
স্পোর্টস ডেস্ক,
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা—অর্থাৎ মেনা অঞ্চল—থেকে এবার ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে আটটি দল। এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, মিসর, ইরাক, জর্ডান, মরক্কো, কাতার, সৌদি আরব এবং তিউনিসিয়া।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ বলছে, এক বিশ্বকাপে এতগুলো আরব ভাষাভাষী দেশের অংশগ্রহণ ফুটবলের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।
বিশ্লেষকদের চোখে এবারও সবচেয়ে শক্তিশালী দল মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া দলটি এবারও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছে। ইউরোপীয় লিগে খেলা একাধিক তারকা নিয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড গড়েছে তারা।
অন্যদিকে সৌদি আরব ২০২২ সালের আর্জেন্টিনা বিপর্যয়ের পর আবারও চমক দেখাতে প্রস্তুত। তবে কঠিন গ্রুপের কারণে তাদের লক্ষ্য এবার শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়া।
আলজেরিয়া ও মিসর—দুই আফ্রিকান জায়ান্টের জন্যও এবার চ্যালেঞ্জ বড়।
আলজেরিয়ার আক্রমণভাগ শক্তিশালী হলেও রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাদের সম্ভাবনা শেষ ৩২-এ থেমে যেতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
মিসর, সাতবার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হলেও বিশ্বকাপে এখনও বড় সাফল্যের অপেক্ষায়। এবারও কঠিন গ্রুপের কারণে তাদের অগ্রযাত্রা থেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে জর্ডান। শক্তিশালী শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ থাকলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কারণে তাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা।
১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাক এবার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইবে, তবে শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে লড়াই কঠিন হবে।
নিজেদের মাটিতে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায় কাতার। তাদের লক্ষ্য এবার অন্তত প্রথম জয় ও প্রথম পয়েন্ট।
আর তিউনিসিয়া এবারও রক্ষণনির্ভর ফুটবল নিয়ে মাঠে নামবে, তবে গোল করার দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, মেনা অঞ্চলে সবচেয়ে বড় আশা মরক্কো। তবে বাকি দলগুলোও চমক দেখাতে পারলে ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে আরব ফুটবলের জন্য ইতিহাস গড়ার আসর।

























