্ জান্নাতি তাঁদের সুধারালো যুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। অন্যদিকে ‘সরকারি দল’ হিসেবে লড়াই করে তুষভান্ডার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিয়া ইসরাত জাহান, মহাজোট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া তাসনিম প্রমি ও ফাইজা নওশীন রানার্স-আপ হওয়ার সাফল্য লাভ করেন।
প্রতিযোগিতার পুরো বিচারক প্যানেলে দায়িত্ব পালন করেন সারপুকুর যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা জামাল হোসেন, লালমনিরহাট সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাজুল ইসলাম এবং আয়োজক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল ইসলাম। বিতর্কের সমাপ্তি শেষে চিত্রাঙ্কন, রচনা ও বিতর্কে বিজয়ী মেধাভী শিক্ষার্থীদের হাতে ট্রফি ও সম্মাননা সনদপত্র তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও সুধীজন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম, ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার রুকসানা পারভিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক রাসেল আহম্মেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন লালমনিরহাট জেলার সদস্য সচিব হামিদুর রহমান, ওয়ারিয়র্স অফ জুলাই-এর সহ-সভাপতি গাজী আতিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাঈম বিল্লাহ হাবিবী এবং বিপিএইচসিডিওএ-এর প্রতিনিধি আলাউদ্দিন আল আজাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।

























