
মাহবুবুর রহমান (শান্ত),
রাজধানীর ডেমরায় ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল বিভিন্ন এলাকার খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা তপ্ত রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গাড়ি ও মোটরসাইকেলচালকরা। অনেকেই ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ডেমরার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্রকাশ্যেই ড্রাম ও বোতলে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত সিকদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পিকআপে আনা কয়েকটি ড্রামে তেল ভর্তি করছেন পাম্পের কর্মীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা অকপটে জানান, পাম্প থেকে তেল নিয়ে তা খোলা বাজারে বিক্রি করা হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহও দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জহিরুল ইসলাম রনি মুন্সীর মালিকানাধীন এই পাম্প থেকে দিনরাত অবাধে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে।
স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় খোলা বাজারে তেল বিক্রেতা আব্দুর রহমান জানান, রনি মুন্সীর মালিকানাধীন আরও কয়েকটি পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে গাউছিয়া এলাকায় মুন্সী ফিলিং স্টেশন, মদনপুরে আগমন ফিলিং স্টেশন, গাজীপুরে হংকং ফিলিং স্টেশন, রূপসীতে সিকদার ফিলিং স্টেশন এবং ময়মনসিংহে মেমো ফিলিং স্টেশন উল্লেখযোগ্য।
তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব পাম্প থেকে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি মূল্যে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
তার ভাষ্য, বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে অধিক মুনাফার আশায় যারা তেল মজুদ ও খোলা বাজারে বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় অসাধু মজুদ চক্রের দৌরাত্ম্য আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে সিকদার ফিলিং স্টেশনের মালিক জহিরুল ইসলাম রনি মুন্সী বলেন, “আমরা সরকারি নিয়ম মেনেই তেল বিক্রি করছি।” তবে ড্রামে তেল সরবরাহের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ডেমরা থানার ওসি মির্জা তাইফুর রহমান জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাঠে কাজ করছে।
























