
মোঃ সাগর ইসলাম,
| ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভোর ৬টা। উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা তখনো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। চারদিকে পিনপতন নীরবতা। কিন্তু এই নিস্তব্ধতার আড়ালেই কাঁঠালডাঙ্গী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চলছিল বিজিবির এক রুদ্ধশ্বাস ও নিখুঁত অভিযান। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা বিজিবি সদস্যদের জালে ধরা পড়লেন ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে ফেরা ৬ বাংলাদেশি যুবক।
অভিযান ও অবস্থান
৫০/ডি কোম্পানির নিজস্ব গোয়েন্দা (SIP & RIB) এবং সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি নিশ্চিত হয় যে, একটি দল অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করবে। ম্যাপ রেফারেন্স ৭৮বি/৪ অনুযায়ী, সীমান্ত পিলার ৩৭০/১-এস থেকে মাত্র ১০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পিপলডাঙ্গী নামক স্থানে অবস্থান নেন বিজিবি সদস্যরা। ঘড়ির কাঁটায় যখন সকাল ৬টা, তখনই ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একে একে আটক করা হয় ৬ অনুপ্রবেশকারীকে। এসময় তাদের সাথে থাকা একটি ১১০ সিসি টিভিএস (TVS) সহ মোট দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
আটককৃতদের পরিচয়
আটককৃতরা সবাই ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার বাসিন্দা। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। আটককৃতরা হলেন:
রাণীশংকৈল উপজেলা: ভরণীয়া গ্রামের মোঃ মোখলেছুর (২১) ও মোঃ মনসুর রহমান (১৮), ভাণ্ডারিয়া গ্রামের মোঃ রুবেল (২৮) এবং রাঘোপুর গ্রামের মোঃ আমিনুর (১৮)।
হরিপুর উপজেলা: মারাধর গ্রামের মোঃ ইমরান (২৩) ও পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামের মোঃ সুবেল (২৬)।
”সীমান্ত অপরাধ দমন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।” — ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ।
কেন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ?
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভাবের তাড়না কিংবা দালালের প্রলোভনে পড়ে এসব যুবক প্রায়ই সীমান্ত পাড়ি দেয়। কাজের সন্ধানে ওপারে গেলেও ফেরার সময় বৈধ নথিপত্র না থাকায় তারা বেছে নেয় দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ। বিজিবির এই আটক কেবল একটি আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং সীমান্তের অনিশ্চিত ও বিপদসংকুল জীবনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
সচেতন মহলের অভিমত
ঘটনার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে কর্মসংস্থান তৈরি এবং আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন অনুপ্রবেশ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। কাঁটাতারের বাধা হয়তো শরীরকে আটকে দেয়, কিন্তু পেটের দায় আর নাড়ির টানে বারবার জীবন বাজি রাখে এই যুবকরা।
























