
চঞ্চল,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশপ্রেম ও সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং সেনাবাহিনী পরিবারের এক গর্বিত সদস্য। লালমনিরহাটকে একটি বৈষম্যহীন, মাদকমুক্ত এবং উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দেশপ্রেমকে কাজে লাগাতে হবে।”
শনিবার রাতে লালমনিরহাটে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সংঘের আয়োজনে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্রের চিত্র এবং লালমনিরহাট নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন।
তারেক রহমানের আগমন ও আগামীর নেতৃত্বঃ
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আসাদুল হাবিব দুলু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “আগামী ২৫শে ডিসেম্বর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমান আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন ইনশাআল্লাহ। তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নতুন স্লোগান নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতো ভাগ্যবান সন্তান বাংলাদেশে বিরল, যার বাবা রাষ্ট্রপতি এবং মা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আগামী দিনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দেবেন এবং দেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে।”
উপমন্ত্রী থাকাকালে যা করেছেন (উন্নয়নের খতিয়ান):
সাবেক এই উপমন্ত্রী তাঁর ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সফলতার কথা স্মরণ করে নিজের আমলের ছোট-বড় কাজের বিবরণ দেন। তিনি জানান, রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন মাত্র তিন মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে সরাসরি ‘লালমনিরহাট এক্সপ্রেস’ ইন্টারসিটি ট্রেন চালু করেন এবং স্টেশন আধুনিকায়ন করেন। পাশাপাশি কৃষি বিপ্লব ঘটাতে শ্যালো ইঞ্জিন ও পাওয়ার ট্রিলার আমদানির মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ ও উন্নত ধানের ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি করেছিলেন। নদী শাসনে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্পার বাঁধ’ নির্মাণ করা। এছাড়াও চিত্তবিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণ, অসংখ্য ছোট-বড় রাস্তা, ব্রিজ, স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও সেচ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। দুলু আক্ষেপ করে বলেন, “আমি একজন উপমন্ত্রী হয়েও জেলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যে উন্নয়ন করেছি, বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাটের তিনজন ক্ষমতাধর পূর্ণ মন্ত্রী মিলেও তার ধারের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।“
‘আলোকিত লালমনিরহাট’ ও সামাজিক অপরাধ নির্মূলে কঠোর ঘোষণাঃ
অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের রূপরেখা পেশ করেন। তিনি মনে করেন, সমাজ ভেতর থেকে পচে গেলে শুধু দালানকোঠা দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই আন্দোলনের আওতায় তিনি নিম্নোক্ত সামাজিক অপরাধগুলো নির্মূলের শপথ নেন:
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা:
ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও ‘বেহেশতের টিকিট’ রাজনীতির সমালোচনাঃ
অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করেন যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, “কিছু দল সাধারণ মানুষকে ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার মতো অবাস্তব ও কুফরি কথা বলে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা দাবি করছে তাদের মার্কায় ভোট দিলেই জান্নাত নিশ্চিত। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, বেহেশত বা জান্নাতের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। তারা মানুষের ইমান নষ্ট করছে। ইসলামে খেলাফত ব্যবস্থায় ভোট বা গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।” তিনি জনগণকে এই ধরণের ধর্মীয় ভণ্ডামি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী ষড়যন্ত্র, ‘মব’ সৃষ্টি ও হাদি হত্যার প্রতিবাদঃ
আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান ষড়যন্ত্র নিয়ে দুলু বলেন, “একটি নির্দিষ্ট মহল নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে 'পানি ঘোলা' করে নির্বাচন বন্ধের পায়তারা করছে।“ তিনি সম্প্রতি ওসমান হাদি-কে গুলি করে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন , “হাদির মৃত্যুর পর সারা দেশে ‘মব’ সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে।“ তিনি অভিযোগ করেন, এই অপশক্তির উদ্দেশ্য হলো দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা যাতে নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যায়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের এই ধরণের ষড়যন্ত্র ও ভণ্ডামি সাধারণ মানুষের কাছে উন্মোচন করার আহ্বান জানান।
বিগত ১৭ বছরের স্থবিরতা ও তিন মন্ত্রীর ব্যর্থতাঃ
অধ্যক্ষ দুলু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন যে, “বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাট জেলা থেকে তিনজন মন্ত্রী থাকলেও তারা জেলার কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারেননি।“ তিনি তাদের 'বসন্তের কোকিল' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “তাদের নামের সাথে 'মন্ত্রী' টাইটেল থাকলেও লালমনিরহাটের মৌলিক উন্নয়নে তাদের কোনো অবদান নেই। বিশেষ করে জিএম কাদের বিমান মন্ত্রী থাকার পরেও পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি সচল করার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, যা জেলার মানুষের জন্য চরম হতাশাজনক।“
স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতিঃ
বক্তব্যে তিনি একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য কোনোদিন সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ বা টেন্ডারবাজি করবে না।“
পরবর্তীতে তিনি নরসুন্দর সমিতি আয়োজিত পৃথক একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে লালমনিরহাটকে একটি প্রকৃত ‘শান্তির নীড়’ হিসেবে গড়ে তুলবেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮