Dhaka , Friday, 6 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
চন্দনাইশে দোহাজারীতে অবৈধ রোহিঙ্গা কলোনীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩৪৫ জন নারী পুরুষ আটক বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দেশ দুর্নীতিতে ৫বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে: সৈয়দ রেজাউল করীম আগামীকাল শুক্রবার ঝালকাঠি আসছেন জামায়াত আমির, অর্ধলক্ষাধিক মানুষের জনসমাগমের প্রস্তুতি আশুলিয়ায় ৭ হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল রায়: ৬ মৃত্যুদণ্ড, ৮ সাজা তুরাগ নদে শিল্পবর্জ্যের আগ্রাসন: বিষাক্ত পানিতে দুর্বল মাছ, সহজ শিকারে জেলেদের হিড়িক মধুপুরে বিএনপির এমপি প্রার্থী স্বপন ফকিরের গণমিছিল নবীগঞ্জে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ চারজন আটক নারায়ণগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় গণজোয়ার। কেউ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে—মাও: আবুল কালাম আজাদ পাইকগাছা-কয়রায় জেলা ওলামা দলের ধানের শীষের জনসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ ফ্রান্স দূতাবাসের রাজনৈতিক কাউন্সিলরের সাথে মতবিনিময়কালে ডা. শাহাদাত হোসেন মধুপুরে গারোদের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি দিলেন ডা. কাফি বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারী’র ছালেহ্ আহমেদ এর শেষ বিদায়” নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান:- বেতার–টেলিভিশন ও সংস্কৃতির কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সন্দ্বীপে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ২ দুস্কৃতিকারী আটক রূপগঞ্জের চাইল্ড হ্যাভেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ॥ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রূপগঞ্জে ৯টি স্পটে বিএনপি প্রার্থীর পথসভা ও গণসংযোগ রূপগঞ্জে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দুই প্রার্থীর যৌথ বাহিনীর অভিযানে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই সদস্য সচিব আটক আমাকে ভোট দিলে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দেব, রামগঞ্জে ধানের শীষের প্রার্থী, সেলিম  কালীগঞ্জে র‍্যাবের চেকপোস্ট: মোটরসাইকেলের ট্যাংকিতে লুকানো ২০০ বোতল মাদকসহ কারবারি গ্রেপ্তার লালমনিরহাটের রাজনীতিতে বড় চমক: আসাদুল হাবিব দুলুর হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দিলেন জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মী পাইকগাছায় ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষে প্রশাসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন খাল খননের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা হবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম–৯ আসনে ধানের শীষের পক্ষে ডোর টু ডোর প্রচারণা চবিতে প্রাণনাশের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় সাংবাদিক, সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে রূপগঞ্জে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে: জামায়াত আমির

লালমনিরহাটকে ‘শান্তির নীড়’ ও আধুনিক জনপদ গড়ার ঘোষণা আসাদুল হাবিব দুলুর

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:46:53 pm, Sunday, 21 December 2025
  • 37 বার পড়া হয়েছে

চঞ্চল,

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশপ্রেম ও সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং সেনাবাহিনী পরিবারের এক গর্বিত সদস্য। লালমনিরহাটকে একটি বৈষম্যহীন, মাদকমুক্ত এবং উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দেশপ্রেমকে কাজে লাগাতে হবে।”

শনিবার রাতে লালমনিরহাটে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সংঘের আয়োজনে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্রের চিত্র এবং লালমনিরহাট নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন।

তারেক রহমানের আগমন ও আগামীর নেতৃত্বঃ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আসাদুল হাবিব দুলু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “আগামী ২৫শে ডিসেম্বর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমান আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন ইনশাআল্লাহ। তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নতুন স্লোগান নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতো ভাগ্যবান সন্তান বাংলাদেশে বিরল, যার বাবা রাষ্ট্রপতি এবং মা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আগামী দিনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দেবেন এবং দেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে।”

উপমন্ত্রী থাকাকালে যা করেছেন (উন্নয়নের খতিয়ান):

সাবেক এই উপমন্ত্রী তাঁর ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সফলতার কথা স্মরণ করে নিজের আমলের ছোট-বড় কাজের বিবরণ দেন। তিনি জানান, রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন মাত্র তিন মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে সরাসরি ‘লালমনিরহাট এক্সপ্রেস’ ইন্টারসিটি ট্রেন চালু করেন এবং স্টেশন আধুনিকায়ন করেন। পাশাপাশি কৃষি বিপ্লব ঘটাতে শ্যালো ইঞ্জিন ও পাওয়ার ট্রিলার আমদানির মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ ও উন্নত ধানের ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি করেছিলেন। নদী শাসনে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্পার বাঁধ’ নির্মাণ করা। এছাড়াও চিত্তবিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণ, অসংখ্য ছোট-বড় রাস্তা, ব্রিজ, স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও সেচ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। দুলু আক্ষেপ করে বলেন, “আমি একজন উপমন্ত্রী হয়েও জেলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যে উন্নয়ন করেছি, বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাটের তিনজন ক্ষমতাধর পূর্ণ মন্ত্রী মিলেও তার ধারের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।“

আলোকিত লালমনিরহাট’ ও সামাজিক অপরাধ নির্মূলে কঠোর ঘোষণা

অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের রূপরেখা পেশ করেন। তিনি মনে করেন, সমাজ ভেতর থেকে পচে গেলে শুধু দালানকোঠা দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই আন্দোলনের আওতায় তিনি নিম্নোক্ত সামাজিক অপরাধগুলো নির্মূলের শপথ নেন:

  • ১৩টি সামাজিক অপরাধ নির্মূল: যৌতুক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি এবং বর্তমানের অভিশাপ ক্যাসিনো ও মোবাইল জুয়াসহ ১৩টি সুনির্দিষ্ট ব্যাধির বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
  • মাদকবিরোধী লড়াই ও তিন ধাপের পরিকল্পনা: সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মাদক নির্মূলে তিনি তিন ধাপের (প্রথমে মসজিদ-মহল্লা ভিত্তিক কাউন্সেলিং, এরপর নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা এবং সর্বশেষ অবাধ্যদের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা) পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
  • মানবিক সমাজ গঠন: ব্যক্তি ও পরিবার শুদ্ধ করার মাধ্যমে একটি আদর্শ ও মানবিক লালমনিরহাট উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা:

  • মোগলহাট ল্যান্ড পোর্ট ও বিমানবন্দর সচল: পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় সচল করা এবং মোগলহাট স্থলবন্দর (Land Port) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
  • তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন: নদী শাসন ও স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের মাধ্যমে রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তন করা হবে।
  • শিল্পায়ন: জেলার শিক্ষিত যুবকদের নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ দিতে বড় মাপের কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে।

ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও ‘বেহেশতের টিকিট’ রাজনীতির সমালোচনাঃ

অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করেন যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, “কিছু দল সাধারণ মানুষকে ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার মতো অবাস্তব ও কুফরি কথা বলে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা দাবি করছে তাদের মার্কায় ভোট দিলেই জান্নাত নিশ্চিত। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, বেহেশত বা জান্নাতের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। তারা মানুষের ইমান নষ্ট করছে। ইসলামে খেলাফত ব্যবস্থায় ভোট বা গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।” তিনি জনগণকে এই ধরণের ধর্মীয় ভণ্ডামি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

নির্বাচনী ষড়যন্ত্র, ‘মব’ সৃষ্টি ও হাদি হত্যার প্রতিবাদঃ

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান ষড়যন্ত্র নিয়ে দুলু বলেন, “একটি নির্দিষ্ট মহল নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ‘পানি ঘোলা’ করে নির্বাচন বন্ধের পায়তারা করছে।“ তিনি সম্প্রতি ওসমান হাদি-কে গুলি করে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন , “হাদির মৃত্যুর পর সারা দেশে ‘মব’  সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে।“ তিনি অভিযোগ করেন, এই অপশক্তির উদ্দেশ্য হলো দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা যাতে নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যায়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের এই ধরণের ষড়যন্ত্র ও ভণ্ডামি সাধারণ মানুষের কাছে উন্মোচন করার আহ্বান জানান।

বিগত ১৭ বছরের স্থবিরতা ও তিন মন্ত্রীর ব্যর্থতাঃ

অধ্যক্ষ দুলু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন যে, “বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাট জেলা থেকে তিনজন মন্ত্রী থাকলেও তারা জেলার কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারেননি।“ তিনি তাদের ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “তাদের নামের সাথে ‘মন্ত্রী’ টাইটেল থাকলেও লালমনিরহাটের মৌলিক উন্নয়নে তাদের কোনো অবদান নেই। বিশেষ করে জিএম কাদের বিমান মন্ত্রী থাকার পরেও পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি সচল করার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, যা জেলার মানুষের জন্য চরম হতাশাজনক।“

স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতিঃ

বক্তব্যে তিনি একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য কোনোদিন সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ বা টেন্ডারবাজি করবে না।“

পরবর্তীতে তিনি নরসুন্দর সমিতি আয়োজিত পৃথক একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে লালমনিরহাটকে একটি প্রকৃত ‘শান্তির নীড়’ হিসেবে গড়ে তুলবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে দোহাজারীতে অবৈধ রোহিঙ্গা কলোনীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩৪৫ জন নারী পুরুষ আটক

লালমনিরহাটকে ‘শান্তির নীড়’ ও আধুনিক জনপদ গড়ার ঘোষণা আসাদুল হাবিব দুলুর

আপডেট সময় : 12:46:53 pm, Sunday, 21 December 2025

চঞ্চল,

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশপ্রেম ও সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং সেনাবাহিনী পরিবারের এক গর্বিত সদস্য। লালমনিরহাটকে একটি বৈষম্যহীন, মাদকমুক্ত এবং উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দেশপ্রেমকে কাজে লাগাতে হবে।”

শনিবার রাতে লালমনিরহাটে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সংঘের আয়োজনে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্রের চিত্র এবং লালমনিরহাট নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন।

তারেক রহমানের আগমন ও আগামীর নেতৃত্বঃ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আসাদুল হাবিব দুলু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “আগামী ২৫শে ডিসেম্বর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমান আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন ইনশাআল্লাহ। তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নতুন স্লোগান নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতো ভাগ্যবান সন্তান বাংলাদেশে বিরল, যার বাবা রাষ্ট্রপতি এবং মা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আগামী দিনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দেবেন এবং দেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে।”

উপমন্ত্রী থাকাকালে যা করেছেন (উন্নয়নের খতিয়ান):

সাবেক এই উপমন্ত্রী তাঁর ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সফলতার কথা স্মরণ করে নিজের আমলের ছোট-বড় কাজের বিবরণ দেন। তিনি জানান, রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন মাত্র তিন মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে সরাসরি ‘লালমনিরহাট এক্সপ্রেস’ ইন্টারসিটি ট্রেন চালু করেন এবং স্টেশন আধুনিকায়ন করেন। পাশাপাশি কৃষি বিপ্লব ঘটাতে শ্যালো ইঞ্জিন ও পাওয়ার ট্রিলার আমদানির মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ ও উন্নত ধানের ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি করেছিলেন। নদী শাসনে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্পার বাঁধ’ নির্মাণ করা। এছাড়াও চিত্তবিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণ, অসংখ্য ছোট-বড় রাস্তা, ব্রিজ, স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও সেচ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। দুলু আক্ষেপ করে বলেন, “আমি একজন উপমন্ত্রী হয়েও জেলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যে উন্নয়ন করেছি, বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাটের তিনজন ক্ষমতাধর পূর্ণ মন্ত্রী মিলেও তার ধারের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।“

আলোকিত লালমনিরহাট’ ও সামাজিক অপরাধ নির্মূলে কঠোর ঘোষণা

অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের রূপরেখা পেশ করেন। তিনি মনে করেন, সমাজ ভেতর থেকে পচে গেলে শুধু দালানকোঠা দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই আন্দোলনের আওতায় তিনি নিম্নোক্ত সামাজিক অপরাধগুলো নির্মূলের শপথ নেন:

  • ১৩টি সামাজিক অপরাধ নির্মূল: যৌতুক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি এবং বর্তমানের অভিশাপ ক্যাসিনো ও মোবাইল জুয়াসহ ১৩টি সুনির্দিষ্ট ব্যাধির বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
  • মাদকবিরোধী লড়াই ও তিন ধাপের পরিকল্পনা: সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মাদক নির্মূলে তিনি তিন ধাপের (প্রথমে মসজিদ-মহল্লা ভিত্তিক কাউন্সেলিং, এরপর নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা এবং সর্বশেষ অবাধ্যদের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা) পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
  • মানবিক সমাজ গঠন: ব্যক্তি ও পরিবার শুদ্ধ করার মাধ্যমে একটি আদর্শ ও মানবিক লালমনিরহাট উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা:

  • মোগলহাট ল্যান্ড পোর্ট ও বিমানবন্দর সচল: পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় সচল করা এবং মোগলহাট স্থলবন্দর (Land Port) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
  • তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন: নদী শাসন ও স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের মাধ্যমে রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তন করা হবে।
  • শিল্পায়ন: জেলার শিক্ষিত যুবকদের নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ দিতে বড় মাপের কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে।

ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও ‘বেহেশতের টিকিট’ রাজনীতির সমালোচনাঃ

অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করেন যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, “কিছু দল সাধারণ মানুষকে ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার মতো অবাস্তব ও কুফরি কথা বলে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা দাবি করছে তাদের মার্কায় ভোট দিলেই জান্নাত নিশ্চিত। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, বেহেশত বা জান্নাতের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। তারা মানুষের ইমান নষ্ট করছে। ইসলামে খেলাফত ব্যবস্থায় ভোট বা গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।” তিনি জনগণকে এই ধরণের ধর্মীয় ভণ্ডামি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

নির্বাচনী ষড়যন্ত্র, ‘মব’ সৃষ্টি ও হাদি হত্যার প্রতিবাদঃ

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান ষড়যন্ত্র নিয়ে দুলু বলেন, “একটি নির্দিষ্ট মহল নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ‘পানি ঘোলা’ করে নির্বাচন বন্ধের পায়তারা করছে।“ তিনি সম্প্রতি ওসমান হাদি-কে গুলি করে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন , “হাদির মৃত্যুর পর সারা দেশে ‘মব’  সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে।“ তিনি অভিযোগ করেন, এই অপশক্তির উদ্দেশ্য হলো দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা যাতে নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যায়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের এই ধরণের ষড়যন্ত্র ও ভণ্ডামি সাধারণ মানুষের কাছে উন্মোচন করার আহ্বান জানান।

বিগত ১৭ বছরের স্থবিরতা ও তিন মন্ত্রীর ব্যর্থতাঃ

অধ্যক্ষ দুলু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন যে, “বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাট জেলা থেকে তিনজন মন্ত্রী থাকলেও তারা জেলার কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারেননি।“ তিনি তাদের ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “তাদের নামের সাথে ‘মন্ত্রী’ টাইটেল থাকলেও লালমনিরহাটের মৌলিক উন্নয়নে তাদের কোনো অবদান নেই। বিশেষ করে জিএম কাদের বিমান মন্ত্রী থাকার পরেও পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি সচল করার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, যা জেলার মানুষের জন্য চরম হতাশাজনক।“

স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতিঃ

বক্তব্যে তিনি একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য কোনোদিন সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ বা টেন্ডারবাজি করবে না।“

পরবর্তীতে তিনি নরসুন্দর সমিতি আয়োজিত পৃথক একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে লালমনিরহাটকে একটি প্রকৃত ‘শান্তির নীড়’ হিসেবে গড়ে তুলবেন।