Dhaka , Monday, 23 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর মানবিক উদ্ধার অভিযান: বাস-অটো সংঘর্ষে আহতদের তড়িৎ হাসপাতালে স্থানান্তর লালমনিরহাট শহরের ক্যান্টিন মোড়ে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কা: অটোরিকশার ৮ যাত্রী আহত জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ঈদকে ঘিরে পাইকগাছায় জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন রমজানজুড়ে মানবতার দৃষ্টান্ত অসহায়দের পাশে হাকিমপুর নারী উদ্যোক্তা ফোরাম পাঁচবিবিতে এতিম-অসহায়দের পাশে হ্যাপিনেস সংগঠন ঈদ উপহার বিতরণ মাগুরায় ২’শ অসচ্ছল পরিবারের বাড়িতে গিয়ে ঈদ বাজার পৌঁছে দিল জাহানারা বেগম ফাউন্ডেশন রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল ফিতর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগনকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন : ড. মঈন খান রংপুরে র‍্যাবের অভিযানে ২ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার: গাঁজা ও ইয়াবা জব্দ কালীগঞ্জে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শতাধিক পরিবারের ঈদ পালন: মুন্সিপাড়ায় প্রধান জামাত নববধূকে নিয়ে হেলিকপ্টারে গ্রামে আগমন, নজর কাড়লেন সুমন চবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাবীবের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ঝালকাঠিতে অর্ধশত পরিবারের ঈদুল ফিতর উদযাপন সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর ছয় গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন চট্টগ্রাম নগরীর টেরিবাজারের বহুতল মার্কেটে আগুন, দুই টেইলার্স কর্মচারীর মৃত্যু মধুপুরে পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে দোয়া ও সমর্থন চান সাইফুল ইসলাম সাগর ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে: নজরুলের এ কালজয়ী সৃষ্টির নেপথ্যকথা রূপগঞ্জে কিশোর অপহরণ/ মুক্তিপণ দাবি/থানায় অভিযোগ জাজিরা কেন্দ্রীয় পৌর ঈদগাহে ২০২৬ সালের পরিচালনা কমিটি গঠন রূপগঞ্জে সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ২০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ রূপগঞ্জে কথিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ, অপপ্রচারের অভিযোগ নাসির উদ্দীনের প্রযুক্তির আড়ালে জুয়ার আসর: লালমনিরহাটে ডিবির জালে ৩ জন, জব্দ বিপুল পরিমাণ সিম ও স্মার্টফোন মানবতার বন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থা -পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার ও মেহেদী উৎসবের আয়োজন নোয়াখালীতে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু, আহত ২ শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাতের প্রস্তুতি: প্রশাসনের আশাবাদ, আনন্দঘন আয়োজনের প্রত্যাশা যন্ত্রপাতি বিক্রি করে ১৬ লাখ টাকা উদ্ধার তিন মাস পর বেতন পেয়ে স্বস্তিতে ১৩০ শ্রমিক পাইকগাছায় সাইবার অপপ্রচারের শিকার ব্যবসায়ী রেজাউল মোড়ল, থানায় জিডি রামগঞ্জে আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত শরীয়াতপুরের ডামুড্যায় সাইকেল-ট্রলির সংঘর্ষে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

লালমনিরহাটকে ‘শান্তির নীড়’ ও আধুনিক জনপদ গড়ার ঘোষণা আসাদুল হাবিব দুলুর

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:46:53 pm, Sunday, 21 December 2025
  • 48 বার পড়া হয়েছে

চঞ্চল,

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশপ্রেম ও সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং সেনাবাহিনী পরিবারের এক গর্বিত সদস্য। লালমনিরহাটকে একটি বৈষম্যহীন, মাদকমুক্ত এবং উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দেশপ্রেমকে কাজে লাগাতে হবে।”

শনিবার রাতে লালমনিরহাটে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সংঘের আয়োজনে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্রের চিত্র এবং লালমনিরহাট নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন।

তারেক রহমানের আগমন ও আগামীর নেতৃত্বঃ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আসাদুল হাবিব দুলু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “আগামী ২৫শে ডিসেম্বর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমান আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন ইনশাআল্লাহ। তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নতুন স্লোগান নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতো ভাগ্যবান সন্তান বাংলাদেশে বিরল, যার বাবা রাষ্ট্রপতি এবং মা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আগামী দিনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দেবেন এবং দেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে।”

উপমন্ত্রী থাকাকালে যা করেছেন (উন্নয়নের খতিয়ান):

সাবেক এই উপমন্ত্রী তাঁর ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সফলতার কথা স্মরণ করে নিজের আমলের ছোট-বড় কাজের বিবরণ দেন। তিনি জানান, রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন মাত্র তিন মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে সরাসরি ‘লালমনিরহাট এক্সপ্রেস’ ইন্টারসিটি ট্রেন চালু করেন এবং স্টেশন আধুনিকায়ন করেন। পাশাপাশি কৃষি বিপ্লব ঘটাতে শ্যালো ইঞ্জিন ও পাওয়ার ট্রিলার আমদানির মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ ও উন্নত ধানের ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি করেছিলেন। নদী শাসনে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্পার বাঁধ’ নির্মাণ করা। এছাড়াও চিত্তবিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণ, অসংখ্য ছোট-বড় রাস্তা, ব্রিজ, স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও সেচ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। দুলু আক্ষেপ করে বলেন, “আমি একজন উপমন্ত্রী হয়েও জেলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যে উন্নয়ন করেছি, বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাটের তিনজন ক্ষমতাধর পূর্ণ মন্ত্রী মিলেও তার ধারের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।“

আলোকিত লালমনিরহাট’ ও সামাজিক অপরাধ নির্মূলে কঠোর ঘোষণা

অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের রূপরেখা পেশ করেন। তিনি মনে করেন, সমাজ ভেতর থেকে পচে গেলে শুধু দালানকোঠা দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই আন্দোলনের আওতায় তিনি নিম্নোক্ত সামাজিক অপরাধগুলো নির্মূলের শপথ নেন:

  • ১৩টি সামাজিক অপরাধ নির্মূল: যৌতুক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি এবং বর্তমানের অভিশাপ ক্যাসিনো ও মোবাইল জুয়াসহ ১৩টি সুনির্দিষ্ট ব্যাধির বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
  • মাদকবিরোধী লড়াই ও তিন ধাপের পরিকল্পনা: সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মাদক নির্মূলে তিনি তিন ধাপের (প্রথমে মসজিদ-মহল্লা ভিত্তিক কাউন্সেলিং, এরপর নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা এবং সর্বশেষ অবাধ্যদের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা) পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
  • মানবিক সমাজ গঠন: ব্যক্তি ও পরিবার শুদ্ধ করার মাধ্যমে একটি আদর্শ ও মানবিক লালমনিরহাট উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা:

  • মোগলহাট ল্যান্ড পোর্ট ও বিমানবন্দর সচল: পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় সচল করা এবং মোগলহাট স্থলবন্দর (Land Port) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
  • তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন: নদী শাসন ও স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের মাধ্যমে রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তন করা হবে।
  • শিল্পায়ন: জেলার শিক্ষিত যুবকদের নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ দিতে বড় মাপের কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে।

ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও ‘বেহেশতের টিকিট’ রাজনীতির সমালোচনাঃ

অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করেন যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, “কিছু দল সাধারণ মানুষকে ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার মতো অবাস্তব ও কুফরি কথা বলে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা দাবি করছে তাদের মার্কায় ভোট দিলেই জান্নাত নিশ্চিত। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, বেহেশত বা জান্নাতের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। তারা মানুষের ইমান নষ্ট করছে। ইসলামে খেলাফত ব্যবস্থায় ভোট বা গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।” তিনি জনগণকে এই ধরণের ধর্মীয় ভণ্ডামি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

নির্বাচনী ষড়যন্ত্র, ‘মব’ সৃষ্টি ও হাদি হত্যার প্রতিবাদঃ

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান ষড়যন্ত্র নিয়ে দুলু বলেন, “একটি নির্দিষ্ট মহল নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ‘পানি ঘোলা’ করে নির্বাচন বন্ধের পায়তারা করছে।“ তিনি সম্প্রতি ওসমান হাদি-কে গুলি করে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন , “হাদির মৃত্যুর পর সারা দেশে ‘মব’  সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে।“ তিনি অভিযোগ করেন, এই অপশক্তির উদ্দেশ্য হলো দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা যাতে নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যায়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের এই ধরণের ষড়যন্ত্র ও ভণ্ডামি সাধারণ মানুষের কাছে উন্মোচন করার আহ্বান জানান।

বিগত ১৭ বছরের স্থবিরতা ও তিন মন্ত্রীর ব্যর্থতাঃ

অধ্যক্ষ দুলু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন যে, “বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাট জেলা থেকে তিনজন মন্ত্রী থাকলেও তারা জেলার কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারেননি।“ তিনি তাদের ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “তাদের নামের সাথে ‘মন্ত্রী’ টাইটেল থাকলেও লালমনিরহাটের মৌলিক উন্নয়নে তাদের কোনো অবদান নেই। বিশেষ করে জিএম কাদের বিমান মন্ত্রী থাকার পরেও পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি সচল করার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, যা জেলার মানুষের জন্য চরম হতাশাজনক।“

স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতিঃ

বক্তব্যে তিনি একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য কোনোদিন সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ বা টেন্ডারবাজি করবে না।“

পরবর্তীতে তিনি নরসুন্দর সমিতি আয়োজিত পৃথক একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে লালমনিরহাটকে একটি প্রকৃত ‘শান্তির নীড়’ হিসেবে গড়ে তুলবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর মানবিক উদ্ধার অভিযান: বাস-অটো সংঘর্ষে আহতদের তড়িৎ হাসপাতালে স্থানান্তর

লালমনিরহাটকে ‘শান্তির নীড়’ ও আধুনিক জনপদ গড়ার ঘোষণা আসাদুল হাবিব দুলুর

আপডেট সময় : 12:46:53 pm, Sunday, 21 December 2025

চঞ্চল,

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশপ্রেম ও সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং সেনাবাহিনী পরিবারের এক গর্বিত সদস্য। লালমনিরহাটকে একটি বৈষম্যহীন, মাদকমুক্ত এবং উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দেশপ্রেমকে কাজে লাগাতে হবে।”

শনিবার রাতে লালমনিরহাটে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সংঘের আয়োজনে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্রের চিত্র এবং লালমনিরহাট নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন।

তারেক রহমানের আগমন ও আগামীর নেতৃত্বঃ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আসাদুল হাবিব দুলু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “আগামী ২৫শে ডিসেম্বর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমান আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন ইনশাআল্লাহ। তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নতুন স্লোগান নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতো ভাগ্যবান সন্তান বাংলাদেশে বিরল, যার বাবা রাষ্ট্রপতি এবং মা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আগামী দিনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দেবেন এবং দেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে।”

উপমন্ত্রী থাকাকালে যা করেছেন (উন্নয়নের খতিয়ান):

সাবেক এই উপমন্ত্রী তাঁর ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সফলতার কথা স্মরণ করে নিজের আমলের ছোট-বড় কাজের বিবরণ দেন। তিনি জানান, রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন মাত্র তিন মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে সরাসরি ‘লালমনিরহাট এক্সপ্রেস’ ইন্টারসিটি ট্রেন চালু করেন এবং স্টেশন আধুনিকায়ন করেন। পাশাপাশি কৃষি বিপ্লব ঘটাতে শ্যালো ইঞ্জিন ও পাওয়ার ট্রিলার আমদানির মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ ও উন্নত ধানের ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি করেছিলেন। নদী শাসনে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্পার বাঁধ’ নির্মাণ করা। এছাড়াও চিত্তবিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণ, অসংখ্য ছোট-বড় রাস্তা, ব্রিজ, স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও সেচ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। দুলু আক্ষেপ করে বলেন, “আমি একজন উপমন্ত্রী হয়েও জেলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যে উন্নয়ন করেছি, বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাটের তিনজন ক্ষমতাধর পূর্ণ মন্ত্রী মিলেও তার ধারের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।“

আলোকিত লালমনিরহাট’ ও সামাজিক অপরাধ নির্মূলে কঠোর ঘোষণা

অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের রূপরেখা পেশ করেন। তিনি মনে করেন, সমাজ ভেতর থেকে পচে গেলে শুধু দালানকোঠা দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই আন্দোলনের আওতায় তিনি নিম্নোক্ত সামাজিক অপরাধগুলো নির্মূলের শপথ নেন:

  • ১৩টি সামাজিক অপরাধ নির্মূল: যৌতুক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি এবং বর্তমানের অভিশাপ ক্যাসিনো ও মোবাইল জুয়াসহ ১৩টি সুনির্দিষ্ট ব্যাধির বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
  • মাদকবিরোধী লড়াই ও তিন ধাপের পরিকল্পনা: সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মাদক নির্মূলে তিনি তিন ধাপের (প্রথমে মসজিদ-মহল্লা ভিত্তিক কাউন্সেলিং, এরপর নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা এবং সর্বশেষ অবাধ্যদের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা) পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
  • মানবিক সমাজ গঠন: ব্যক্তি ও পরিবার শুদ্ধ করার মাধ্যমে একটি আদর্শ ও মানবিক লালমনিরহাট উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা:

  • মোগলহাট ল্যান্ড পোর্ট ও বিমানবন্দর সচল: পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় সচল করা এবং মোগলহাট স্থলবন্দর (Land Port) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
  • তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন: নদী শাসন ও স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের মাধ্যমে রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তন করা হবে।
  • শিল্পায়ন: জেলার শিক্ষিত যুবকদের নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ দিতে বড় মাপের কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে।

ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও ‘বেহেশতের টিকিট’ রাজনীতির সমালোচনাঃ

অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করেন যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, “কিছু দল সাধারণ মানুষকে ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার মতো অবাস্তব ও কুফরি কথা বলে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা দাবি করছে তাদের মার্কায় ভোট দিলেই জান্নাত নিশ্চিত। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, বেহেশত বা জান্নাতের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। তারা মানুষের ইমান নষ্ট করছে। ইসলামে খেলাফত ব্যবস্থায় ভোট বা গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।” তিনি জনগণকে এই ধরণের ধর্মীয় ভণ্ডামি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

নির্বাচনী ষড়যন্ত্র, ‘মব’ সৃষ্টি ও হাদি হত্যার প্রতিবাদঃ

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান ষড়যন্ত্র নিয়ে দুলু বলেন, “একটি নির্দিষ্ট মহল নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ‘পানি ঘোলা’ করে নির্বাচন বন্ধের পায়তারা করছে।“ তিনি সম্প্রতি ওসমান হাদি-কে গুলি করে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন , “হাদির মৃত্যুর পর সারা দেশে ‘মব’  সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে।“ তিনি অভিযোগ করেন, এই অপশক্তির উদ্দেশ্য হলো দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা যাতে নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যায়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের এই ধরণের ষড়যন্ত্র ও ভণ্ডামি সাধারণ মানুষের কাছে উন্মোচন করার আহ্বান জানান।

বিগত ১৭ বছরের স্থবিরতা ও তিন মন্ত্রীর ব্যর্থতাঃ

অধ্যক্ষ দুলু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন যে, “বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাট জেলা থেকে তিনজন মন্ত্রী থাকলেও তারা জেলার কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারেননি।“ তিনি তাদের ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “তাদের নামের সাথে ‘মন্ত্রী’ টাইটেল থাকলেও লালমনিরহাটের মৌলিক উন্নয়নে তাদের কোনো অবদান নেই। বিশেষ করে জিএম কাদের বিমান মন্ত্রী থাকার পরেও পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি সচল করার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, যা জেলার মানুষের জন্য চরম হতাশাজনক।“

স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতিঃ

বক্তব্যে তিনি একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য কোনোদিন সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ বা টেন্ডারবাজি করবে না।“

পরবর্তীতে তিনি নরসুন্দর সমিতি আয়োজিত পৃথক একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে লালমনিরহাটকে একটি প্রকৃত ‘শান্তির নীড়’ হিসেবে গড়ে তুলবেন।