
নোয়াখালী প্রতিনিধি :
দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটাতে অবশেষে পরিমাপ হলো সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমি। রোববার সকালে সুবর্ণচর উপজেলা এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে এ পরিমাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
পরিমাপ কাজে সাবেক দিয়ারা খতিয়ান অনুযায়ী দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে দলিল মূলে হাসপাতালকে দান করা ৬ একর ভূমির একটি বড় অংশ এখনো দাতাদের দখলে রয়েছে। দাতাদের উত্তরাধিকারীরা দখলকৃত ওই ভূমিতে দোকানপাট ও স্থায়ী বসতভিটা নির্মাণ করে ভোগ দখল করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালের জায়গা দাতাদের দখলে থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং প্রভাবশালীদের সাথে যোগসাজশের কারণে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং হাসপাতাল নিজেদের মূল জমি হারিয়ে অন্যের মালিকানা ভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে।
মো. ইব্রাহিম খলিল নামে এক ভুক্তভোগী জানান, “১৯৭৪ সালে তিনজন দাতা তিনটি দলিল মূলে মোট ৬ একর জমি হাসপাতালকে দান করেন। সেই সময়ের দিয়ারা খতিয়ান ও দলিল অনুযায়ী সরকারি জমি খুঁজে দেখলে এখনো সরকারের ৬ একর জমি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সরকারি লোকজন সেটা না করে ২০১২ সালে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে অবৈধভাবে আমাদের জমি দখল করেছে। কারণ আমরা তখনকার রাজনৈতিক সরকারের বিরোধী দলের সমর্থক ছিলাম। অথচ দাতারা আওয়ামী লীগ করতো, মুক্তিযোদ্ধা ছিল। ফলে দাতাদের দখলে থাকা সরকারি জায়গা উদ্ধার না করে আমাদের বৈধ জমিই দখল করে নিয়েছে হাসপাতাল। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচার চাই।”
উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী বাবলু বলেন, সরকারি হাসপাতালের জমি দখল ইস্যুতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। দাতাদের দখলে থাকা সরকারি জায়গা উদ্ধার না করে অন্যের মালিকানার জমি দখল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত তদন্ত করে এ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীজানুর রহমান জানান, জমিজমা বিষয় সংক্রান্ত আমার জানাশোনা নেই, হাসপাতালের জমিদাতাদের সাথে মামলা মোকাদ্দমা চলে আসছিল। বিষয়টি সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে আজকে পরিমাপ করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরিমাপের কাগজ হাতে এলে পরবর্তী বিষয় বলা যাবে।

























