Dhaka , Wednesday, 5 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
বাংলাদেশকে চিরতরে ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখতে পারলে শহিদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে: ইবি উপাচার্য স্বপ্নের সুরে এগিয়ে চলা মধুপুরের গীতিকার আমিনুল ইসলাম সেলিম জনআকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের আলোকে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ :- প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল জুলাই-আগস্টের শহীদরা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে :- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শিল্পকলায় আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জুলাইয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে স্বৈরাচারের বিদায় ঘন্টা বেজে ওঠে -জাহান্দার আলী এমপি মাদারীপুরে যথাযোগ্য শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ৪৭ টি বুলেটের আঘাতের পরও আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি রামগঞ্জের সিহাব জাফর ইকবালের সঙ্গে প্রেম নিয়ে যে তথ্য দিলেন ববিতা আয়ের দিক থেকে অনন্য উচ্চতায় রিয়াল মাদ্রিদ পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি ২ লাখ ১৮ হাজার টন, এসেছে ২৬ টন হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা দেশকে কিভাবে ধ্বংস করা যায় সেই সব ব্লু-প্রিন্ট গণভবনে বানানো হতো: পার্থ সরাইল ফারজানা আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে গাজীপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী সীমান্তে ১৫ বিজিবির টানা ৩টি অভিযান: ১৪ লাখ টাকার ভারতীয় স্বর্ণ কাতান শাড়ী, গাঁজা ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ সোনারগাঁয়ে অটোরিকশাচালকের রহস্যজনক মৃত্যু, স্ত্রী ও শ্বশুর থানায় রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী সভা, মাদক নির্মূলে পুলিশ-জনতার সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান দুর্গাপুরে খাল খননের বকেয়া মজুরির দাবিতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ গাজীপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন হরিপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাইভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে গাজা ও ইয়াবা সেবনের অপরাধে বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার নগরীর ২৫ ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বিনামূল্যে বর্জ্য সংগ্রহ করবে চসিক:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রাজধানীর তিন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, উত্তেজনায় দিনভর অচলাবস্থা সত্যের প্রতীক খাল খননের নামে নদী ও ফসলি জমি কাটার অভিযোগ: এলাকাবাসীর ক্ষোভ রূপগঞ্জের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুল মতিন চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত পূর্বাচল উপশহরে ডাকাতি করে পালানোর সময় লুন্ঠিত মালামালসহ  গ্রেফতার || ৬ জন মাইক্রোবাস জব্দ

৪৭ টি বুলেটের আঘাতের পরও আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি রামগঞ্জের সিহাব

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:47:17 pm, Wednesday, 5 August 2026
  • 3 বার পড়া হয়েছে

মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার আরাফাত হোসেন শিহাব ৪৭টি বুলেটে আঘাতের পরও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি আহতদের তালিকায়। এখনো দুটি বুলেটের যন্ত্রণা নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ আরাফাত হোসেন শিহাবের দেহে রয়ে গেছে দুটি বুলেট। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি তিনি। ফলে কোনো ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা বা উন্নত চিকিৎসার সুযোগও পাননি। আরাফাত হোসেন শিহাবের লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মাহাবুব হাক্কানীর ছেলে।

শিহাব জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার শাহ আলী থানার সামনে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার পিঠ, ঘাড় ও কোমরে মোট ৪৭টি বুলেটের স্প্লিন্টার ও ছররা আঘাত করে। একই ঘটনায় তার বড় ভাই, ঢাকা সাইন্স ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী হাসানাতও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। হাসানাত সুস্থ হয়ে উঠলেও আরাফাতের ঘাড় ও কোমরে এখনো দুটি বুলেট রয়ে গেছে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা বুলেট অপসারণের চেষ্টা করলে স্থায়ী জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আরাফাত জানান ‘আমি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। ঘাড়ের পেছনে প্রায়ই ঝিনঝিন অনুভূতি হয়। এ অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরাফাতের মা মোহছেনা বেগম জানান, ‘ছেলেদের লেখাপড়ার জন্য গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে বসবাস শুরু করি। স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করব। কিন্তু আন্দোলনে আহত হওয়ার পর সব আশায় গুড়ে বালি। সিহাবের এইচএসসি পরীক্ষার ফলও আশানুরূপ হয়নি। এখন চিকিৎসার খরচ বহন করাই আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহত হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। তালিকাভুক্ত হলে অন্তত ছেলের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো।’

তার মা আরো জানান , সিহাব বর্তমানে অনার্সে অধ্যয়নরত। তার বাবা মাহাবুব হাক্কানী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঞ্চিত অর্থ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

পরিবারের দাবি, জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত আরাফাতকে দ্রুত সরকারি আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশকে চিরতরে ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখতে পারলে শহিদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে: ইবি উপাচার্য

৪৭ টি বুলেটের আঘাতের পরও আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি রামগঞ্জের সিহাব

আপডেট সময় : 04:47:17 pm, Wednesday, 5 August 2026

মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার আরাফাত হোসেন শিহাব ৪৭টি বুলেটে আঘাতের পরও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি আহতদের তালিকায়। এখনো দুটি বুলেটের যন্ত্রণা নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ আরাফাত হোসেন শিহাবের দেহে রয়ে গেছে দুটি বুলেট। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি তিনি। ফলে কোনো ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা বা উন্নত চিকিৎসার সুযোগও পাননি। আরাফাত হোসেন শিহাবের লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মাহাবুব হাক্কানীর ছেলে।

শিহাব জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার শাহ আলী থানার সামনে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার পিঠ, ঘাড় ও কোমরে মোট ৪৭টি বুলেটের স্প্লিন্টার ও ছররা আঘাত করে। একই ঘটনায় তার বড় ভাই, ঢাকা সাইন্স ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী হাসানাতও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। হাসানাত সুস্থ হয়ে উঠলেও আরাফাতের ঘাড় ও কোমরে এখনো দুটি বুলেট রয়ে গেছে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা বুলেট অপসারণের চেষ্টা করলে স্থায়ী জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আরাফাত জানান ‘আমি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। ঘাড়ের পেছনে প্রায়ই ঝিনঝিন অনুভূতি হয়। এ অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরাফাতের মা মোহছেনা বেগম জানান, ‘ছেলেদের লেখাপড়ার জন্য গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে বসবাস শুরু করি। স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করব। কিন্তু আন্দোলনে আহত হওয়ার পর সব আশায় গুড়ে বালি। সিহাবের এইচএসসি পরীক্ষার ফলও আশানুরূপ হয়নি। এখন চিকিৎসার খরচ বহন করাই আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহত হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। তালিকাভুক্ত হলে অন্তত ছেলের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো।’

তার মা আরো জানান , সিহাব বর্তমানে অনার্সে অধ্যয়নরত। তার বাবা মাহাবুব হাক্কানী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঞ্চিত অর্থ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

পরিবারের দাবি, জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত আরাফাতকে দ্রুত সরকারি আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।