
সাইফুল্লাহ নাসির আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মোঃ মনিরুল ইসলাম, মিরাজ সিকদার ও মেহেদী হাসান এক অটোচালককে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। স্থানীয় জনতা তাদের গণধোলাই দিয়ে মিরাজকে পুলিশে সোপর্দ করে।
অপর দুই চাঁদাবাজ মনিরুল ও মেহেদী পালিয়ে গিয়ে গেছে। জনতার গণধোলাইয়ে মনিরুল অবস্থা খারাপ হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। মুহুর্তের মধ্যে এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। চাঁদাবাজ সাংবাদিকদের বিচার দাবী করেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে বরগুনা-১ আসনের সাংসদ মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলী উল্লাহ আমতলী থানার ওসিকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন সাংসদের নির্দেশ অমান্য করে বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় মিমাংশা করে আটককৃত মিরাজকে ছেড়ে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামে।
জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের মনিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও মিরাজ সহ সংঘবদ্ধ একটা গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে এলাকার চাঁদাবাজি করে আসছে। তাদের এমন কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তাদের নামে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। রবিবার বিকেলে উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের অটো চালক কবির হাওলাদার যাত্রী নিয়ে তালুকদার বাজার যাচ্ছিল। পিছন দিক থেকে একটি মোটর সাইকেলে তারা তিনজনে অটো গাড়ীর গতিরোধ করে এবং যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। পরে অটোচালক কবির হাওলাদারকে গাঁজার ব্যবসা কর বলে মারধর করে। এক পর্যায় তারা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। অটো চালক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা অটোচালক কবিরকে মারধরের প্রতিবাদ করে। এতে তাদের ওপর তারা ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায় অটোচালক ও স্থানীয়রা কথিত সাংবাদিকদের গণ ধোলাই দেয়। গণধোলাই খেয়ে মনিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান পালিয়ে যায় এবং মিরাজ সিকদারকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। আহত মনিরুল ইসলাম আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। খবর পেয়ে বরগুনা-১ আসনের সাংসদ মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ আমতলী থানার ওসিকে চাদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন সাংসদের আদেশ অমান্য করে বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় মিমাংশা করে আটককৃত চাঁদাবাজ মিরাজ সিকদারকে ছেড়ে দেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অটোচালক কবির হাওলাদারের স্ত্রী মোসাঃ মামনি বেগম বলেন, আমতলী থানার ওসি স্যারে মামলা নেবেনা, উকিলেরা মামলা লিখবে না। পরে ওসি স্যারে মিলিয়ে মিশিয়ে দিয়েছেন। এতে আপনার কি খুশি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ কি করমু? আমরা সাধারণ মানুষ দিন আনি দিন খাই।
কথিত সাংবাদিক মোঃ মনিরুল ইসলামের ফোনে (০১৭৭৪৮৯৮৩২৩) কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল ডাঃ রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, মনিরুল ইসলামকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। পক্ষদ্বয় মিমাংশা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি কাউকে আটকও করিছি আর কাউকে ছেড়েও দেয়নি।
বরগুনা-১ আসনের সাংসদ মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলী উল্লাহ বলেন, আমতলী থানার ওসিকে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আপনার আদেশ অমান্য করে ওসি আটককৃত মিরাজ সিকদারকে ছেড়ে দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি দেখবো।
























