
বিজয় চৌধুরী, ঢাকা:
জ্বালানি সংকটের প্রভাব ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তেল সংগ্রহে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি, আর তেল পেতে চালকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন পাম্পে দেখা গেছে একই চিত্র—ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকছে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও গণপরিবহন। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে চালকদের।
পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগে যেখানে একটি পাম্প দৈনিক প্রায় ২০ হাজার লিটার জ্বালানি পেত, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার লিটারে। ফলে অনেক পাম্প বাধ্য হয়ে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিক্রি বন্ধ রাখছে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে। আমদানি নির্ভরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশে সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানির মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। দীর্ঘ লাইনের পেছনে আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটাকেই (panic buying) প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি রেশনিং, পাম্পের সময়সীমা কমানো এবং জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবুও বাস্তব চিত্রে ভোগান্তি কমেনি; বরং প্রতিদিনই বাড়ছে চাপ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে পরিবহন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

























