
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের এক মাস না পেরোতেই বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে মমতা ব্যানার্জী নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস।
দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। একইভাবে লোকসভার ৪১ জন এমপির মধ্যে ২০ জন এনডিএকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে।
বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত ব্যানার্জী, অন্যদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি আলাদা সাংসদ গোষ্ঠী দিল্লিতে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভাঙনের ফলে দলটি কার্যত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে—
একটি অংশ মমতা ব্যানার্জীর অনুগত,
একটি অংশ বিদ্রোহী শিবির,
এবং আরেকটি অংশ এনডিএ-ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে দলীয় প্রতীক ও সম্পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের Symbols Order 1968 অনুযায়ী, কোনো দল বিভক্ত হলে কোন পক্ষ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে তা নির্ধারণের ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকে।
সাধারণত কমিশন বিবেচনায় নেয়—
- অধিকাংশ এমপি-এমএলএ কোন পক্ষের সঙ্গে আছেন
- সাংগঠনিক কাঠামোর সমর্থন কার পক্ষে
- দলীয় আদর্শ ও সংবিধান কোন অংশ অনুসরণ করছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে পারে, তবে প্রতীক ছাড়াও দলের সম্পদের ওপরও তাদের দাবি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের মোট সম্পদ এক হাজার কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি, বিনিয়োগ ও ব্যাংক আমানত রয়েছে।
ভারতের রাজনীতিতে দলভাঙনের নজির নতুন নয়—এর আগে শিবসেনা, এনসিপি, কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দলেও একই ধরনের সংকট দেখা গেছে।
তবে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।
























