Dhaka , Tuesday, 3 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
চট্টগ্রামের অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর খুলনা আগমন উপলক্ষে পাইকগাছা বিএনপির প্রস্তুতি সভা রূপগঞ্জে পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ সকল বাধা পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে: বিসিএস ক্যাডার হিসেবে অমিত খানের নতুন যাত্রা আবার উত্তপ্ত বরিশালের চরকাউয়া: বাস ও ইজিবাইক শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে জিম্মি তিন উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা ২০২৬-২৭-এর উদ্বোধন, প্রধান অতিথি এমপি লুৎফুর রহমান কাজল ধর্মপাশার সার অবৈধভাবে পাচারের সময় বারহাট্টা থানায় আটক পাইকগাছায় ভাসমান হাসপাতালের উদ্বোধন করলেন এমপি; ৩ মাস সেবা পাবেন সুবিধাবঞ্চিতরা হলুদের সাজে তৌসিফ-সাফা, নতুন নাটকের দৃশ্য নাকি পারিবারিক অনুষ্ঠান? চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী জীবন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েলসহ গ্রেপ্তার ৩ পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় পুলিশের তৎপরতায় খোয়া যাওয়া ৬ লাখ টাকা উদ্ধার শাস্তির অপেক্ষায় ম্যান সিটি, হালান্ডের ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন বাবা যোগদানের পরই মধুপুর থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশংসিত ওসি ফজলুল হক মাটির স্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জৈব সারে ভর্তুকির আহ্বান ‎মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় মানববন্ধন নাবিকসহ ইরানি জাহাজ ছিনতাই করল সোমালিয়া জলদস্যুরা চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ পোশাকশিল্পে অস্থিরতার পেছনে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা শফিকুর রহমানের পাইকগাছায় দিনব্যাপী ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প; চিকিৎসাসেবা পেলেন শত শত রোগী পবিত্র ধর্মগ্রন্থেই সম্প্রীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া রয়েছে – জহির উদ্দিন স্বপন এখন যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রামে ডিবির অভিযানে দেশীয় তৈরি এলজি ও কার্তুজসহ একজন গ্রেপ্তার টেকনাফে এসআরবি-১৫ ও বিজিবির যৌথ অভিযান, ১ লাখ ২৯ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪ আবুধাবি থেকে আনা স্বর্ণের ‘ডিম’ কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি না হওয়ায় ফেরত নেওয়ার চেষ্টা! কাস্টমস গোয়েন্দার জালে ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার ৬টি স্বর্ণের ডিম! ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা ভূমি প্রতিমন্ত্রীর সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ, ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা ধর্মপাশায় বোরো জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ নোয়াখালীতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ শোভাযাত্রা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

হেড লাইন: উথলী-জাফরগঞ্জ সড়ক যেন মরণে- ফাঁদ, প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:28:32 pm, Thursday, 13 August 2026
  • 37 বার পড়া হয়েছে

হাসান শিকদার,মানিকগঞ্জ,

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে খানা,খন্দে ভরা প্রায় ৯ কিলোমিটার উথলী-জাফরগঞ্জ বেহাল দশার এ সড়কটি যেন এখন মড়ণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। সিএনজি, হ্যালোবইক ও অটোরিক্সা উল্টে গিয়ে ভাঙছে মানুষের হাত-পা। বর্তমানে জনবহুল এ সড়ক দিয়ে অনেক ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এ সড়কটি অতিদ্রুত সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী বাজার থেকে জাফরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কটি স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডির) অধীনে রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলার শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর এ তিন উপজেলার লোকজন চলাচল করে থাকেন। এছাড়া স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য সরবরাহের পাশাপাশি তিন উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্য রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা একেবারেই নাজুক। বৃষ্টি নামলেই উথলী বাজার ও বাড়াদিয়া বাজারের কাছে সড়কের মাঝে হাটু পানি জমে যায়। দেখে মনে হবে এটা কোন পানি প্রবাহের খাল। দশ কিলোমিটার এ সড়কের পুরো অংশের মাঝে মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি নামলে যা জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। পানি শুকিয়ে গেলে আবার কাদামাটির সৃষ্টি হয়। পরে মানুষজন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রিক্সা-অটো উল্টে পড়ে গিয়ে যাত্রীদের হাত-পা পর্যন্ত ভেঙ্গে যাচ্ছে।

এছাড়া গর্তের মধ্যে আটকা পড়ে বিভিন্ন যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। অবস্থা এমন যে, পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। রিক্সা-ভ্যানসহ যানচালকদের আয়ের একটি বড় অংশ খরচ হচ্ছে তাদের গাড়ি মেরামতের কাজে। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সড়কটিতে কাজ হয়েছিল। অর্থাৎ গত এক দশকে রাস্তাটিতে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। গত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে মেরামত কাজের টেন্ডার হলেও ঠিকাদার রাস্তার কিছু অংশ খোড়া-খোড়ি করে রেখে পালিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আরো বেশী অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তাটির এ অবস্থার কারণে তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা রাস্তাটি মেরামত করার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নজরে আসার কথা উল্লেখ করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ বলছে,উন্নয়ন পরিকল্পনায় সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মেরামতের জন্য টেন্ডারও দেয়া হয়েছে। খুব শিগ্রই ঠিকাদারকে হাজির করে রাস্তাটির মেরামত কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আজাহার হোসেন বলেন, উথলী-জাফরগঞ্জ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তাটি এ বেহাল দশা অবস্থায় পড়ে আছে। রাস্তার মাঝে মাঝে বড় বড় গর্তের। সৃষ্টি হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে এখন চলাচল করা খুবই কঠিণ। বৃষ্টি নামলে বাড়াদিয়া বাজারের কাছে হাটু পানি জমে। রিক্সা-ভ্যান উল্টে গিয়ে মানুষের পা পর্যন্ত ভাঙ্গছে। এগুলো দেখার কেউ নেই।

স্থানীয় এক কলেজ ছাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, ‘২০ মিনিটের রাস্তা যেতে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগে। আর বৃষ্টির দিনে তো হাঁটাও যায় না। সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর ইজিবাইক মাঝে মধ্যেই বিকল হয়ে যায়। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়। জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামত করা দরকার।

স্থানীয় কৃষক আফজাল বলেন, আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যাই। কিন্তু সময়মতো পৌঁছাতে পারি না। গাড়ি ভাড়াও বেশি। লাভের একটা অংশ রাস্তাতেই চলে যায়।

একই অভিযোগ তোলেন ওই এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, রাস্তায় যানবাহন না চলায় পণ্য পরিবহন করতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। এতে স্থানীয় বাজারগুলোতে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের দামে।
উথলী বাজারের ব্যবসায়ী বিপ্লব ঘোষ বলেন, আমার দোকানের সামনেই অনেক বড় গর্ত হয়ে আছে। বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এখানে। দীর্ঘসময় ধরে এই সড়কের এমন বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় সকলকেই অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরেই এ রাস্তাটি মেরামতের জন্য বলা হলেও কিন্তু এ সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয় দোকানদার খলিলুর রহমান জানান, রাস্তাঘাট ভালো না থাকলে ব্যবসা হয় না। মালামাল ঠিকমতো আসে না, আবার ক্রেতাও কমে গেছে। আমাদের সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক।
সিএনজি চালক জাহিদ বলেন, মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে আমরা রিক্সা চালাই। একটু এদিক-সেদিক হলেই গাড়ি উল্টে যায়। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে মোটর জ্বলে যায়। কখনো চাকা গর্তে পড়ে, কখনো ব্রেক নষ্ট হয়। মেরামত করতেই আয়ের টাকা শেষ হয়ে যায়।

ভ্যান চালক রহমান বলেন, রাস্তার কারণে ভ্যান মেরামত করতে করতেই আমাদের জীবন শেষ। আবার সংসার চালাবো কি করে। একদিন গাড়ি চালালে দু’দিন বসে থাকতে হয়। রাস্তার কারণে গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। যে টাকা কামাই করি সে টাকা দিয়ে গাড়ি সাড়তে হচ্ছে। এভাবেই চলছে আমাদের দিন কাল। আমাদের এগুলো দেখার মতো কেউ নেই। খুব কষ্টে আছি আমরা।

বাড়াদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ চন্দ্র মালো বলেন, উথুলী-জাফরগঞ্জ সড়কটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রাস্তা দিয়ে মাগুরাইর, জগনাথদিয়া ও আশপাশের কোমলমতি শিশুরা এ রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে থাকে। এসময় কাঁদা ছিটে তাদের জামা-কাপর নষ্ট হয়ে যায়। আপনারা একটু লেখেন যেম রাস্তাটি ঠিক হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী মো.আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত ২০২৫- ২৬ অর্থ বছরে ৪ কিলোমিটার রাস্তার মেরামতের কাজের দরপত্র আহবান করা হয়। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছু কাজ করেছে। বৃষ্টি পাতের জন্য একটু সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমলে ঠিকাদার দ্রুতই মেরামত কাজ শুরু করবেন বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

হেড লাইন: উথলী-জাফরগঞ্জ সড়ক যেন মরণে- ফাঁদ, প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা

আপডেট সময় : 06:28:32 pm, Thursday, 13 August 2026

হাসান শিকদার,মানিকগঞ্জ,

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে খানা,খন্দে ভরা প্রায় ৯ কিলোমিটার উথলী-জাফরগঞ্জ বেহাল দশার এ সড়কটি যেন এখন মড়ণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। সিএনজি, হ্যালোবইক ও অটোরিক্সা উল্টে গিয়ে ভাঙছে মানুষের হাত-পা। বর্তমানে জনবহুল এ সড়ক দিয়ে অনেক ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এ সড়কটি অতিদ্রুত সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী বাজার থেকে জাফরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কটি স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডির) অধীনে রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলার শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর এ তিন উপজেলার লোকজন চলাচল করে থাকেন। এছাড়া স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য সরবরাহের পাশাপাশি তিন উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্য রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা একেবারেই নাজুক। বৃষ্টি নামলেই উথলী বাজার ও বাড়াদিয়া বাজারের কাছে সড়কের মাঝে হাটু পানি জমে যায়। দেখে মনে হবে এটা কোন পানি প্রবাহের খাল। দশ কিলোমিটার এ সড়কের পুরো অংশের মাঝে মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি নামলে যা জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। পানি শুকিয়ে গেলে আবার কাদামাটির সৃষ্টি হয়। পরে মানুষজন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রিক্সা-অটো উল্টে পড়ে গিয়ে যাত্রীদের হাত-পা পর্যন্ত ভেঙ্গে যাচ্ছে।

এছাড়া গর্তের মধ্যে আটকা পড়ে বিভিন্ন যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। অবস্থা এমন যে, পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। রিক্সা-ভ্যানসহ যানচালকদের আয়ের একটি বড় অংশ খরচ হচ্ছে তাদের গাড়ি মেরামতের কাজে। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সড়কটিতে কাজ হয়েছিল। অর্থাৎ গত এক দশকে রাস্তাটিতে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। গত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে মেরামত কাজের টেন্ডার হলেও ঠিকাদার রাস্তার কিছু অংশ খোড়া-খোড়ি করে রেখে পালিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আরো বেশী অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তাটির এ অবস্থার কারণে তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা রাস্তাটি মেরামত করার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নজরে আসার কথা উল্লেখ করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ বলছে,উন্নয়ন পরিকল্পনায় সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মেরামতের জন্য টেন্ডারও দেয়া হয়েছে। খুব শিগ্রই ঠিকাদারকে হাজির করে রাস্তাটির মেরামত কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আজাহার হোসেন বলেন, উথলী-জাফরগঞ্জ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তাটি এ বেহাল দশা অবস্থায় পড়ে আছে। রাস্তার মাঝে মাঝে বড় বড় গর্তের। সৃষ্টি হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে এখন চলাচল করা খুবই কঠিণ। বৃষ্টি নামলে বাড়াদিয়া বাজারের কাছে হাটু পানি জমে। রিক্সা-ভ্যান উল্টে গিয়ে মানুষের পা পর্যন্ত ভাঙ্গছে। এগুলো দেখার কেউ নেই।

স্থানীয় এক কলেজ ছাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, ‘২০ মিনিটের রাস্তা যেতে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগে। আর বৃষ্টির দিনে তো হাঁটাও যায় না। সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর ইজিবাইক মাঝে মধ্যেই বিকল হয়ে যায়। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়। জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামত করা দরকার।

স্থানীয় কৃষক আফজাল বলেন, আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যাই। কিন্তু সময়মতো পৌঁছাতে পারি না। গাড়ি ভাড়াও বেশি। লাভের একটা অংশ রাস্তাতেই চলে যায়।

একই অভিযোগ তোলেন ওই এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, রাস্তায় যানবাহন না চলায় পণ্য পরিবহন করতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। এতে স্থানীয় বাজারগুলোতে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের দামে।
উথলী বাজারের ব্যবসায়ী বিপ্লব ঘোষ বলেন, আমার দোকানের সামনেই অনেক বড় গর্ত হয়ে আছে। বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এখানে। দীর্ঘসময় ধরে এই সড়কের এমন বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় সকলকেই অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরেই এ রাস্তাটি মেরামতের জন্য বলা হলেও কিন্তু এ সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয় দোকানদার খলিলুর রহমান জানান, রাস্তাঘাট ভালো না থাকলে ব্যবসা হয় না। মালামাল ঠিকমতো আসে না, আবার ক্রেতাও কমে গেছে। আমাদের সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক।
সিএনজি চালক জাহিদ বলেন, মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে আমরা রিক্সা চালাই। একটু এদিক-সেদিক হলেই গাড়ি উল্টে যায়। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে মোটর জ্বলে যায়। কখনো চাকা গর্তে পড়ে, কখনো ব্রেক নষ্ট হয়। মেরামত করতেই আয়ের টাকা শেষ হয়ে যায়।

ভ্যান চালক রহমান বলেন, রাস্তার কারণে ভ্যান মেরামত করতে করতেই আমাদের জীবন শেষ। আবার সংসার চালাবো কি করে। একদিন গাড়ি চালালে দু’দিন বসে থাকতে হয়। রাস্তার কারণে গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। যে টাকা কামাই করি সে টাকা দিয়ে গাড়ি সাড়তে হচ্ছে। এভাবেই চলছে আমাদের দিন কাল। আমাদের এগুলো দেখার মতো কেউ নেই। খুব কষ্টে আছি আমরা।

বাড়াদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ চন্দ্র মালো বলেন, উথুলী-জাফরগঞ্জ সড়কটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রাস্তা দিয়ে মাগুরাইর, জগনাথদিয়া ও আশপাশের কোমলমতি শিশুরা এ রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে থাকে। এসময় কাঁদা ছিটে তাদের জামা-কাপর নষ্ট হয়ে যায়। আপনারা একটু লেখেন যেম রাস্তাটি ঠিক হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী মো.আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত ২০২৫- ২৬ অর্থ বছরে ৪ কিলোমিটার রাস্তার মেরামতের কাজের দরপত্র আহবান করা হয়। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছু কাজ করেছে। বৃষ্টি পাতের জন্য একটু সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমলে ঠিকাদার দ্রুতই মেরামত কাজ শুরু করবেন বলে তিনি জানান।